মোঃ মিরাজ শেখ - (মাগুরা):
মাগুরায় জাতীয় নির্বাচনী ব্যবস্থাপনা সংস্কারসহ তিন দফা বাস্তবায়নের দাবিতে মানববন্ধন করেছে বাংলাদেশ কংগ্রেস মাগুরা জেলা শাখা। দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে – জাতীয় নির্বাচনে জেলা প্রশাসকদের পরিবর্তে জেলা নির্বাচন কর্মকর্তাকে রিটার্নিং অফিসার নিয়োগ, ভোট কেন্দ্র গুলোতে সিসি ক্যামেরা স্থাপন ও নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে রাখা।
রবিবার (২০ আগস্ট) সকালে মাগুরা প্রেসক্লাবের সামনে মানববন্ধনে বাংলাদেশ কংগ্রেস জেলা শাখার পক্ষ থেকে এসব দাবি উত্থাপন করা হয়। বাংলাদেশ কংগ্রেসের পৌর শাখার আহবায়ক মোঃ তারিকুল ইসলামের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ কংগ্রেসের চেয়ারম্যান এ্যাড. কাজী রেজাউল হোসেন। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক মোঃ নাজমুল মোর্শেদ, মাগুরা জেলা সমন্বয়কারী মোঃ সালমান খান, শ্রীপুর উপজেলা শাখার আহবায়ক মোঃ আসাদুজ্জামান আসাদ, ছাত্র কংগ্রেস মাগুরা জেলা শাখার আহবায়ক মোঃ কাজল ইসলাম প্রমুখ।
এছাড়াও মানববন্ধনে বাংলাদেশ কংগ্রেসের জেলা, উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। মানববন্ধনে বাংলাদেশ কংগ্রেসের চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট কাজী রেজাউল হোসেন বলেন, নির্বাচন কমিশন একটি স্বাধীন প্রতিষ্ঠান এবং তাদের মূল কাজ নির্বাহী বিভাগের সহায়তায় সকল প্রকার নির্বাচন পরিচালনা করা। কিন্তু জেলা প্রশাসকদের নির্বাচন পরিচালনার দায়িত্ব দিলে তারা আত্মঘাতী কাজ করেন, এতে কমিশনের স্বাধীনতা ক্ষুন্ন হয়।
জেলা প্রশাসকরা নির্বাচন পরিচালনাকারী হতে পারেন না। কারণ সাংবিধানিক বাধা আছে। সংবিধানের ১২৬ অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, ‘নির্বাচন কমিশনের দায়িত্ব পালনে সহায়তা করা সকল নির্বাহী কর্তৃপক্ষের কর্তব্য হইবে’। জেলা প্রশাসকরা প্রজাতন্ত্রের নির্বাহী বিভাগে কর্মরত আছেন। তাই তারা নিজেরা সরাসরি নির্বাচন পরিচালক হতে পারেন না।
এজন্য নির্বাচন পরিচালনাকালে জেলা প্রশাসকের পরিবর্তে জেলা নির্বাচন কর্মকর্তাকে রিটার্নিং অফিসার নিয়োগ করতে হবে এবং ভোট কেন্দ্র গুলোতে সিসি ক্যামেরা স্থাপন করতে হবে। অ্যাডভোকেট কাজী রেজাউল হোসেন আরো বলেন, বর্তমান বাজারে দ্রব্যমূল্যের দাম আকাশ ছোঁয়া। চাল, ডাল, চিনি, তেল ইত্যাদি নিত্য প্রয়োজনীয় খাদ্য দ্রব্যর বাজার নিয়ন্ত্রণ করতে হবে এবং সিন্ডিকেট ধ্বংস করে সরকারকে সুষ্ঠু পদক্ষেপ নিতে হবে। মানববন্ধনে উপস্থিত নেতারা নির্বাচনী প্রচারে জনদুর্ভোগ ও কালো টাকার ব্যবহার বন্ধ করতে নির্বাচনী আচরণবিধি সংশোধনেরও দাবি জানান।