0 451

নীলফামারী সৈয়দপুর ১০০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালটি বর্তমানে চোরের স্বর্গরাজ্যে।
মোঃ মাসুদুর রহমান সৈয়দপুর
(নীলফামারী) প্রতিনিধি:
নীলফামারী সৈয়দপুর ১০০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালটি বর্তমানে চোরের স্বর্গরাজ্যে পরিণত হয়েছে। প্রায় প্রতিদিনই এ হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা রোগী ও তাদের স্বজনদের নগদ টাকা, দামি মোবাইল ও বিভিন্ন মূল্যবান জিনিসপত্র চুরি যাচ্ছে। সম্প্রতি এসব চুরি বন্ধে হাসপাতালে ২৪টি সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করেছে কর্তৃপক্ষ। কিন্তু তারপরও ঠেকানো যাচ্ছে না চুরি।
গত এক সপ্তাহে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রোগী ও স্বজনদের প্রায় ২০টি মোবাইল ও নগদ অর্ধলক্ষাধিক টাকা চুরি গেছে। এতে করে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ও রোগীরা অনেকটাই অসহায় হয়ে পড়েছেন।
জানা গেছে, সৈয়দপুর শহরের পশ্চিমে কুন্দল এলাকায় ১৯৬২ সালে ৫০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালটি স্থাপিত হয়। ২০১১ সালে ৫০ শয্যা থেকে হাসপাতালটি ১০০ শয্যায় উন্নীত করা হয়। মূলত ভৌগোলিক অবস্থার কারণে ওই হাসপাতালটিতে সৈয়দপুর উপজেলার মানুষ ছাড়াও আশপাশের বেশ কয়েকটি উপজেলার মানুষ চিকিৎসা নিতে আসেন। এসবের মধ্যে দিনাজপুরের পার্বতীপুর, চিরিরবন্দর ও খানসামা, রংপুরের বদরগঞ্জ ও তারাগঞ্জ এবং নীলফামারীর সদর ও কিশোরগঞ্জ উপজেলা এলাকার একাংশের মানুষজন চিকিৎসা নিয়ে থাকেন।
হাসপাতালের সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ পর্যবেক্ষণ করে দেখা যায়, হাসপাতালে চুরির ঘটনাগুলো ঘটে মূলত ভোর ৩টা থেকে ৫টার মধ্যে। হাসপাতালে বিভিন্ন ওয়ার্ডে ভর্তি থাকা রোগী ও স্বজনরা যখন গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন থাকেন, ঠিক সেই সময় চোরেরা হাসপাতালে ঢুকে পড়েন। এরপর রোগী ও তাদের স্বজনদের মোবাইল ফোন, নগদ টাকা ও মূল্যবান জিনিসপত্র নিয়ে সটকে পড়েন। বাদ যায়নি হাসপাতালে বৈদ্যুতিক সংযোগের সার্ভিস তার, হাসপাতাল মসজিদের পানির মোটর, মোটরসাইকেল, বাইসাইকেল, রিকশা ও ভ্যানও।
সৈয়দপুর হাসপাতালের আবাসিক মেডিক্যাল অফিসার (আরএমও) ডা. নাজমুল হুদা জানান, রাতের বেলা হাসপাতালের ওয়ার্ডগুলো থেকে রোগী ও স্বজনদের দামি মোবাইল ও নগদ টাকা-পয়সা চুরির ঘটনার অভিযোগ মিলছে অহরহ। বিষয়টি সৈয়দপুর থানা পুলিশকে মৌখিকভাবে জানানো হয়েছে। চুরি প্রতিরোধে স্থাপন করা হয়েছে সিসিটিভি ক্যামেরা।
এ বিষয়ে সৈয়দপুর থানার ওসি মো. সাইফুল ইসলাম জানান, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ মৌখিকভাবে বিষয়টি অবগত করছেন। সে লক্ষ্যে সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ দেখে চোর শনাক্তের চেষ্টা চলছে।