0 362

সৈয়দপুর পৌরসভার ৬৪ বছর পেরিয়ে গেলেও নেই কোনো ময়লা আবর্জনা ফেলার ডাম্পিং স্টেশন।
মোঃ মাসুদুর রহমান
সৈয়দপুর (নীলফামারী) সংবাদদাতা:
নীলফামারীর সৈয়দপুর একটি প্রথম শ্রেণির পৌরসভা। ১৫টি ওয়ার্ড নিয়ে এ পৌরসভা গঠিত। লোক সংখ্যা প্রায় ৩ লাখ। ১৯৫৮ সালে এ পৌরসভা প্রতিষ্ঠিত হয়। এরপর পর্যায়ক্রমে আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে এটি দ্বিতীয় শ্রেণির পৌরসভা থেকে প্রথম শ্রেণির পৌরসভায় উন্নীত হয়। প্রতিষ্ঠার ৬৪ বছর পেরিয়ে গেলেও এ পৌরসভার ময়লা আবর্জনা ফেলার কোন ডাম্পিং স্টেশন নেই। ফলে ৩ লাখ জনবসতি অধুষিত এ পৌরসভার বাসাবাড়ি ও বিভিন্ন স্থাপনার ময়লা আবর্জনা ফেলা হচ্ছে যত্রতত্র। ফলে ওই সকল ময়রা আবর্জনা পচে গলে ছড়াচ্ছে বিশ্রী দুর্গন্ধ।
গতকাল শহরের বিভিন্ন স্থান ঘুরে দেখা যায়,পৌরসভার ময়লা, আবর্জনা ফেলা হচ্ছে মানুষের চলাচলের রাস্তায়, স্কুল, কলেজের সামনে,ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের পাশে এমনকি আবাসিক এলাকাতেও। তাছাড়াও স্থানীয় শহীদ স্মৃতিস্তাপনার সামনে ময়লার স্তূপ গড়ে উঠেছে। পাশে মহিলা পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজ। সেখানে স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীরা ছাড়াও হাজারো মানুষের যাতায়াত।মুল রাস্তার পাশে দুর্গন্ধ ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকে। সেই রাস্তা দিয়ে যাতায়াতে ময়লা আর্বজনার দুর্গন্ধে পথচারীদের খুব কষ্ট করতে হয়।
সানফ্লাওয়ার স্কুল ও কলেজের পাশে ময়লা আর্বজনার স্তূপ। থানার পাশেও মাঝে মাঝে ময়লা ফেলতে দেখা যায়। প্লাজার পাশে শেরে বাংলা সড়কে। হাতিখানা যেতে ফল মার্কেটের পাশে।
পৌরসভার এ সকল ময়লা,আবর্জনা দীর্ঘদিনেও অন্যত্র অপসারণ করা হয় না। ফলে পৌরসভার ওই সকল জমানো ময়লা, আবর্জনা পঁচে, গলে ছড়াচ্ছে বিশ্রী দুর্গন্ধ। ওই ছড়ানো দুর্গন্ধে চারপাশের লোকজন ও ব্যবসায়িরা পড়েছে চরম বিপাকে। ওই পথ দিয়ে চলতে গেলে নাকে রুমাল চেপে ধরে যেতে হয়। অনেকে আবার উল্টো পথে চলে যায়।
হোমিও চিকিৎসক মোক্তার হোসেন জানান,এ পথে কেউ আসতে চায় না। ময়লার দুর্গন্ধে আমার ওষুধ দোকানে কেউ আসতে চায় না। অনেকে উল্টো পথ লায়ন্স স্কুল ও কলেজের পাশ দিয়ে আসে। হাতিখানার বাসিন্দা আবদুল হাকিম জানান, আমরা ময়লা আবর্জনার স্তূপে ডুবে গেছি। দুর্গন্ধ সহ্য হয়ে গেছে। তাই এখন সুগন্ধ না দুর্গন্ধ তা টের পাইনা। বহুবার ময়লা অপসারণের কথা মেয়রকে জানানো হয়েছে কিন্তু তিনি কোন প্রকার পদক্ষেপ নেননি।
পৌর আওয়ামী লীগের ১৩নং ওয়ার্ড সভাপতি সরকার ইউনুস কবির জানান, প্রথম শ্রেণীর পৌরসভার আজ বেহাল অবস্থা। একদিকে নেই রাস্তা সংস্কার, অন্য পাশে মহল্লায়,মহল্লায় ময়লার ভাগাড়। কোন আত্মীয়স্বজন বাসায় এলে নিজেকে ছোট মনে হয়। চারপাশের নোংরা পরিবেশ বিষিয়ে তুলেছে পৌরবাসির জীবন।
সৈয়দপুর পৌরসভার এক কর্মকর্তা জানান,জায়গা সংকটের কারণে ময়লা আবর্জনা ফেলা হয় যত্রতত্র। তবে ওই জমানো ময়লা কিছু সময় পরে সরিয়ে ফেলা হয়ে থাকে। এতে কিছুটা পরিবেশ দুষিত হলেও আমাদের করার কিছু নেই।
আওয়ামী লীগের সভাপতি রফিকুল ইসলাম বাবু বলেন, পৌরসভার কোন উন্নয়ন নেই। ময়লার কারণে বাইরের লোকজন এ শহরে এলে তারা গালি দেয়। তিনি পৌর মেয়র রাফিকা আকতার জাহান বেবীকে অনুরোধ করেন, যেখানে সেখানে ময়লা আর্বজনার স্তূপ না করতে।তিনি বলেন নির্দিষ্ট একটি জায়গায় ময়লা ফেলা হোক। সৈয়দপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মোঃ মহসিনুল হক মহসিন বলেন প্রায় এক বছর পূর্বে ওপেন হাউস ডে অনুষ্ঠানে জেলা প্রশাসকের সামনে অনুরোধ করা হয়েছিল স্থানীয় শহীদ স্মৃতির সামনে এভাবে ময়লা আবর্জনার স্তূপ না করার জন্য তারপরও মেয়র কোন কর্মপাত করেননি।