সবার কথা বলে

হতাশা ছাড়ুন নিজেকে গড়ুন

0 411

হতাশা ছাড়ুন
নিজেকে গড়ুন

মুহাম্মাদ মাইনুল ইসলাম

জীবনে পাওয়া না পাওয়া কিংবা মানসিক চাপ অনুভব করা হতাশ হওয়া এটা নতুন কিছু না,বিপদ আপদ মানসিক কিংবা বেদনা যতই হোক হতাশ হওয়া যাবে না।

এটা বুদ্ধিমানএর কাজ না যে কোন পরিস্থিতিতে মুখোমুখি হতে পারাই বুদ্ধিমান এ-র কাজ, হতাশা চিন্তা আপনাকে শুধু পিছনের দিকে টেনে নিয়ে যাবে সামনে অগ্রসর হতে দিবেনা,আশা নিরাশ তো প্রতোক মানুষের জীবনেই আছে তাই বলে কোন কিছু নিয়ে হতাশ হওয়া যাবে না আপনি যেটা হারিয়েছেন হয়তো সেটা আপনার নয়, কিংবা আপনার জন্য মঙ্গল জনক নয় হয়তো পরবর্তীতে এ-র চেয়ে ভালো কিছু আপনার জন্য অপেক্ষা করে।

তাই হতাশা ছাড়ুন আশায় বাঁচুন, যদি কখনো খুব বেশি হতাশায় ভুগেন তাহলে নিজেকে কাজের মধ্যে ব্যাস্ত রাখুন, বই পড়ুন, শারীরিক পরিশ্রম করুন ফলে শরীর অনেক ঘামে যা হতাশা ও বিষাদের অনুভুতি কমাতে সাহায্য করে।

হতাশা ও ক্লান্তি দূর করার জন্য ঘুম বেশ কার্যকর। তবে জোর করে তো আর ঘুমানো যায় না। যদিও বা ঘুমানো যায় তা কখনও আরামদক ঘুম হয় না। সেক্ষেত্রে ধ্যান, গান শোনা বা পছন্দের লেখকের বই পড়া যায়। এতে মনোযোগ বিচ্ছন্ন হয় যা হতাশা দূর করতে সাহায্য করে। ফলে মনে স্থিরতা আসে ও রাতে ভালো ঘুম হয়।

হতাশার প্রভাব পড়ে সম্পূর্ণ জীবনযাত্রার উপরেই। যদি খুব বেশি একঘেয়ে লাগে অথবা যদি মনে হয় ‘এভাবে আর চলছে না ‘ তাহলে গতানুগতিক জীবনযাত্রা থেকে খানিকটা বিরতি নিতে পারেন। এর জন্য যেতে পারেন ছোট কোনো ছুটিতে। অথবা একদিনের জন্য ন্ধু বান্ধবদের সঙ্গে সময় কাটান। চাইলে একা ‘লং ড্রাইভ’য়ে যেতে পারেন অথবা নিজের পছন্দসই কোনো খাবার তৈরি করে খেতে পারেন। যা করতে ভালো লাগে, স্বাচ্ছন্দ্য অনুভব করেন তা-ই করার চেষ্টা করুন।

এটি গতানুগতিক জীবনেমুমিনের কাছে দুনিয়ার জীবন মহাসফরের একটি মঞ্জিলমাত্র এবং দুনিয়ার জীবন পরকালের শস্যক্ষেত্র। এখানকার সাময়িক সুখে মুমিন বিভোর ও বিমোহিত হন না এবং সাময়িক দুঃখ-কষ্ট, যন্ত্রণা-যাতনায় মুমিন বিচলিত হন না। মুমিন সর্বদা চূড়ান্ত লক্ষ্যপানে অবিচল থেকে দৃঢ় পদে অবিরাম চলতে থাকেন তার মহাযাত্রায়।

আল্লাহ তাআলা কোরআন কারিমে বলেন, ‘বলো, হে আমার বান্দাগণ! তোমরা যারা নিজেদের প্রতি অবিচার করেছ, তোমরা আল্লাহর অনুগ্রহ থেকে নিরাশ হয়ো না। নিশ্চয়ই আল্লাহ সকল গুনাহ ক্ষমা করে দেন। নিশ্চয় তিনি অতি ক্ষমাশীল পরম দয়ালু।’ (সুরা ৩৯ জুমার, আয়াত: ৫৩)।

রজনী শেষে যেমন প্রভাত আসে, তেমনি দুঃখের পর সুখ আছে। কাজেই কোনো দুঃখে মুষড়ে পড়া মুমিনের সাজে না। মানুষ যত বড় পাপীই হোক, আল্লাহকে ডাকলে আল্লাহ তার ডাকে সাড়া দেন। আপনি যত দুঃখ-কষ্টের মধ্যেই থাকুন না কেন, আল্লাহকে স্মরণ করুন; নিশ্চয় তিনি আপনার ডাকে সাড়া দেবেন। এটা আল্লাহর ওয়াদা, তিনি প্রতিশ্রুতির ব্যতিক্রম করেন না। এ বিষয়ে কোরআন কারিমের ঘোষণা, ‘তামাদের পালনকর্তা বলেন, “তোমরা আমাকে ডাকো, আমি সাড়া দেব”।’ (সুরা ৪০ মুমিন)

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রচার করা হবে না.