সবার কথা বলে

কসবায় সরকারি চাকরির প্রভাবে প্রবাসীর ফলজ গাছ কর্তন

0 397

কসবায় সরকারি চাকরির প্রভাবে প্রবাসীর ফলজ গাছ কর্তন।

বিশেষ প্রতিনিধি:

ব্রাক্ষণবাড়িয়ার কসবা চড়নল এলাকায় জায়গা-জমি নিয়ে বিরোধের জের ধরে ঘটেছে হামলা ও হুমকির ঘটনা। প্রতিবেশী এক পরিবারের মা-বাবা ও ছেলে-মেয়ের হামলায় অপর প্রতিবেশীর বোনসহ প্রবাসী পরিবারের সকল সদস্যকে হত্যার হুমকি দেওয়ার অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী পরিবার।

অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার চড়নল এলাকার সৌদি আরব প্রবাসী নিরব এই এলাকার বিএস খতিয়ান ২৩, জে এল নং-৭৫, দাগ নং ২৭৩ সাবেক ১০০ দাগের ৫ শতক নাল ভিটা ভূমি রেজিঃ এল নং ৯৮ দলিল মূলে ২০২০ সালের ক্রয় করেন। ভিটা ভূমিটি ক্রয়ের পর থেকে তার প্রতিবেশী ফজল মিয়া তার ২ পুত্র সুমন মিয়া ও শাহিন মিয়া এবং স্ত্রী সুফিয়া বেগমের রোষানলে পরেন প্রবাসী নিরব ও তার পরিবার। ভূমি ক্রয়ের শুরু থেকে ফজল মিয়ার কূটচালে প্রথমে অল্প টাকায় কিনতে জায়গাটি একসময় অনেক বাড়তি দামে কিনতে হয় নিরবকে। জায়গা কিনার পরেও ফজল মিয়া তার দুই পুত্র সুমন মিয়া ও শাহিন মিয়া এবং স্ত্রী সুফিয়া বেগমের নানা মুখী ষড়যন্ত্রে চরম অসহায়ত্বে ভুগছে প্রবাসী নিরবের পরিবার। একপর্যায়ে নিরবের ক্রয়কৃত ভূমির দুই পাশের জায়গা ফজল মিয়া কিনে নিলে নিরবকে বাধ্য করতে থাকে তার জায়গাটি ফজল মিয়াকে ছেড়ে দিয়ে অন্যদিকে চলে যেতে। একপর্যায়ে নিরবের প্রবাসে থাকাকালীন সময়ে ফজল মিয়া তার দুই পুত্র ও স্ত্রী তার জায়গাসহ বন্ডারী দিয়ে ফজল মিয়া দখলের পাঁয়তারা করেন। বিষয়টি নিরবের পরিবার জানার পর নিরবকে অবগত করলে তার বোন রুমা বেগম স্থানীয়দের দিয়ে জায়গা পুনরোদ্ধার করেন। এতে ফজল মিয়া ও তার পুত্ররা মিলে আরো ক্ষিপ্ত হয়ে নিরবের ৬ টি ফলন্ত আম গাছ কেটে ফেলেন ও ভূমির প্রায় লক্ষাধিক টাকার ক্ষয়ক্ষতি করেন। এ সময় নিরবের বোন রুমা বেগম বাঁধা দিতে গেলে তাকে গালাগালি ও প্রাননাশের হুমকি দিতে থাকেন ফজল মিয়া তার দুই পুত্র ও স্ত্রী সুফিয়া বেগম। একপর্যায়ে প্রতিবেশীরা এগিয়ে এসে রুমা বেগমকে উদ্ধার করে বাড়িতে পাঠিয়ে দেন।

এরপর থেকে ফজল মিয়া তার সোনালী ব্যাংকে চাকরিরত ছেলের প্রভাব দেখিয়ে নিরবের পরিবারকে হুমকি দিতে থাকে। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারির ৬ তারিখ নিরবের বোন বাদি হয়ে ফজল মিয়াসহ তার দুই পুত্র এবং স্ত্রী সুফিয়া বেগমের বিরুদ্ধে বিজ্ঞ আদালত একটি সি আর মামলা দায়ের করেন। মামলা নং ৫৪/২০২৩।

ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে প্রতিবেশী জসিম উদ্দিন, শাহ আলম ও আবুল কালাম জানান, ফজল মিয়া ও তার পরিবারের সাথে অনেকদিন থেকে বিরোধ চলছিল সৌদি প্রবাসী নিরবের। এলাকাবাসীরা সহ আমরা সবাই অবগত ভূমিটি নিরবের। ঘটনার দিন ফজল মিয়াসহ তার দুই পুত্র ও স্ত্রী সুফিয়া বেগম অন্যায়ভাবে নিরবের ভূমিতে প্রবেশ করে তাঁর ছয়টি ফলন্ত আম গাছ কেটে ফেলেন। এসময় নিরবের বোন রুমা বেগমের সাথে তাদের কথা কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে আমরা সকলে রুমা বেগম ও ফজল মিয়াদের ঝগড়া থামিয়ে নিজ নিজ ঘরে পাঠিয়ে দিয়।

রুমা বেগম জানান, পূর্ব বিরোধের জেরে আমার ভাইয়ের অনুপস্থিতিতে ফজল মিয়া তার ব্যংকার ছেলের প্রভাব দেখিয়ে আমার ভাইয়ের পরিবারকে নানা সময়ে হয়রানি ও আমার ভাইয়ের ভূমিটি দখলের পায়তারা করছে। এমনকি আমাদের প্রাননাশের হুমকি দিতে থাকে। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারির ৬ তারিখ নিরবের বোন রুমা আক্তার বাদি হয়ে ফজল মিয়া ও তার দুই পুত্র এবং স্ত্রী আমার ভাইয়ের ভূমি থেকে ৬ টি ফলন্ত আম গাছ কেটে ফেললে আমি বাঁধা দিতে তারা আমাকে সে সময় গালাগালি ও মারধর ও হুমকি দিতে থাকে। একপর্যায়ে প্রতিবেশীরা আমাকে উদ্ধার করে। পরবর্তীতে স্থানীয় পর্যায়ে বিষয়টি সালিশের মাধ্যমে সমাধান করতে চাইলে ফজল মিয়ারা কোন সাড়া দেননি। একপর্যায়ে আমি বাদী হয়ে তাদের বিরুদ্ধে বিজ্ঞ আদালতে মামলা করি। মামলার পরে ফজল মিয়া বিদেশে পালিয়ে যান।

এ ব্যাপারে নিরবের সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করলে তিনি জানান, সৌদি আরব থাকাকালীন সময়ে জায়গাটি আমি প্রথমে কম দামে কিনলেও রেজিঃ সময় ফজল মিয়ার কূটচালে আমাকে বেশী দামে নিতে হয়। এরপর থেকে ফজল মিয়া তার সরকারী ব্যাংকে চাকরীরত ছেলের প্রভাব দেখিয়ে আমার জায়গা দখলে নিতে নানা ষড়যন্ত্র করতে থাকে। পরবর্তীতে আমার দুই পাশের জায়গা কিনে নিয়ে আমার অনুপস্থিতিতে আমার জায়গাটি দখলে সব ধরনের চেষ্টা ফজল মিয়া ও তার পরিবার চালাচ্ছে। আদালত মামলার কথা শুনে এক নাম্বার আসামি বিদেশে পাড়ি জমান।

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রচার করা হবে না.