সবার কথা বলে

স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স বেড়েছে চিকিৎসা সেবার মান

0 340

মাগুরার শ্রীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স বেড়েছে চিকিৎসা সেবার মান।

মোঃ রাব্বি হোসেন
মাগুরা জেলা প্রতিনিধিঃ
মাগুরা জেলার শ্রীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে বেড়েছে চিকিৎসা সেবার মান। এতে সুফল পাচ্ছে হতদরিদ্র জনগণ। স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসা সেবা নিয়ে অতীতে সাধারণ মানুষের মধ্যে নানা প্রশ্ন থাকলেও সেই অবস্থার এখন অনেকটা পরিবর্তন হয়েছে। হাসপাতালটি উপজেলার দারিয়াপুর ইউনিয়নে অবস্থিত।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মোঃ আশরাফুজ্জামান লিটন ২১ মে ২০২২ ইং তারিখে এখানে যোগদান পর হাসপাতালে স্বাস্থ্যসেবা নিতে এসে সবাই যাতে ভালো পরিবেশ পান, সেই ব্যাপারে তিনি আন্তরিকভাবে চেষ্টা করে থাকেন। যোগদানের পর প্রথমেই তিনি নজর দেন হাসপাতালের ভিতর-বাহিরে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতাসহ ডাক্তার, নার্স ও হাসপাতালের কর্মকর্তা-কর্মচারী যাতে সুশৃঙ্খল পরিবেশে নিজ নিজ কর্ম সঠিকভাবে পালন করেন এসেই এ ব্যাপারে সচেষ্ট হন।
চিকিৎসা সেবার মান ভালো করার লক্ষ্যে হাসপাতালে রোগীর সেবায় নিয়োজিতরা ও অন্যান্য কর্মকর্তা-কর্মচারী তাদের কাজকর্মে ফাঁকি না দিতে পারেন তার জন্য তিনি নিবিড় মনিটারিং করেন এবং নানা প্রতিবন্ধকতা ও প্রতিকূলতার মধ্যেও অল্প সময়ের মধ্যে এখানে স্বাস্থ্যসেবার মান উন্নয়নে তিনি ডাক্তার, নার্স ও অন্যান্য কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে অমূল পরিবর্তন এনেছেন। তিনি এখানে জরুরি বিভাগে চালু করেছেন প্যাথলজি, ইলেকট্রনিক এনালাইজার মেশিন, ইলেক্ট্রোলাইট পরীক্ষা ও হাসপাতালের আউটডোরে রোগীদের বিনামূল্যে ঔষধ প্রদান করা হচ্ছে। চালু করেছেন অপারেশন থিয়েটার, এখানে নিয়মিত সিজারিয়ান অপারেশন সহ ছোটখাটো অপারেশন হয়ে থাকে। অন্তঃবিভাগে রোগী ভর্তির সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে। ওয়েব পোর্টালে সেবার তথ্য, সিটিজেন চারটার, কর্মকর্তা এবং কর্মচারীদের হালনাগাদ করা হয়েছে। চিকিৎসা সেবার মান বাড়াতে জনবল বাড়ানোর দাবি জানিয়ে সচেতনরা।
জানাগেছে, ৩১ শয্যার জনবলে চলছে ৫০ শয্যার কার্যক্রম। হাসপাতালটিতে ১টি এ্যাম্বুলেন্স রয়েছে যার নেই কোনো ড্রাইভার। স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তার ব্যাক্তিগত ড্রাইভার দিয়ে চালনা করা হচ্ছে এ্যাম্বুলেন্সটি। এছাড়াও তৃতীয় শ্রেণীর জনবল ঘাটতি রয়েছে এবং ৩০ জন নার্সের জায়গায় রয়েছেন ২৫ জন। হাসপাতালটির বিভিন্ন বিভাগে লোকবল কম থাকার পরেও স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা  ডা. মোঃ আশরাফুজ্জামান লিটন তার ঐকান্তিক প্রচেষ্ঠা চালিয়ে যাচ্ছেন। তবে শুন্যপদ গুলি পুরণ থাকলে হাসপাতালটির চিকিৎসা সেবা আরও উন্নত হবে। পর্যাপ্ত তৃতীয় শ্রেণীর কর্মচারী ও নার্স না থাকায় চিকিৎসা কার্যক্রম কিছুটা ব্যহৃত হচ্ছে।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মোঃ আশরাফুজ্জামান লিটন বলেন, এ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে যোগদান করার পর থেকে হাসপাতালের চিকিৎসা সেবার মান উন্নত করার চেষ্ঠা করছেন। মাগুরা জেলার মধ্যে অন্যান্য স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের তুলনায় শ্রীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স অনেকটা উন্নত। স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে শোভা বর্ধনের জন্য ফুলের বাগান, সীমানা প্রাচীর, সম্মেলন কক্ষ আধুনিকায়ন, আন্তঃবিভাগ দৃষ্টি নন্দন, অভ্যর্থনা ডেস্ক, স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তার কার্যালয় উন্নয়ন, কমপ্লেক্স ফটক নির্মাণ করেছেন। এছাড়াও সেন্ট্রাল অক্সিজেন সাপ্লাই, এসির ব্যববস্থা, বৃহৎ হাসপাতাল মসজিদ, গ্যারেজ নির্মাণ ইত্যাদি উন্নয়ন করেছেন এবং করে যাচ্ছেন। হাসপাতালটিতে ৪টি কেবিন রয়েছে যার মধ্যে একটি মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য রিজার্ভ। তিনি বলেন, চিকিৎসক এর দায়িত্ব সুচিকিৎসা দেওয়া। হাসপাতালে আগত রোগীরা সঠিকভাবে চিকিৎসা পেলে স্বাস্থ্য সেবার মান উন্নত হয়েছে বলে আমরা মনে করবো। তাই তাদেরকে নিয়মিত পরামর্শ ও সহযোগিতা করে যাচ্ছি। সব উন্নয়নের সুফল রোগীরা পেতে শুরু করেছেন।
উপজেলার সাতটি ইউনিয়নে উপ-স্বাস্থ্য কেন্দ্রে রয়েছে। যেখানে মেডিকেল অফিসাররা  বিনামূল্যে নিয়মিত রোগী দেখছেন দেওয়া হচ্ছে ফ্রী ঔষধ। আগের থেকে স্বাস্থ্য সেবা অনেক উন্নতি হয়েছে, আরও উন্নত হবে।  তিনি আরো বলেন, কোভিড-১৯ এর টিকার জন্য এ পর্যন্ত উপজেলায় প্রায় ১ লক্ষ ৪২ হাজার ১৫১ জন মানুষ নিবন্ধন করেছেন।
এদের মধ্যে প্রায় ১ লক্ষ ২৪ হাজার ৭৯৫ জন ১ম ডোজ ও প্রায় ৯৬ হাজার ৪২৩ জন ২য় ডোজ এবং ১৯ হাজার ৫৩৫ জন বুস্টার ডোজ টিকা গ্রহণ করেছেন।  একজন রোগীর সাথে কথা বলে জানা যায়, এখানকার পরিবেশ অনেক ভালো। হাসপাতালের ডাক্তার এবং নার্সরা খুবই আন্তরিক। চিকিৎসা সেবার মানও অনেক ভালো।
শ্রীপুর সদর ইউনিয়নের ৯ নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মোঃ নাসিরুল ইসলাম ওরফে নাজির মেম্বার বলেন, আমি একজন রোগী নিয়ে এসেছি তাৎক্ষণিক ডাক্তার রোগীর চিকিৎসা সেবা শুরু করেন। এখানকার পরিবেশ অনেক ভালো, যা আমার খুবই পছন্দ হয়েছে।
এ বিষয়ে দারিয়াপুর ইউপি চেয়ারম্যান মোঃ আব্দুস সবুর মোল্লা বলেন, আগের তুলনায় হাসপাতালে চিকিৎসার মান অনেক উন্নতি হয়েছে। রোগীদেরকে অনেক যত্ন সহকারে চিকিৎসা প্রদান করা হয়। এখন রোগীর সংখ্যা আগের তুলনায় বেশি হয়। স্বাস্থ্যসেবার মান উন্নতি হওয়ায় এখন আর রোগীদের ভোগান্তিতে পড়তে হয় না।

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রচার করা হবে না.