0 454

শ্রীপুরে বিদ্যালয়ের লোন নিয়ে শিক্ষকদের অভিযোগ, উপজেলা প্রশাসনের তদন্ত কমিটি গঠন।
মোঃ মিরাজ শেখ – (মাগুরা):
মাগুরার শ্রীপুর উপজেলার রাধানগর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোঃ নওয়াব আলীর বিরুদ্ধে আর্থিক দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে।
গত শুক্রবার (২৫ জুলাই) রাধানগর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক-কর্মচারীবৃন্দের সাক্ষরিত লিখিত অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, মাগুরা জেলার শ্রীপুর উপজেলার ঐতিহ্যবাহী রাধানগর মাধ্যমিক বিদ্যালয়টি ১৯৬৪ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় এবং এ যাবৎ সুনাম অক্ষুণ রেখে স্থানীয় কোমলমতি শিক্ষাথীদের শিক্ষার চাহিদা পূরণ করে চলছে বিদ্যালয়টি।
কিন্তু দুঃখের বিষয় এই যে, অত্র বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোঃ নওয়াব আলীর আর্থিক অনিয়ম ও দুর্নীতির কারণে বিদ্যালয়টি প্রায় ধ্বংসের পথে। তিনি বিগত ২০১৬ খ্রি. থেকে ২০২২ খ্রি. পর্যন্ত বিদ্যালয়ের আয়-ব্যয় সংক্রান্ত হিসাব বহিতে যে হিসাব দাখিল করেছেন তা আমরা ৩ সদস্য বিশিষ্ট অভ্যন্তরীন অডিট কমিটি পুঙ্খানু-পুঙ্খা ভাবে যাচাই-বাছাই করে দেখতে পাই প্রধান শিক্ষকের দাখিলকৃত আয়-ব্যয় সংক্রান্ত বিষয়টি বিরাট ত্রুটি ও বৈষম্যপূর্ণ।
তিনি আরও একটি বিষয় ক্যাশে উল্লেখ করেছেন যে বিদ্যালয়ের ক্যাশে টাকা থাকাকালীন ভূয়াভাবে নিজ নামে কমিটির অনুমোদন ব্যতিত বিভিন্ন সময়ে বিদ্যালয়ে লোন প্রদান করেছেন যা বিদ্যালয়ের অর্থনৈতিক আইন ও কর্মকান্ডের পরিপন্থী।
প্রধান শিক্ষক মোঃ নওয়াব আলী যোগদান করার পর থেকে (৩১.১০.২০১৬ সাল থেকে ৩১.০৩.২০১৮ সাল পর্যন্ত) বিদ্যালয় থেকে কিছু ঋণ প্রদান করা হয়েছে দেখিয়ে ক্যাশ বহিতে উল্লেখ আছে।
প্রধান শিক্ষক ভিন্ন ভিন্ন সময় ও প্রেক্ষাপটে ভিন্ন ভিন্ন উৎস হতে তার নিজ হাতে ২ লাখ ৩৩ হাজার ৫ শত টাকা ঋণ গ্রহণ করেন, বিশেষ ব্যক্তিবর্গ (নাম উল্লেখ নাই) ১ লাখ টাকা ঋণ গ্রহণ করেন এবং সাবেক সভাপতি পরেশ চন্দ্র রাহুত ২৮ হাজার টাকা ঋণ গ্রহণ করেন, মোট ৩ লাখ ৬১ হাজার ৫ শত টাকা ঋণ গ্রনণের বিবরণ ক্যাশ বহিতে উল্লেখিত দেখা যায়।
ঐ সময়ের যিনি সভাপতি ছিলেন এবং বিদ্যালয় পরিচালনা পর্ষদের দায়িত্বে যারা ছিলেন তারা এই ঋণ গ্রহণের ব্যাপারে কিছু জানে না এবং কোন প্রকার রেজুলিউশন নাই। সূত্র ২৩/২০২২ পত্রে দেখা যায়, অভ্যন্তরীণ অডিট কমিটির সাক্ষরিত সদস্য বৃন্দ হলো সিনিয়র শিক্ষক আহ্বায়ক মোঃ মিজানুর রহমান, সিনিয়র শিক্ষক ও শিক্ষক প্রতিনিধি সদস্য সাজেদা খাতুন এবং সহকারী শিক্ষক ও শিক্ষক প্রতিনিধি সদস্য শশী বিশ্বাস।
রাধানগর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির বর্তমান সভাপতি মোঃ লিয়াকত আলী বিশ্বাস বলেন, গত সোমবার (৭ আগস্ট) দুপুর ১২ টার সময় মিটিং ডাকা হয়েছিল আগের রেজুলিউশনের অডিটের বিষয়টি শিক্ষকরা মেনে নিতে পারছে না, প্রধান শিক্ষক জোর করে এটা করেছে। তিনি আরও বলেন, তবে ভুল হলে আবার নতুন করে সংশোধন করা হবে।
প্রধান শিক্ষক মোঃ নওয়াব আলী বলেন, স্কুলের ফান্ড থেকে আমি ১ লাখ টাকা নিয়েছি এবং রেজুলেশনে সাক্ষরিত করে নিয়েছি। শিক্ষকদের সাথে আমি কোন রাগান্বিত ব্যবহার করিনা। বাংলা বিভাগের সহকারী শিক্ষিকা সাজেদা খাতুন বলেন, অডিট রিপোর্টে সাক্ষরিত করেছি শুধুমাত্র বিদ্যালয়ের স্বার্থে প্রধান শিক্ষক নওয়াব আলী বলেন যে, স্বীকৃতি না থাকলে সবার বেতন বন্ধ হয়ে যাবে এবং বিদ্যালয়ের সবকিছু বন্ধ হয়ে যাবে। অত্র বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠানকে বাঁচাতে ও আমাদের পরিবারকে বাঁচাতে অডিট রিপোর্টে সাক্ষরিত করি।
প্রধান শিক্ষক মোঃ নওয়াব আলী রেজুলিউশন বহির ফটোকপি দেখান, যেখানে বিভিন্ন সময়ে বিদ্যালয়ের প্রয়োজনে ব্যাংক থেকে উত্তোলিত এবং নগদ গৃহিত টাকার ভাউচার পেশ করা হয়েছে। ২০১৮ সালের জানুয়ারী হতে মার্চ পর্যন্ত ভাউচার পেশ করা হয়েছে। সভাপতির দাখিলকৃত ভাউচার (৩৯ টি) টাকার পরিমাণ ৩ লাখ ৮২ হাজার ৪ শত ৫৯ টাকা এবং সদস্য দাখিলকৃত টাকা (৯ টি) টাকার পরিমাণ ৬৪ হাজার ৫ শত টাকা। মোট ভাউচার ৪৮ টি টাকার পরিমাণ ৪ লাখ ৪৬ হাজার ৯ শত ৫৯ টাকা। সভাপতি ও প্রধান শিক্ষকের নিকট হতে ঋণ গ্রহণ করা হয়েছে, যা চুড়ান্ত হিসাব অন্ত ফান্ডে আছে। সিনিয়র শিক্ষক সাজেদা খাতুন আরও বলেন, শশী বিশ্বাস, মিজানুর রহমান ও আমি এই ৩ জন মিলে অডিট করতে গিয়ে অসামঞ্জস্যতা দেখি । মিনিস্ট্রি অডিট থেকে মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার এসে বলেন, অডিট না করে দিলে আপনাদের স্কুল বন্ধ হয়ে যাবে।
এ সময় সুযোগে প্রধান শিক্ষক বিভিন্ন অসুবিধার কথা তুলে ধরে। তার কারণে তিনি যে এই সরলতার সুযোগ নিয়ে এমন চালাকি কাজ করবেন এটা কল্পনাও করতে পারিনি। লোনটাকে আমরা স্বীকার করে নিতে চাচ্ছি না এটাই আমাদের অভিযোগ, টাকার পরিমাণ ৩ লাখ ৬৫ হাজার ৫ শত টাকা। রেজুলেশন সূত্রে দেখা যায়, সাবেক সভাপতি পরেশ চন্দ্র রাহুতের মিটিং সভায়, প্রধান শিক্ষক মোঃ নওয়াব আলী লোন প্রদানের বিষয়টি অবাস্তব মিথ্যা ও ভিত্তিহীন প্রতীয়মান হয়।
এ সকল বিষয় নিয়ে বিভিন্ন জাতীয় ও স্থানীয় পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশিত হওয়ার পর, উপজেলা নির্বাহী অফিসার কমলেশ মজুমদার বিষয়টিকে তদন্ত করার জন্য একটা কমিটি গঠন করেছেন। যার তদন্তভার দেওয়া হয়েছে শ্রীপুর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) শ্যামানন্দ কুন্ডুর কাছে।