0 323

শিক্ষার কোন বয়স নেই ৫০ বছর বয়সে স্নাতকোত্তর পাস করলেন বালিয়াডাঙ্গীর – আব্বাস আলী।
মোঃ সাইফুল ইসলাম (ঠাকুরগাঁও):
৫০ বছর বয়সে ইংরেজি বিষয়ে স্নাতকোত্তর পাস করেছেন শিক্ষক আব্বাস আলী। গত ২৭ জুলাই জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় এ ফলাফল প্রকাশ করে। এই বয়সে তার এমন উদ্যোগে এলাকায় সাড়া ফেলার পাশাপাশি অনেকে তাকে দেখে উদ্বুদ্ধ হচ্ছেন।
আব্বাস আলী ঠাকুরগাঁওয়ের বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার ধনতলা ইউনিয়নের ঠুমনিয়া গ্রামের দবিরুল ইসলামের ছেলে। তিনি লোহাগাড়া উচ্চ বিদ্যালয়ে ইংরেজি বিষয়ে সহকারী শিক্ষক হিসেবে কর্মরত আছেন ২৪ বছর ধরে।
আব্বাস আলীর সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ১৯৯১ সালে তিনি লাহিড়ী বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি, ১৯৯৪ সালে দিনাজপুর আদর্শ কলেজ থেকে এইচএসসি এবং ১৯৯৭ সালে রুহিয়া ডিগ্রি কলেজ থেকে ডিগ্রি পাস করেন। এরপর অভাবের কারণে স্নাতকোত্তর পড়া হয়নি তার। জীবিকার তাগিদে লোহাগাড়া উচ্চ বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক পদে চাকরি নিয়ে কর্মজীবন শুরু করেন।
আব্বাস আলী জানান, শিক্ষকতা করার সময় আর্থিক সংকটের কারণে মাস্টার্স কোর্স শেষ করতে না পারার দুঃখটা সব সময় মনে কষ্ট দিতো। ২০১৮ সালে স্ত্রীর কাছে ১২ হাজার টাকা নিয়ে তিনি জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে ৩ বছর মেয়াদী সার্টিফিকেট কোর্স সম্পন্ন করেন। এরপর প্রিলিমিনারি মাস্টার্স কোর্স ১ বছর শেষ করার পর দিনাজপুর সরকারি কলেজে ইংরেজি বিষয় নিয়ে মাস্টার্স কোর্সে ভর্তি হন। সেখানে পাবলিক পরীক্ষায় অংশ নিয়ে তিনি ২.৩১ সিজিপিএ পেয়ে উত্তীর্ণ হয়েছেন।
এই বয়সে পড়ালেখার অভিজ্ঞতা জানিয়ে আব্বাস আলী জানান, ১৯৯৭ সালের সিলেবাস ও বর্তমান সময়ে সিলেবাসে অনেক পার্থক্য। প্রতিদিনি ৫-৬ ঘন্টা পড়াশোনা করতে হয়েছে তাকে। পরীক্ষার ফলাফল না আসা পর্যন্ত এক ধরণের দুশ্চিন্তায় ছিলেন তিনি। ফলাফল বের হওয়ার তিনি অনেক খুশি। তার সবশেষ ইচ্ছে উচ্চতর ডিগ্রি অর্জনের স্বপ্ন তিনি পুরণ করতে পেরেছেন। লোহাগাড়া উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ফজলুর রহমান বলেন, আব্বাস আলী পরিশ্রমী একজন শিক্ষক। এই বয়সে তার এমন অর্জন বিদ্যালয়ের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের উদ্বুদ্ধ করবে বলে তিনি মনে করেন।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বিপুল কুমার বলেন, মানুষের ইচ্ছাশক্তি থাকলে অসম্ভব সম্ভব করা যায়। আব্বাস আলীর ইচ্ছাশক্তির কাছে বয়স হার মেনেছে। বিষয়টি প্রশংসনীয়