0 384

শহীদ বুদ্ধিজীবী সংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব আমিনুল হকের মৃ’ত্যু’বার্ষিকী পালিত।
মাসুদুর রহমাস – সৈয়দপুর(নীলফামারী):
নীলফামারীর সৈয়দপুরে নতুন বাবুপাড়ায় ২৮ জুন শহীদ আমিনুল হকের মৃ’ত্যু’বার্ষিকীতে তার জন্য দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়। শহীদ আমিনুল হকের জন্ম ১৯২১ সালে। তার বাবার নাম ছিল জেয়ারতউল্লাহ আহমদ। সৈয়দপুর কায়েদে আজম কলেজ থেকে তিনি স্নাতক ডিগ্রি নিয়েছিলেন। শহীদ আমিনুল হকের পরিবার ছিলেন আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত।
তিনি ছিলেন সৈয়দপুর থানা আওয়ামী লীগের কোষাধক্ষ এবং তার বড় চাচাতো ভাই শহীদ বুদ্ধিজীবী ডাক্তার জিকরুল হক ছিলেন তৎকালীন প্রাদেশিক পরিষদের সদস্য। শহীদ আমিনুল হক সৈয়দপুর শতবর্ষী সাংস্কৃতিক সংগঠন শিল্প সাহিত্য সংসদের অন্যতম সদস্য ছিলেন। ব্যক্তিগতভাবে তিনি ছিলেন নাট্যাভিনেতা। অভিনয়ে এই অঞ্চলে তিনি জনপ্রিয় ছিলেন।
বড় ভাই জিকরুল হক ছিলেন সৈয়দপুরের খ্যাতিমান চিকিৎসক। পেশাগতভাবে তিনি বড় ভাইয়ের ডিসপেন্সারিতে চিকিৎসা সহকারী হিসেবে কাজ করতেন। ১৯৭০ সালের সংসদ নির্বাচনে জিকরুল হক নৌকা প্রতীক নিয়ে নির্বাচনে অংশ নেন। শহীদ আমিনুল হক নির্বাচনী প্রচারে গিয়ে গ্রামে গঞ্জে স্বাধীনতার পক্ষে জনমত সৃষ্টি করেন। এসব কারণে অবাঙালিরা তাদের পরিবারের উপর প্রচন্ড ক্ষিপ্ত ছিল। শহীদ আমিনুল হক ও শহীদ জিকরুল হক সহ তার চাচা তিন ভাইসহ তাদের পরিবারের সাতজন মুক্তিযুদ্ধে শহীদ হয়েছেন।
তাছাড়াও মুক্তিযুদ্ধকালীন মুহূর্তে শহীদ আমিনুল হক বঙ্গবন্ধুর স্বাধীনতার ভাষণ রেকর্ড করে গ্রামে গঞ্জে মানুষদের শুনিয়ে স্বাধীনতা যুদ্ধের প্রস্তুতির জন্য উজ্জীবিত করেছিলেন।মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে সৈয়দপুর বিমানবন্দর নির্মাণ কাজ শুরু হয়। বিনা পারিশ্রমিকে নির্মাণ শ্রমিক হিসেবে কাজ করতে অনেক বাঙালিকে ধরে আনে পাকিস্তানি হানাদার সেনারা। সে সময় আমিনুল হককে ২৮ মার্চ তার নতুন বাবু পাড়ার বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে যায়। সৈয়দপুর হাইস্কুলের একটি কক্ষে অনেকের সঙ্গে তাকেও আটকে রেখে নির্মাণ কাজ করতে বাধ্য করে। কাজে ক্লান্ত হয়ে পড়লেও প্রচন্ড নির্যাতন করা হতো তাকে। এক পর্যায়ে ২৮ জুন পাকিস্তানি সেনারা আমিনুল হককে অবাঙালি রাজাকার দলপতি ইজাহার আহমেদের হাতে তুলে দেয়। রাজাকার ইজাহার আহমেদ সৈয়দপুর পৌরসভার সামনে ভুলিয়া মাড়োয়ারির পাট গুদামে নিয়ে গিয়ে নৃশংসভাবে হত্যা করে।
বর্তমানে সৈয়দপুর উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক তার বাবা শহীদ আমিনুল হকের নির্মম হ’ত্যা’কাণ্ডের কথা বলতে গিয়ে কেঁদে ফেলেন।
তিনি বলেন অবাঙালি নরঘাতকেরা তার বাবার চোখ উপড়ে ফেলে। প্রচন্ড যন্ত্রণায় তিনি আর্তনাদ করতে থাকলে পিশাসের দল আরও উল্লসিত হয়ে ওঠে ধারালো অস্ত্র দিয়ে তার হাতের পায়ের আঙ্গুল কেটে টুকরো টুকরো করে ফেলা হয়। এখানেই শেষ নয় তার বাবার শরীরের খন্ডিত অংশগুলো পাটকলের জুট প্রেস নামের যন্ত্র দিয়ে পিষে ফেলে তারা। এইভাবে অমানবিক নির্যাতন করে তার বাবাকে হত্যা করে অবাঙালি রাজাকাররা। তার বাবার একটাই দোষ জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর ভাষণ রেকর্ড করে গ্রামে গঞ্জে বিভিন্ন এলাকায় বাঙ্গালীদের স্বাধীনতা যুদ্ধে উজ্জীবিত করার জন্য তার বাবার উপর প্রচন্ড ক্ষিপ্ত হয়েছিল তারা।