সবার কথা বলে

প্রয়াত বীর মুক্তিযোদ্ধা আলিমুদ্দিনের অষ্টম মৃত্যুবার্ষিকী স্মরণে দোয়া ও মিলাদ মাহফিল

0 524
প্রয়াত বীর মুক্তিযোদ্ধা আলিমুদ্দিনের অষ্টম মৃত্যুবার্ষিকী স্মরণে দোয়া ও মিলাদ মাহফিল।
মাসুরদুর রহমান – (নীলফামারী):
নীলফামারীর, সৈয়দপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের দলীয় কার্যালয়ে ১৮ই আগস্ট সন্ধ্যা সাতটার সময় সাবেক এমপি মরহুম আলিমুদ্দিনের স্মরণে দোয়া ও মিলাদ মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়।
মরহুম আলীম উদ্দিন ১৪ ফেব্রুয়ারি ১৯৪০ সালে ব্রিটিশ ভারতের বেঙ্গল প্রেসিডেন্সির (বর্তমান বাংলাদেশ) নীলফামারী জেলার সৈয়দপুর উপজেলায় জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতা শহীদ ডাঃ বদিউজ্জামান ও মাতা আঞ্জেমা খাতুন।
মরহুম আলীম উদ্দিন ১ জানুয়ারি ১৯৬৬ সালে নীলফামারী জেলা ছাত্রলীগের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি নির্বাচিত হন। তিনি সৈয়দপুর ছাত্রলীগেরও সভাপতি ছিলেন। ৭ মার্চ ১৯৭১ সালে রেসকোর্স ময়দানে শেখ মুজিবের দেয়া ভাষণে সরাসরি অংশগ্রহণ করেছিলেন তিনি। আলিম উদ্দিন ছয় নম্বর সেক্টর থেকে মুক্তিযুদ্ধে অংশ গ্রহণ করেন। ১২ এপ্রিল ১৯৭১ সালের পাকসেনাদের গুলিতে নিহত হন তার পিতা ডাঃ বদিউজ্জামান। ১৯৭৩ সালে তৎকালিন রংপুর-৪ আসন (বর্তমান নীলফামারী-৪) থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।
১৯৭৭ সালে তিনি জাতীয় শ্রমিক লীগের কেন্দ্রীয় সভাপতি নির্বাচিত হয়ে ১৯৮৫ সাল পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৮৬ সালে সৈয়দপুর আওয়ামী লীগের সভাপতি নির্বাচিত হয়ে ৩ বছর দায়িত্ব পালন করেন। সকলের প্রিয় জননেতা আলিম মরহুম আলিম এমপির রাজনৈতিক পরিচয় এর বাহিরে অনেক পরিচিত ছিলেন। তিনি সৈয়দপুরের অনেক সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা সহ বিভিন্ন কমিটির ম্যানেজিং সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।
সমাজসেবক হিসেবে তিনি ছিলেন অতুলনীয় একজন মানুষ। ভাষা আন্দোলনে তিনি অভূতপূর্ব অগ্রগামী ভূমিকা পালন করেছিলেন। তিনি ছিলেন সহজ সরল মনের একজন ব্যক্তি। কখনোই কারো সঙ্গে রাগ করে কথা বলতেন না। খুব ধৈর্য সহকারে সকলের কথা শুনে ভালো উপদেশ ও পরামর্শ দেওয়াই ছিল উনার ব্যক্তিত্বের মুখ্য ভূমিকা। তিনি সব সময় দেশ ও মানুষের কথা ভাবতেন। গরিব, দুঃখী মানুষের সমস্যার সমাধানে এগিয়ে যেতেন। কখনোই তার চরিত্রের মধ্যে সামান্য হিংসা মনোভাব খুঁজে পাওয়া যেত না। তিনি ছিলেন অনন্য চরিত্রের একজন মানুষ। এ ধরনের একজন ব্যক্তিত্ববান নেতা বর্তমান সমাজে বিরল। উনি ছিলেন জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর অনুপ্রাণিত আদর্শের একজন মানুষ।
মরহুম আলীম উদ্দিন ১৮ আগস্ট ২০১৫ সালে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে নীলফামারীর সৈয়দপুর উপজেলা শহরের নতুন বাবুপাড়া মহল্লার নিজ বাসভবনে মৃত্যুবরণ করেন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিলো ৭৫ বছর। তিনি স্ত্রী রাবেয়া আলীম (একাদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসন-২৩ থেকে নির্বাচিত জাতীয় সংসদ সদস্য) ও একমাত্র ছেলে ইঞ্জিনিয়ার এ কে এম রাশেদুজ্জামান ও তিন মেয়ে সহ অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন।

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রচার করা হবে না.