0 387

সৈয়দপুর শহরের রাস্তার মোড়ে মোড়ে বখাটেদের আড্ডা – আতঙ্ক কিশোর গ্যাং।
নীলফামারী প্রতিনিধিঃ
নীলফামারীর সৈয়দপুরে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এর সামনে ও শহরের রাস্তার মোড়ে মোড়ে বখাটে ও কিশোর গ্যাং সদস্যদের উৎপাত বেড়েছে। তাদের হাতে প্রতিনিয়ত উত্ত্যক্তের শিকার হচ্ছে কোমলমতি ছাত্র ও ছাত্রীসহ বিভিন্ন বয়সের নারী। সৈয়দপুরে কয়েকটি সুনাম ধন্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সামনে ছুটি ও স্কুল শুরুর সময় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সামনে আড্ডা দিয়ে থাকেন তারা। এছাড়াও স্কুল ছুটির পরে শিক্ষাথীদের সাথে মারামারিসহ বিভিন্ন খারাপ আচরণ করেন বলে অভিযোগ করেছেন বেশ কিছু শিক্ষার্থী।
একাধিকবার সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে দেখা গেছে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ছুটির সময় চোখে সানগ্লাস, হাতে মোবাইল এবং মোটরসাইকেলে এসে নানা ভাবে সমস্যার সৃষ্টি করে মেয়েদের।আবার কোনো কোনো সময় স্কুলে সামনে একে অপরে ও ছাত্রদের সাথে মারামারি করছে তারা । এদের বেশির ভাগই মাদকাসক্ত। তারা স্কুল-কলেজের ছাত্রীদের প্রেমের প্রস্তাব দেওয়াসহ নানাভাবে উত্ত্যক্ত করে ও আপত্তিকর মন্তব্য করে তারা।আবার অনেকেই বেপরোয়া গতিতে মোটরসাইকেল চালিয়ে মেয়েদের দৃষ্টি আকর্ষণ করার চেষ্টা করে।
স্থানীয় লোকজনের অভিযোগ ও সরেজমিনে ঘুরে দেখা গেছে, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সামনে রাস্তায় ছুটির সময় সব সময় আড্ডা দেয় তারা। স্কুল ছুটির পরে অনেক মেয়েরাই বিভিন্ন জায়গায় প্রাইভেট পড়তে যায় সেখানেও দেখা গেছে তারা দলবদ্ধভাবে রাস্তার মোড়ে দাঁড়িয়ে মেয়েদের উস্কানিমূলক কথাবার্তা বলে। স্থানীয়রা বলেন তারা প্রতিদিন স্কুল ছুটির পর স্কুলের ছাত্রদের সাথে মারামারি করে । স্কুল কলেজ ছুটি সময় এদের উৎপাত থাকে বেশি । এ অবস্থায় ছাত্রীরা অসহায়,ও উদ্বিগ্নভাবে থাকে। এ কারণেই দুশ্চিন্তায় থাকে অভিভাবকরা।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একটি বিদ্যালয়ের শিক্ষক বলেন, বখাটে কিশোরেরা বিদ্যালয়ের ফটকের সড়কে দাঁড়িয়ে থেকে ছাত্রীদের উত্ত্যক্ত করে ও স্কুলের ভালো কোমলমতি ছাত্রদের সাথে মারামারি করে ছোটখাটো ব্যাপার নিয়ে।কেউ কেউ মুঠোফোনে ছাত্রীদের ছবি ও ভিডিও ধারণ করে থাকে। কেউ প্রতিবাদ করলে তাঁদের সাথে খারাপ ব্যবহার করছে।
দৈনিক পত্রিকার সাংবাদিককে একজন অভিভাবক বলেন, তাঁর দশম শ্রেণি পড়ুয়া মেয়ে স্কুল থেকে ফেরার সময় বখাটেরা উত্ত্যক্ত করে।শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর আশেপাশে দলবব্ধ ভাবে অবস্থান নিচ্ছে বখাটেরা।ক্লাশ শুরু এবং ছুটির পূর্বে বিদ্যালয়গুলোর আশেপাশে অবস্থান নেয় এরা।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক নবম শ্রেণির এক ছাত্রী বলেন বাবা-মা এবং স্বজনদের সামনেই আপত্তিকর মন্তব্য করছে বখাটেরা এবং আমাদের পেছনে পেছনে বাসা পর্যন্ত চলে আসে তারা ।
কয়েকজন ছাত্রী অভিযোগ করে বলেন, তাদের ক্যাম্পাসে প্রবেশ এবং বাহির হওয়ার প্রধান রাস্তায় স্কুল কলেজ ছুটি এবং শুরুর সময় বহিরাগত ছেলেরা এসে আড্ডা দেয়। মেয়েদের দেখে নানা অশালিন মন্তব্য করে।
অপরদিকে ‘হিরোইজম’ প্রকাশে পাড়া-মহল্লায় গড়ে উঠছে কিশোর গ্যাং সৈয়দপুরে শহরের আতঙ্কের নাম হয়ে দাঁড়িয়েছে কিশোর গ্যাং। সৈয়দপুর কিশোর গ্যাংয়ের অপতৎপরতায় আতঙ্কিত সাধারণ মানুষ ও শিক্ষাথীরা। এক শ্রেণির বড় ভাইয়ের ছাএছায়ায় গড়ে ওঠা কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যরা চাঁদাবাজি ও ছিনতাই মাদক দ্রব্য সেবন ও প্রকাশ্যে মারামারিতে জড়িয়ে পড়ছে ।
আরো নানান ধরনের অপরাধে জড়িয়ে আরও বেপরোয়া হয়ে উঠছে কিশোর গ্যাং। একে অপরের ক্ষমতা দেখাতে কয়েকজন মিলে পাড়া-মহল্লায় বিভিন্ন গ্যাং গ্রুপ গড়ে তুলছে। আধিপত্য বিস্তার, সিনিয়র-জুনিয়র দ্বন্দ্ব, মাদক ও প্রেম নিয়ে বিরোধের জেরে তারা অহরহ সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ছে। অর্থের বিনিময়ে অর্থদাতার প্রতিপক্ষের ওপরও আক্রমণ চালাচ্ছে উঠতি বয়সী ছেলেরা। লেখাপড়ার নামে তারা নানা ধরনের অসামাজিক কাজে জড়িয়ে পড়ছে।
গোপন সূত্রে ও সরজমিনে ঘুরে দেখা গেছে সৈয়দপুরের এস আর প্লাজা দ্বিতীয় তলা ও নিজ তলায় চা পান সিগারেটের দোকানের সামনে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের উঠতি বয়সের কিশোর তরুণ আড্ডা দেয় ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের নির্ধারিত ড্রেস পরিধান করে সিগারেট সহ বিভিন্ন ধরনের মাদক দ্রব্য সেবন করছে । যখন তখন মারামারি করছে যে কোনো ছোট বিষয়ে দলবব্ধ ভাবে গুরুতর ভাবে ঝগড়াঝাঁটি করে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্থানীয় একজন বলেন এখানে প্রতিনিয়ত কিশোর তরুণ ছেলেরা আড্ডা দেয় মারামারি করে কেউ কেউ আবার স্কুলের ড্রেস পরে একাধিক ছাএ নিয়ে এসে এখানে নেশা জাতীয় দ্রব্য ব্যবহার করছে।
এ বিষয়ে সেতু বন্ধন যুব উন্নয়ন সংস্থার সহপতি আলমগীর হোসেন বলেন স্কুল–কলেজে যাওয়ার নাম দিয়ে সন্তানেরা কোথায় যাচ্ছে—কী করছে তাঁর খোঁজ অভিভাবকদের রাখতে হবে। না হলে আদরের সন্তানেরাও অজান্তে বখাটে হয়ে যেতে পারে । কিশোর-তরুণরা দেশের ভবিষ্যৎ। তাদের বিপথগামী হওয়ার আগেই সামাজিক আন্দোলন জরুরি।অনেক কিশোরদের অভিভাবকরাও রয়েছেন বেখেয়াল। সন্তান কোথায় সময় কাটায়, কী করে—তার কোনো খোঁজ তারা নেন না। সমাজের মুরব্বি শ্রেণিও তাদের ব্যাপারে উদাসীন। এছাড়া মোবাইল ফোন তথা প্রযুক্তির অপব্যবহারের মাধ্যমে তাদের অনেকে নানা অপকর্মে জড়িয়ে পড়ছে।
বিষয়টি প্রতিদিনের রুটিন তালিকার মতো হলেও পুলিশ প্রশাসনের নজরে না আসায় বেপরোয়া হয়ে উঠেছে এসব বখাটে।তাই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে প্রশাসনের নজরদারী এবং বখাটে পাকড়াও অভিযান শুরুর দাবীও তুলেছেন শিক্ষার্থী এবং তাদের অভিভাবকরা।
এ বিষয়ে কথা হয় সৈয়দপুর থানার অফিসার ইনচার্জ সাইফুল ইসলাম বলেন , এবিষয়ে এখনো কোন অভিযোগ পাওয়া যায়নি, অভিযোগ পেলে ব্যবস্হা নিবো, তবে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সামনে অযথা ঘোরাফেরা করলে অবশ্যই আইগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে ।