
পবিত্র রমজান মাসে দ্রব্যসামগ্রীর লাগামহীন মূল্য বৃদ্ধি, সাধারণ মানুষের কষ্ট।
পবিত্র রমজান মাস এলেই আমাদের দেশে কোনো সুনির্দিষ্ট কারণ ছাড়াই হঠাৎ করে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য বা ভোগ্যসামগ্রীর দাম বেড়ে যায়! বিষয়টি খুবই আশ্চর্যজনক!
পবিত্র রমজান মাস আসলেই এক শ্রেণীর অসাধু ব্যবসায়ী অধিক মুনাফা লাভের জন্য বিনা কারণে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বাড়িয়ে দেয়! ফলে সাধারণ মানুষ পড়ে বিপাকে। অন্যান্য দেশে পবিত্র রমজান মাসে বাজারে এমন চিত্র দেখা যায়না। দুর্ভাগ্যজনকভাবে শুধুমাত্র আমাদের দেশেই পবিত্র রমজান মাসে বাজারে এমন অদ্ভুত চিত্র দেখা যায়! পবিত্র রমজান মাসে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যসামগ্রীর দাম সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে যায়! পবিত্র রমজান মাসে তেল, চিনি, ছোলা, বেগুন, পেঁয়াজ, কাঁচামরিচসহ অন্যান্য নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম হয় আকাশছোঁয়া। ফলে তা সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার বাইরে চলে যায়! এর ফলে গরিব, নিম্নমধ্যবিত্ত, এবং মধ্যবিত্ত মানুষরা বেশি অসুবিধা বা কষ্টের সম্মুখীন হয়। তাছাড়া পবিত্র রমজান মাসে বাজারে পঁচা খেজুর, ফর্মালিনযুক্ত ফলমূল ও ভেজাল খাবারের বিক্রি বেড়ে যায়! এছাড়া পবিত্র রমজান মাসে পোশাক বা কাপড়ের দামও অস্বাভাবিক হারে বেড়ে যায়! ফলে তা সাধারণ মানুষের ক্রয়সীমার বাইরে চলে যায়! এতে গরিব এবং নিম্নবিত্ত মানুষরা ঈদের পোশাক বা কাপড় কিনতে পারেনা। আর মধ্যবিত্ত মানুষরা তাদের পছন্দসই পোশাক বা কাপড়টি কিনতে পারেনা। প্রতিবছরই রমজান মাসে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যসামগ্রীর মূল্য অস্বাভাবিক হারে বেড়ে যায়! যদিও প্রতিবছরই মাননীয় বাণিজ্যমন্ত্রী এবং মাননীয় খাদ্যমন্ত্রী মহোদয় আশ্বাস দেন যে, রমজান মাসে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যসামগ্রীর মূল্য বৃদ্ধি পাবেনা। কিন্তু দুঃখজনক হলেও একথা সত্য প্রতিছরই রহস্যজনকভাবে দ্রব্যমূল্য অস্বাভাবিক হারে বৃদ্ধি পায়! মানে বাজারে গেলে এর উল্টো চিত্র দেখতে পাওয়া যায়! এবছরও আমাদের মাননীয় বাণিজ্যমন্ত্রী মহোদয় ব্যবসায়ীদের সাথে বৈঠক করে সাধারণ মানুষকে আশ্বাস দিয়েছেন যে, এবছর প্রয়োজনের তুলনায় অনেক বেশি খাদ্যপণ্যের মজুত রয়েছে। তাই পবিত্র রমজান মাসে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্য বৃদ্ধির কোনো কারণ নেই এবং পবিত্র রমজান মাসে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্য বৃদ্ধি পাবেনা।
এখন দেখা যাক, মাননীয় মন্ত্রী মহোদয়ের আশ্বাস বাস্তবায়িত হয় কিনা?
আসছে পবিত্র রমজান মাসে নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যসামগ্রী এবং পোশাক বা কাপড়ের মূল্য সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে থাকবে এবং বাজারে পঁচা খেজুর, ফর্মালিনযুক্ত ফলমূল ও ভেজাল খাবার বিক্রি বন্ধ হবে, সেই প্রত্যাশা করছি।
লেখিকা- শামীমা আক্তার
সাহিত্য বিষয়ক সম্পাদিকা