সবার কথা বলে

শরীয়তপুরে গ-ন-ধ-র্ষ-নে-র পরে হ”ত্যা”র দায়ে ৫ জনের মৃ”ত্যু”দণ্ড

0 1,114

শরীয়তপুরে গ-ন-ধ-র্ষ-নে-র পরে হ’ত্যা”র দায়ে ৫ জনের মৃ-ত্যু-দ-ণ্ড

শরীয়তপুর প্রতিনিধি
এবি এম জিয়াউল হক টিটু:

শরীয়তপুর জেলায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক এক বৃদ্ধা নারীকে গ-ণ-ধ-র্ষ-ণে-র পর হ’ত্যা’র দায়ে ৫ জনকে মৃ”ত্যু”দ”ণ্ডা”দেশ দিয়েছেন এবং প্রত্যেক আসামিকে এক লক্ষ টাকা জরিমানা করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (১৬ জানুয়ারি) দুপুরে রায় ঘোষণার পর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল আদালতের পেশকার শাহিন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
মৃ”ত্যু”দণ্ডাদেশ পাওয়া নিজাম বালী, মোহাম্মদ আলী, ওমর ফারুক বেপারী, আল আমীন বেপারী ও ইব্রাহীম মোল্লা ডামুড্যা উপজেলার দক্ষিণ সুতলকাঠি গ্রামের বাসিন্দা।

রায় ঘোষণার সময় আদালতে দুই আসামী উপস্থিত ছিলেন। তিন আসামী পলাতক রয়েছেন। আদালতে উপস্থিত আসামীদের জেলা কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত।

আদালত ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ডামুড্যা উপজেলার ধানকাঠি ইউনিয়নের ভূঁইয়া বাজার গ্রামের ৫৫ বছর বয়সী নারী ফিরোজা বেগম ২০১৯ সালের ১৮ এপ্রিল বিকেল ৫ টার দিকে বাড়ি থেকে নিখোঁজ হয়। ২১ এপ্রিল বাড়ি থেকে দশ কিলোমিটার দূরে পূর্ব ডামুড্যা ইউনিয়নের বড় নওগাঁ এলাকার আব্দুর রহমান মাষ্টারের বাড়ির পূর্ব পাশের একটি পরিত্যক্ত ডোবা থেকে তার ক্ষত-বিক্ষত মরেদহ উদ্ধার করে পুলিশ। পরেরদিন ওই নারীর ছোট ভাই লাল মিয়া সরদার বাদী হয়ে ১৩ জনের নাম উল্লেখ করে ২ থেকে ৩ জনকে অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে শরীয়তপুর আদালতে একটি হত্যা মামলা করেন।
আসামীদের মধ্যে পাঁচজন জড়িত থাকায় তাদের বিরুদ্ধে চার্জসিট গ্রহণ করে পুলিশ। পরে ২৮ এপ্রিল ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে নিজাম বালীকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পরেরদিন ওমর ফারুক ও মোহাম্মদ আলীকে গ্রেফতার করা হয়। তারা ওই নারীকে পালাক্রমে ধর্ষণের পর হত্যা করার কথা আদালতের কাছে স্বীকার করেন।
ওই তিনজন আদালতে হত্যায় জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে জবানবন্দি দেন। আর অন্য দুই আসামী ইব্রাহিম, আল-আমীন পলাতক আছেন। আর ওমর ফারুক জামিনে গিয়ে পলাতক। এ ঘটনায় পরবর্তীকালে পুলিশ ওই পাঁচজনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেন। ২২ জনের স্বাক্ষগ্রহণ শেষে আজ দুপুরে শরীয়তপুর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে এ হত্যা ও ধর্ষণ মামলার রায় ঘোষণা করা হয়।
নিহত ফিরোজা বেগমের ছেলে চিকিৎসক শাহ জালাল হাওলাদার বলেন, আমরা রায়ে খুশি হয়েছি। সরকারের কাছে দাবি দ্রুত যেন এই রায়ে কার্যকর হয়।
শরীয়তপুর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলি অ্যাডভোকেট সানাল মিয়া বলেন, এটি একটি ঐতিহাসিক হত্যাকাণ্ডের রায়। বৃদ্ধা নারীকে গণধর্ষণ করে হত্যার করা হয়েছে। এই মামলায় পাঁচজন আসামীকে মৃত্যুদন্ডের আদেশ দিয়েছেন আদালত। আমরা রাষ্ট্রপক্ষ এই রায়ে সন্তুষ্ট।

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রচার করা হবে না.