
শরীয়তপুরে স্কুল পড়ুয়া শিশু ধ-র্ষ-ণে-র মামলার পালাতক আসামি গ্রেফতার।
শরীয়তপুর জেলা প্রতিনিধি
এবি এম জিয়াউল হক (টিটু):
শরীয়তপুর জেলার গোসাইরহাট উপজেলার ইদিলপুর ইউনিয়নের মাছুয়াখালী গ্রামে এক বাড়িতে মায়ের সাথে গিয়েছিলেন শিশু টি কিন্তু তাকে ভুলিয়ে ভালিয়ে টেলিভিশন দেখানোর কথা বলে বাড়ির ছাদে নিয়ে এক শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগে মামলা হয়।
মামলা হওয়ার পর পালাতক ছিল অভিযুক্ত নাহিদ হাওলাদার। র্যাব ও পুলিশের যৌথ অভিযানে গ্রেপ্তারের পর আদালত তার ১ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছে। গোসাইরহাট থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) পুষ্পেন দেবনাথ রিমান্ড মঞ্জুরের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
বৃহস্পতিবার (১৮ জানুয়ারি) দুপুর বেলায় শরীয়তপুরের চিফ জুডিশিয়াল আমলী আদালত গোসাইরহাটের বিচারক মরিয়ম আক্তার নিপা, অভিযুক্ত নাহিদ হাওলাদারকে ১ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন।
গতকাল বুধবার র্যাপিড অ্যাকশান ব্যাটালিয়ন র্যাব-২ ও গোসাইরহাট থানা পুলিশ যৌথ অভিযান পরিচালনা করেন এবং নাহিদ হাওলাদারকে ঢাকার আগারগাঁও থেকে গ্রেপ্তার করে। নাহিদ হাওলাদার শরীয়তপুরের গোসাইরহাট উপজেলার ইদিলপুর ইউনিয়নের মাছুয়াখালী গ্রামের জসীম হাওলাদারের ছেলে।
ভুক্তভোগীর পরিবার ও মামলা নথি সূত্রে জানা যায়, নাহিদ হাওলাদার নির্যাতনের শিকার ওই শিশুর প্রতিবেশী। গত পহেলা জানুয়ারি সন্ধ্যায় শিশুটির মাকে পিঠা বানানোর জন্য ডেকে নিয়ে যায় নাহিদ হাওলাদারের মা। শিশুটির মা যখন পিঠা বানাচ্ছিলেন, তখন শিশুটিকে টেলিভিশন দেখার কথা বলে দ্বিতীয় তলায় ডেকে নিয়ে যায় নাহিদ। পরে ওই শিশুটিকে ছাদে নিয়ে গিয়ে ভয় দেখিয়ে জোড়পূর্বক ধর্ষণ করে নাহিদ।
এদিকে দীর্ঘ সময় শিশুটিকে দেখতে না পেয়ে ডাকাডাকি করতে থাকে তার মা। পরে ছাদে গিয়ে শিশুটিকে অসুস্থ অবস্থায় দেখতে পায় শিশুর মা, এর পর শিশুটি তার মাকে বিষয়টি খুলে বলে। অভিযুক্ত নাহিদ হাওলাদার প্রভাবশালী হওয়ায় ওই রাতে অসুস্থ শিশুটিকে হাসপাতালে নিতে পারেনি তার পরিবার। পরদিন সকালে প্রথমে গোসাইরহাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে সেখান থেকে উন্নত চিকিৎসার জন্য শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়। অভিযুক্তর পরিবার প্রভাবশালী হওয়ায় ঘটনার পর থেকেই হুমকি ধামকি দিয়ে বিষয়টি গোপন রাখার চেষ্টা করছিল। পরে ভূক্তভোগী শিশুর মা বাদী হয়ে আদালতে মামলা করলে নাহিদ পালিয়ে যায়।
আদালত নাহিদকে গ্রেপ্তারের নির্দেশনা দিলে পালাতক অবস্থায় তাকে আগারগাঁও থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারের পর নাহিদকে আদালতে প্রেরণ করা হলে বাদী পক্ষের আইনজীবী ৫ দিনের রিমান্ড আবেদন করলে, চিফ জুডিশিয়াল আদালত তার ১ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। এ সময় আসামী পক্ষের আইনজীবী রিমান্ডের বিরোধিতা করে জামিন আবেদন করলে আদালত তা নামঞ্জুর করে দেন।
এ বিষয়ে গোসাইরহাট থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) পুষ্পেন দেবনাথ বলেন, র্যাব ও পুলিশের যৌথ অভিযানে ধর্ষণ মামলার পালাতক আসামী নাহিদ হাওলাদারকে গ্রেপ্তার করে আদালতে প্রেরণ করার পর আদালত আসামীকে ১ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন। আশা করছি চাঞ্চল্যকর মামলাটির অনেক কিছুই উদঘাটন করতে পারব।