সবার কথা বলে

নোয়াখালীর সুর্বণচরে মুক্তিযোদ্ধার জমি দখলের চেষ্টা স্থানীয় প্রভাবশালী নেতাদের

0 244

নোয়াখালীর সুর্বণচরে মুক্তিযোদ্ধার জমি দখলের চেষ্টা স্থানীয় প্রভাবশালী নেতাদের।

মোঃএনায়েত হোসেন
নোয়াখালী প্রতিনিধি

নোয়াখালীর সুর্বণচর উপজেলার চরবাটা ইউনিয়নে এক মহিলা মেম্বার থেকে জমি দখল ও চাঁদার দাবি এবং শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের অভিযোগ পাওয়া যায়।

ভোক্তভোগী আলেয়া মেম্বার সুর্বণচর উপজেলার চরবাটা ইউনিয়নের একজন স্থায়ী বাসিন্দা ও শহীদ পরিবারের সন্তান এবং ঐ ইউনিয়নের সাবেক ব্লক মেম্বার।স্থানীয় সূত্রে জানাযায়,মুক্তিযোদ্ধা রুহুল আমিন থেকে আলেয়া বেগম মেম্বার প্রায় ২ একর সম্পত্তির রক্ষণাবেক্ষণ এর লেখিত দায়িত্ব পাওয়ার পরে কিছু কুচক্রী মহল উঠেপড়ে লেগেছে বিভিন্ন কায়দায় মুক্তিযোদ্ধা রুহুল আমিনের জমি দখলের চেষ্টাই। আলেয়া মেম্বার যখন বীর মুক্তিযোদ্ধা রুহুল আমিন থেকে অনুমতি নিয়ে ঐ জায়গায় যখন তার আরেকটি জমি থেকে মাটি এনে ভরাট করে দোকান ঘর তোলা শুরু করেন,তখনই এলাকার কিছু প্রভাবশালী নেতা তার নিকট প্রথমে ঘরের বিটার দাবি করেন। পরে ঘরের বিটা না পাওয়ায় মোটা অংকের টাকার দাবি করে।ভোক্তভোগী এলাকার প্রভাবশালী নেতা হতে একেবারে নিম্ম শ্রেণীর নেতাদের টাকা পয়সা ঠিক মতোই না দিতে পারাই ঐ সকল নেতাকর্মীরা তাদের কৌশলের মাধ্যমে এলাকায় কিছু মহিলা দিয়ে তার স্বামীর সামনে বেদমমার দোর করেন।ভোক্তভোগী এলাকাতে কারো কাছে কোন বিচার না পাওয়ায় হতাশা হয়ে পড়েন।পরে তিনি জেলা প্রশাসক,সুর্বণচর উপজেলা নির্বাহী অফিসার এবং সহকারী কমিশনার ভূমির নিকট অভিযোগ দাখিল করলে তারা তদন্ত করে প্রথমে সঠিক প্রমাণ পাওয়ায় এটা বীর মুক্তিযোদ্ধা রুহুল আমিনের জায়গা। তারপর কাগজপত্র দেখে জমি গুলো সহকারী কমিশনার ভূমি তিনি সরজমিনে নিজে এসে মূল জমির মালিক বীর মুক্তিযোদ্ধা রুহুল আমিনকে ভূমি পরিমাপ করে বুঝিয়ে দেন।পরে কিছু এলাকার কুচক্রী মহল ডিসি,ইউএনও,এসিল্যান্ড,ওসি সহ স্থানীয় চেয়ারম্যান,মেম্বারদের ভুল বুঝিয়ে আলেয়া মেম্বারের উপর নানা ভাবে অত্যাচার শুরু করে ফলে আলেয়া মেম্বার ঐ জমিতে দোকান ঘর করতে বাঁধার মুখে পড়ছেন।এদিকে দোকান ঘরের বিটাই মাটি না ফেলাতে পেরে দোকান ঘর গুলো ভেঙে পড়ে যাচ্ছে বলে অভিযোগ করে আলেয়া মেম্বার।তিনি আরও বলেন আমার সব ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে বলে এমন অভিযোগ করেন।

এছাড়া আলেয়া মেম্বার কিভাবে বীর মুক্তিযোদ্ধা রুহুল আমিনের জায়গা দায়িত্ব নিয়েছে সে সম্পর্কে জানতে চাইলে আলেয়া মেম্বার বলেন,আমিও মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের সন্তান। এছাড়া বীর মুক্তিযোদ্ধা রুহুল আমিন ভাই যখন অসুস্থ হয়ে পড়ে তখন তারা তাদের জমি রক্ষণাবেক্ষণ না করতে পারাই আমাকে লেখিত দেন যে আমার পরিবর্তে তুমি এই জায়গা দেখাশোনা করবে।যেখানে যা প্রয়োজন তুমি কর।যদি কোন খানে অফিস আদালতে সমস্যা হয় তাহলে তুমি আমাকে ফোন দিলে আমি হাজির হয়ে যাবো স্বশরীরে।না হয় ফোনে বলে দিবো।এখন আমি ঐ কাগজ নিয়ে যখন মাটি ভরাট শুরু করি স্থানীয় কিছু প্রভাবশালী নেতা আমার কাছ থেকে প্রথমে ঘরের বিটার দাবি করেন।আমি তাদের ঘরের বিটাও দি এরপরে আমার কাছে চাঁদার দাবি করেন।আমি যখন চাঁদা বা,ঘরের বিটা দিতে রাজি না হয় তখন আমার উপর নানা ভাবে শারীরিক ও মানুষিক নির্যাতন শুরু করে।পরে আমি মাননীয় সংসদ সদস্যকে বিষয়টা জানাইলে তিনি এসে সরজমিনে দেখেন এবং আমাকে নির্দেশ দেন মুক্তিযোদ্ধা রুহুল আমিন আর আমি মিলে যেন এই জায়গাটা ভোগ করি।এরপরেও কিছু স্থানীয় নেতারা আবার এমপি সাহেবকে ভুল বুঝিয়ে দেন যাতে আমার বিরুদ্ধে কাজ করে। আমি তারপরও জোর করে আইনের আশ্রয় নিয়ে জায়গাটা ভরাট করি কিছু ঘর তুলি।ঘর করতে গেলেও আমাকে অনেকে বাঁধা দেয় এসব বাঁধা না শুনে আমি কাজ করে যাচ্ছি।কিছু লোক রাতের আধাঁরে জোরপূর্বক ঘর করতে চাইলে আমি সুর্বণচর ইউএনও এবং চরজব্বর থানার অফিসার ইনচার্জ এর সহযোগিতায় সন্ত্রাসীদের প্রতিহত করি। এখন আমি যাতে সুন্দর ভাবে বসবাস করতে পারি সে জন্য সহযোগিতা চাই প্রশাসন ও আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে।

এদিকে বীর মুক্তিযোদ্ধা রুহুল আমিনের সাথে সরাসরি কথা হলে তিনি জানান,আমি অসুস্থ হওয়ায় আমার ভূয়াঁরহাটের ঐ জায়গাটুকু আলেয়া মেম্বারকে দায়িত্ব দি। কারণ আমি শারীরিক ভাবে অসুস্থ। আমার পক্ষে আসা যাওয়া খুবই কষ্টকর।এখন শুনতেছি ঐ এলাকার কিছু প্রভাবশালী নেতারা নাকি আমার জায়গা জবর দখল করতে চাই।এ বিষয়টা আমাকে বাসায় এসে আলেয়া মেম্বার জানাইলে আমি জেলা প্রশাসকে অবহিত করি তিনি আমাকে বলেছে যথেষ্ট পরিমানে সহযোগিতা করবে বলে আশ্বাস দেন।

অন্যদিকে ভোক্তভোগী আলেয়া মেম্বার অভিযোগ সঠিক কিনা সে বিষয়ে জানতে চাইলে সুর্বণচর উপজেলা নির্বাহী অফিসার আল আমিন সরকার বলেন,আমরা জেলা প্রশাসকের নির্দেশক্রমে আমি সুর্বণচর সহকারী কমিশনার ভূমি কে মুক্তিযোদ্ধা রুহুল আমিনের জায়গাটা সরজমিনে গিয়ে বুঝিয়ে দেয়ার জন্য নির্দেশ দিলে।সহকারী কমিশনার ভূমি সরজমিনে গিয়ে বীর মুক্তিযোদ্ধা রুহুল আমিনের উপস্থিতে জায়গাটা বুঝিয়ে দিয়ে আসে।তখন সেখানে স্থানীয় লোকজনের উপস্থিতির পাশাপাশি আলেয়া মেম্বার ও ছিল।পরে শুনলাম আলেয়া মেম্বারকে বীর মুক্তিযোদ্ধা রুহুল আমিন নাকি লেখিত ভাবে ঐ জায়গার রক্ষণাবেক্ষণ করার জন্য দায়িত্ব দেন।এছাড়া আলেয়া মেম্বার বীর মুক্তিযোদ্ধা রুহুল আমিনের আত্মীয় বলে পরিচয় দেন।আমরা একজন মুক্তিযোদ্ধাকে যতটুকু সহযোগিতা করার প্রয়োজন ততটুকু করেছি প্রশাসনিক ভাবে।প্রয়োজনে আরও করবো।কেউ যদি মুক্তিযোদ্ধার জায়গা দখল করতে চাই তাহলে আমরা আইনগত ভাবে ব্যবস্থা নিবো।

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রচার করা হবে না.