সবার কথা বলে

টানা চার দিনের বৃষ্টিতে প্লাবিত মানুষজন দুর্ভোগে পড়ে মানববন্ধন

0 308
সৈয়দপুরে টানা চার দিনের বৃষ্টিতে প্লাবিত মানুষজন দুর্ভোগে পড়ে মানববন্ধন।
মোঃ মাসুদুর রহমান – (নীলফামারী):
নীলফামারী, সৈয়দপুরে ২৭ সেপ্টেম্বর (বুধবার) সকাল দশটার সময় দিনাজপুর- সৈয়দপুর মহাসড়কে দহলা ব্রিজের উপর এক মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।
শহরের দহলা ব্রীজের নীচ দিয়ে পানির স্বাভাবিক প্রবাহে বাধা,  পানি বন্দি হাজারো পরিবার,  হাজার হেক্টর ফসল নষ্টের প্রতিবাদে রংপুর দিনাজপুর সড়কে মানববন্ধন করার সময় প্রায় ২ ঘন্টা সড়ক অবরোধ করে এলাকাবসি।
পানি বন্দি  হাজারো পরিবার প্রথমে মানববন্ধন ডাকলেও পরবর্তিতে তা  অবরোধ এ পরিনত হয়। এতে ২ ঘন্টা সড়ক অবরোধ করা হয়। উক্ত অবরোধে বক্তব্য রাখেন সৈয়দপুর উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক মো মহসীনুল হক মহসিন, ১২ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর আব্দুল খালেক সাবু, ১২ নং ওয়ার্ড আওয়ামীলীগের সভাপতি মো আব্দুল মজিদ,  মহিলা কাউন্সিলর আফরোজা বেগম, সাবেক ছাত্র নেতা তামিম রহমান, সৈয়দপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মোঃ মাসুদুর রহমান, সৈয়দপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংস্কৃতিক সম্পাদক মোস্তফা কামাল, সাধারন কৃষক জোবেদ আলী, সিরাজুল ইসলাম,  মো আবু তালেবসহ আরো অনেকে।
মানববন্ধন ও অবরোধ শেষে উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান, সৈয়দপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মোখছেদুল মোমিন, উপজেলা নির্বাহী অফিসার ফায়সাল রায়হান এবং নির্বাহী অফিসারের মাধ্যমে জেলা প্রশাসক বরাবর স্বারকলিপি প্রদান করা হয়। সম্প্রতি চার দিনের টানা অতিবৃষ্টিতে সৈয়দপুরে ১১,১২,১৩,১৪,১৫ নং ওয়ার্ডের মানুষ বাড়িঘর হাঁটু পানিতে ডুবে গেছে চলাচল করা দুষ্কর হয়ে পড়েছে। বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা স্কুলে যেতে পারছে না। মসজিদের মুসল্লী ও গবাদি পশুর চলাচল প্রায় বন্ধ হয়ে পড়েছে। নষ্ট হওয়ার পথে হাজার একর জমির ফসল।
শহরের তুলনামূলক বস্তি নিয়ে পৌরসভা কর্তৃপক্ষ বা স্থানীয় জনপ্রতিনিধিগণের পরিকল্পিত কার্যকর কোন চিন্তাভাবনা না থাকায় আজকে এই দুর্দশা করতে হয়েছে, এই এলাকার প্লাবিত মানুষজন। অথচ ১৯৮৮ সালের প্লাবনে এই এলাকায়টি ডুবে যায়নি। কারণ রেলওয়ের জায়গায় সৃষ্ট নালা দিয়ে এই এলাকার মহল্লা সহ বসুনিয়া মোড় ও বাশবাড়ির মিস্ত্রিপাড়া ও রেলওয়ে কারখানার পানি পার্শ্ববর্তী দহলা ব্রিজ হয়ে খড়গড়িয়া নদীতে পড়তো। কিন্তু ইদানিংকালে এলাকার কতিপয় প্রভাবশালী ভূমিদস্যু ব্যক্তি রেলওয়ের জায়গা গুলো লিজ নিয়ে পুকুর খনন করে এবং পুকুরের পাড় নির্মাণ করাতে পানি নিষ্কাশনের নালাটি বন্ধ করে ফেলে।
এছাড়া এলাকার অর্থশালী কতিপয় ব্যক্তি ওই নালার পাশে অপরিকল্পিতভাবে বহুতল ভবন ও মসজিদ নির্মাণ করে। এর ফলে বন্যা বা অতিবৃষ্টির পানি আগের মত প্রবাহিত হয়ে নদীতে পড়তে পারে না এলাকার জলবদ্ধতা সৃষ্টি হয় চলতি সপ্তাহের অতিবৃষ্টিতে এইসব এলাকার মহল্লাগুলো হাঁটু পানিতে নিমজ্জিত হয়ে পড়েছে।
দৈনন্দিত কর্মকাণ্ড ব্যাহত হচ্ছে, শিশু-কিশোররা বিদ্যালয়ে যেতে পারছে না। জলাবদ্ধ নোংরা পানি ডিঙিয়ে মুসল্লীরা মসজিদে যেতে পারছে না। করুণদশার মুখে পড়েছে গৃহপালিত গবাদি পশু। সার্বিকভাবে এক অমানবিক পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েছে ওই এলাকার মানুষজন।
এ অবস্থা থেকে পরিত্রাণের জন্যই আজকে এক মানববন্ধনের আয়োজনে বিখুব্ধ হয়ে তারা সড়ক অবরোধ করতে বাধ্য হয়েছে।

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রচার করা হবে না.