0 227

মাগুরায় প্রেমের ফাঁদে ফেলে বিয়ে, এক মাস পর প্রেমিকাকে রাস্তায় ফেলে পালাল প্রেমিক
মোঃ মিরাজ শেখ-(স্টাফ রিপোর্টার):
মাগুরায় প্রেমের ফাঁদে ফেলে যুবতীকে বিয়ে, এক মাস সংসারের মাথায় প্রেমিকের পরিবার মেনে না নেওয়ায় প্রেমিকা তাজমিনকে রাস্তায় ফেলে পালাল প্রেমিক স্বামী আকাশ। ঘটনাটি ঘটেছে মাগুরা সদর উপজেলার রাঘদাইড় ইউনিয়নের বড়বেরইল গ্রামে। প্রেমিক মোঃ আকাশ মিয়া (২৬) বড়বেরইল গ্রামের মোঃ সাজ্জাদুল ইসলামের ছেলে ও প্রেমিকা মোছাঃ তাজমিন খাতুন (১৯) একই গ্রামের মোঃ মমরেজ মোল্যার মেয়ে।
জানা যায় তারা ৫ বছরের প্রেমের মাথায় মাগুরা নোটারী পাবলিক কার্যালয় থেকে কোর্ট ম্যারেজে বিয়ে করে। প্রেমিকা মোছাঃ তাজমিন জানায়, আমি বেঙ্গা-বেরইল স্কুল এন্ড কলেজে ১০ম শ্রেণিতে পড়ার সময় আকাশের সাথে আমার প্রেমের সম্পর্ক হয়। একপর্যায়ে ৬ মাস পর এই সম্পর্ক জানাজানি হয়ে গেলে আকাশের বাবা-মা আকাশকে বুঝিয়ে বিদেশে (সৌদি আরব) পাঠিয়ে দেয়। সেখান থেকেই আকাশের সাথে আমার সম্পর্ক ফোনের মাধ্যমে চলতে থাকে। এ বিষয়টি ও প্রকাশ হয়ে গেলে আমার পরিবার আমাকে এ সম্পর্ক বন্ধ করতে চাপ দিতে থাকে। আমি আকাশকে প্রচণ্ড ভালোবাসি তাকে ছাড়া আমার বেঁচে থাকা অসম্ভব মনে হলে আমি বিষ খেয়ে ফেলি। আমার পরিবারের লোকজান হাসপাতালে ভর্তি করে ওয়াশ করে আমাকে বাঁচিয়ে তোলে। এ সময় আকাশ ও যোগাযোগ কমিয়ে দেয়, আমি তাঁকে ভোলার চেষ্টায় কম্পিউটার কোর্সে ভর্তি হয়ে ব্যস্ত থাকার চেষ্টা করি এবং নতুন করে মাগুরা সরকারি হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী কলেজে অর্নাস ১ম বর্ষ ইসলামের ইতিহাস বিভাগে পড়াশুনা শুরু করি। আমার বাড়ী থেকে মাগুরা জেলায় গিয়ে প্রতিদিন কম্পিউটার ক্লাস করা কঠিন হয়ে যায় বিধায় আমার বাবা মা আমাকে মাগুরায় বাসা ভাড়া করে রেখে পড়াশোনা করার সুযোগ করে দেয়। আমি সব কিছু ঠিক ভাবে চালিয়ে যাচ্ছিলাম এর মধ্যে গত ৫ নভেম্বর আকাশ বিদেশ থেকে বাড়ি চলে আসে এবং আমার লোকেশান খুঁজে বের করে আমার সাথে দেখা করে আকুতি মিনতি করে জানায় আমাকে ছাড়া সে কিছুতেই বাঁচবে না আত্মহত্যা করবে। আমি তাঁর কথায় ভুলে যাই, যেহেতু আমি তাঁকে প্রচণ্ড ভালো বাসি আমরা সিদ্ধান্ত নেই অভিভাবক ছাড়াই আমরা বিয়ে করবো।
গত ৭ নভেম্বর এ্যাডভোকেট হালিমের মাধ্যমে মাগুরা নোটারী পাবলিক কার্যালয়ে আমাকে কোর্ট ম্যারেজ বিয়ে করে। সে তার বাবার বাড়ি গ্রামে নিজ বাড়িতে নিয়ে যায়। উল্লেখ্য যে আকাশের বাবা সাজ্জাদ মোল্লা অনেক অর্থ প্রতিপত্তি শালী সে তুলনায় আমাদের পরিবার সাধারণ। আকাশের বাবা-মা আমাদের মেনে নেয় না আমাকে তাড়িয়ে দিতে বলে। ওদিকে আমার পরিবার আমার দিক থেকে একেবারে মুখ ফিরিয়ে নেয়। একদিন আকাশের বাবার বাড়ি থাকার পর আমাদের বাড়ি থেকে বের করে দেয়। আমরা স্বামী-স্ত্রী মাগুরায় পুলিশ লাইন পাড়ায় জনৈক ডাবলুর বাসা ভাড়া নেই এবং একসাথে বসবাস করতে থাকি। আকাশের পরিবারের লোকজন আকাশকে চাপ দিতে থাকে আমাকে তালাক দিতে তাদের কাছে ফিরে যেতে নইলে তাকে ত্যায্য পুত্র করে দিয়ে তাদের সকল সম্পদ আকাশের দুই বোনের নামে লিখে দিবে। মাত্র ১ মাসের মাথায় আকাশ তার পরিবারের সাথে মিমাংশার কথা বলে গত ১১ ডিসেম্বর রাত অনুমান ৮ টার সময় আমাকে সাথে করে গ্ৰামে আমার বাবার বাড়ির কাছে অটো ইজিবাইক থেকে নামিয়ে দাড় করিয়ে রেখে এক জনকে ডাকার কথা বলে চলে যায়। আমি অপেক্ষা করতে থাকি আসি আসি করে আর আসে না রাত বেশি হতে থাকে।
এ সংবাদ পেয়ে আমাদের প্রতিবেশী কাকি তিনি আমাকে আমাদের বাড়ীতে রেখে যান। উনি চলে গেলে আমাদের আরো আত্মীয় স্বজন এসে আমার পরিবারের সাথে মিলে আমাকে তাড়িয়ে দিয়ে আকাশের বাড়ির কাছে আমাকে ফেলে রেখে আসে। আকাশের বাবা-মা গেটে তালা লাগিয়ে দেয়। যাতে আমি ঢুকতে না পারি, প্রচণ্ড শীতে বাইরে দাঁড়িয়ে থেকে আমি জমে যেতে থাকি। এই দেখে আকাশের বাবার বৃদ্ধ চাচি আমাকে রাত ১ টার দিকে তার ঘরে আমাকে নিয়ে রাখে ( আনারুল মোল্লার বাড়ি)। আমাকে রেখে এসে আমাদের ভাড়া বাসায় যা কিছু ছিল সব নিয়ে আকাশ গাঁ ঢাকা দেয় । সবাই সিদ্ধান্ত নেয় আমাকে তালাক দিয়ে দিবে এ কথা শুনে আমার পরিবারের লোক সাংবাদিকদের খবর দিলে সাংবাদিকরা এ বিষয়ে আকাশে পরিবারের সাথে কথা বলে। এক পর্যায়ে আকাশের স্বজনেরা আনারুল ও ৫ নং ওয়ার্ডের কবির হোসেন মেম্বার আমতাআমতা কথা বলে। আকাশসহ তারা চ্যালেন্জ করে বলছে আইন তাদের কিছুই করতে পারবে না টাকা দিয়ে তারা আইন বিচার কিনে নেবে।
তাজমিন খাতুন আরও জানায়, আমাকে নিয়ে এই ছিনিমিনি খেলার কঠিন বিচার চাই। আকাশ মোল্লা স্ত্রী হিসেবে স্বীকার না করে তাহলে তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করবে তাজমিন খাতুন। আকাশ মোল্লার পিতা সাজ্জাদ মোল্লা জানান, আমি ছেলেকে ত্যাজ্য করে দিবো। আমি তাদের দুজনের এই সম্পর্ক মানিনা।