সবার কথা বলে

দাম ভালো পেয়ে শসা ও ক্ষিরা চাষীদের মুখে হাসি

0 263

দাম ভালো পেয়ে শসা ও ক্ষিরা চাষীদের মুখে হাসি।

মোঃ আব্দুর রব মনসুর
সিরাজগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি:

দাম ভালো ও কম খরচে ক্ষিরা ও শসা চাষ করে সিরাজগঞ্জে কৃষকদের মুখে হাসি ফুটেছে। ক্ষিরা ও শসা চাষ বাম্পার ফলনে পাইকারী ও বিক্রেতাদের ভিড়ে জমে উঠেছে ক্ষিরা ও শসার হাট। প্রতিদিন সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত বেচাকেনা হচ্ছে শত শত টন। প্রতিমণ ক্ষিরা পাইকারী বিক্রি হচ্ছে ৮০০-৯০০ ও শসা ৯০০-১০০০ টাকায়। যা উৎপাদন খরচের চেয়ে তিন গুণ বেশি।
উপযোগী আবহাওয়া থাকায় ও গাছের রোগবালাই না হওয়ায় প্রতি বছরই ক্ষিরা ও শসা চাষে আগ্রহী হয়ে উঠেছে নতুন কৃষকেরা। উওরবঙ্গের শস্য ভান্ডার খ্যাত এখানকার উৎপাদিত ক্ষিরা ও শসা স্হানীয় চাহিদা মিটিয়ে প্রতিদিন ক্ষিরার আড়ৎ থেকে ৬০-৭০টন খিরা ও শসা ঢাকা সহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সরবরাহ করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন ব্যাবসায়ীরা।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ কার্যালয় সূত্রে জানা যায়,শীত মৌসুমে জেলায় ক্ষিরা ৩১৪ হেক্টর ও শসা ৩৯৩ হেক্টর চাষ হয়েছে। এরমধ্যে সদর উপজেলায় ক্ষিরা ১০ও শসা ২৫, কামারখন্দে ক্ষিরা ১১ও শসা ১২, তাড়াশে ক্ষিরা ২২০ ও শসা ৭, কাজীপুরে শসা ১০ ও ক্ষিরা ৫, চৌহালীতে ক্ষিরা ৫ ও শসা ১৫, উল্লাপাড়ায় ক্ষিরা ৫০ ও শসা ৩০০, শাহজাদপুরে ক্ষিরা ৫ ও শসা ১৫, বেলকুচিতে ক্ষিরা ১ ও শসা ১, রায়গঞ্জে ক্ষিরা ১২ ও শসা ৮ হেক্টর জমিতে চাষ হয়েছে।
মঙ্গলবার ( ১৯ শে ডিসেম্বর) উল্লাপাড়ার কয়ড়া চরপাড়া মাঠে গিয়ে দেখা যায়, কৃষক কৃষানীরা ক্ষিরা ও শসা তোলায় ব্যস্ত সময় পার করছেন। দূর দূরান্তের পাইকারী ও খুচরা বিক্রেতারা জমি থেকে কিনে নিয়ে যাচ্ছেন।
চাষীরা জানান,প্রতি বিঘা জমিতে ক্ষিরা ও শসা চাষ করতে প্রায় ১৫ থেকে ১৮ হাজার টাকা খরচ করতে হয়। এক বিঘা থেকে উৎপাদিত ক্ষিরা বিক্রি হয় ২৭ থেকে ৩০ হাজার টাকা।এই আবাদে পোকামাকড়ের ঝামেলা কম,তাই কৃষকদের আগ্রহ বেশি।

স্হানীয় ব্যাবসায়ীরা জানান, সিরাজগঞ্জের ৯টা উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় প্রতিবছর আগাম ক্ষিরা ও শসা চাষাবাদ হয়। এবার ও তার ব্যাতিক্রম হয়নি। বন্যায় পানি নেমে যাবার পর পরই উঁচু জমিতে কৃষকেরা এসব চাষাবাদ করে। অল্প খরচে ও অতিরিক্ত ঝামেলা ছাড়াই কৃষকেরা এসব চাষাবাদ করে বিপুল পরিমাণ টাকা আয় করে থাকেন। ভালো দাম পাওয়ায় কৃষকরা খুশি থাকে।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের ( উপপরিদর্শক) বাবুল কুমার সুএধর জানান, সিরাজগঞ্জে যেকোন শস্য চাষের উপযোগী।শীত মৌসুমে জেলার ৭০৭ হেক্টর জমিতে ক্ষিরা ও শসা চাষ হয়েছে। সার্বক্ষণিক উপজেলার কৃষি কর্মকর্তারা কৃষকদের উৎসহ ও পরামর্শ দিয়ে সহযোগিতা করেছেন। ভালো ফলন হওয়ায় চাষাবাদে ঝুঁকছেন কৃষকরা। এভাবে চলতে থাকলে আগামীতে আরো ভালো ফলন হওয়ায় আশাবাদী।

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রচার করা হবে না.