সবার কথা বলে

আন্তর্জাতিক গ্রামীণ নারী দিবস পালিত হয় জামালপুরে

0 295
আন্তর্জাতিক গ্রামীণ নারী দিবস পালিত হয় জামালপুরে।
মো:এমদাদুল হক – (জামালপুর প্রতিনিধি):
প্রখর রোদ ও ঝড়বৃষ্টিতে ঘরে-বাইরে কাজ করে যাচ্ছেন গ্রামীণ নারীরা। ঘরের কাজের স্বীকৃতি যেমন নেই, তেমনি বাইরে রয়েছে মজুরি বৈষম্য। এ জন্য শহরমুখী হচ্ছেন তারা।

 

বলা বাহুল্য ১৫ অক্টোবর সারাবিশ্বে পালিত হয়েছে আন্তর্জাতিক গ্রামীণ নারী দিবস।

 

গ্রামীণ উন্নয়ন, খাদ্য নিরাপত্তা ও দারিদ্র্য দূরীকরণসহ নানা ক্ষেত্রে গ্রামীণ নারীদের ভূমিকার স্বীকৃতিস্বরূপ দিবসটি পালিত হয়ে আসছে। সম্প্রতি বিলসের এক গবেষণায় দেখা যায়, প্রতিদিন প্রায় এক থেকে দেড় ঘণ্টা চা শ্রমিকদের হেঁটে আসতে হয় কর্মস্থলে। প্রায় ১০ শতাংশ নারী জানেই না মাতৃত্বকালীন ছুটির কথা। ১৩ শতাংশ জানায়, মাত্র ১২ সপ্তাহ তারা এই ছুটি পায়। বেশির ভাগ চা বাগানেই টয়লেট নেই। প্রায় ৮৮ শতাংশ শ্রমিক খোলা জায়গায় এবং ১২ শতাংশ চা বাগানে মলত্যাগ করে। এ ছাড়া বাংলাদেশে ৯৭ শতাংশ নারী চা শ্রমিকের কোনও নিয়োগপত্র নেই।

 

শুধু চা বাগানেই নয়, সারাদেশেই বৈষম্য ও সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত হন নারীরা। সরকারের কৃষি তথ্য সার্ভিসের সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, কৃষিতে শ্রমদানকারী নারীদের ৪৫ দশমিক ৬ শতাংশ পারিশ্রমিক পায় না। বাকি ৫৪ দশমিক ৪ শতাংশ বাজারমূল্যের চেয়ে কম পারিশ্রমিক পায়। পুরুষের থেকে ৪৩ শতাংশ নারী শ্রমিক কম মজুরি পান। সামাজিকভাবে পিছিয়ে থাকায় তারা বাধ্য হয়েই এটা মেনে নেন।

 

এদিকে “নারীর প্রতি সাইবার অপরাধ দমনে দরকার সচেতনতা সৃষ্টি ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ” এই প্রতিপাদ্যে আন্তর্জাতিক গ্রামীণ নারী দিবস-২০২৩ উদযাপন উপলক্ষে গতকাল সোমবার শহরের পিটিআই গেইট সংলগ্ন সমাজ উন্নয়ন ও প্রশিক্ষণ কেন্দ্র এসপিকে’র মিটিংরুমে আন্তর্জাতিক গ্রামীণ নারী দিবস উদযাপন জেলা কমিটি, জামালপুর ও সমাজ উন্নয়ন ও প্রশিক্ষণ কেন্দ্র এসপিকে জামালপুরের আয়োজনে আলোচনা সভা ও সম্মাননা প্রদান অনুষ্ঠান সম্পন্ন হয়েছে।

 

অনুষ্ঠানে জামালপুরের পাঁচজন মহিয়সী নারীকে সম্মাননা ক্রেস্ট প্রদান করা হয়। সমাজ উন্নয়ন ও প্রশিক্ষণ কেন্দ্র এসপিকে জামালপুরের নির্বাহী পরিচালক মোহাম্মদ এনামুল হকের সঞ্চালনায় উক্ত অনুষ্ঠানে  সভাপতিত্ব করেন, এম এইচ মজনু মোল্লা। প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন, শিক্ষাবিদ আমীর উদ্দিন।

 

বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন, বাংলাদেশ ন্যাশনাল প্রেস ক্লাবের প্রতিষ্ঠাতা ও সভাপতি সৈয়দ মুনিরুল হক নোবেল, মশিউল আলম বাবলু, আবু বক্কর সিদ্দিক, দেওয়ান আব্দুল মালেক, মোঃ আনিছুর রহমান, জয়ন্তী কৈরি। এসময় বক্তারা বলেন, দেশে বর্তমানে তথ্যপ্রযুক্তির ব্যবহার যেমন বেড়েছে, তার পাশাপাশি বেড়েছে সাইবার হয়রানি। ফেসবুক, ইমোসহ বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজের অজান্তেই সাইবার হয়রানির শিকার হচ্ছেন গ্রামীণ নারী ও কিশোরীরা।

 

এ হয়রানি প্রতিরোধে সচেতনতার পাশাপাশি আইনি পদক্ষেপ গ্রহণের তাগিদ দেন। উল্লেখ্য, ১৯৯৫ সালে বেইজিংয়ে অনুষ্ঠিত জাতিসংঘের চতুর্থ নারী সম্মেলনে ১৫ অক্টোবরকে আন্তর্জাতিক গ্রামীণ নারী দিবস হিসেবে পালনের কথা বলা হয়।

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রচার করা হবে না.