0 262

১৯৭১ সালের ২৩ শে মার্চ এ সারাদেশে পতাকা উত্তোলনে সৈয়দপুরে যাদের ভূমিকা ছিল।
মোঃ মাসুদুর রহমান – (নীলফামারী) প্রতিবেদকঃ
১৯৭১ সালের ২৩ শে মার্চ স্বাধীন বাংলায় দেশের বিভিন্ন স্হানে পতাকা উত্তোলন করা হয়। বাংলাদেশ ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের আহব্বানে আ, স, ম আব্দুর রব ঢাকায় একটি আনুষ্টানিক আয়োজনের মধ্যে দিয়ে পতাকা উত্তোলন করেন। এ অনুপ্রেরনায় বর্তমান নীলফামারী জেলাধীন ( তৎকালীন রংপুর জেলা) সৈয়দপুরের কিছু ছাত্র কর্মি ২২ শে মার্চ রেলওয়ে মাঠে মিলিত হয়ে সিদ্ধান্ত নেন বাংলাদেশের পতাকা উত্তোলন করার। এ ঘটনার প্রত্যক্ষ স্বাক্ষী অন্যতম উদ্যোক্তা আতাউর রহমান ময়না । তিনি ছিলেন বাংলাদেশ ছাত্রলীগের সাংস্কৃতিক সম্পাদক।
তিনি জানান, ২২ শে মার্চ মাগরিবের কিছু আগে কলিম হোটেল সংলগ্ন মোড়ে শহীদ আমিনুল হক আমাদের পেয়ে বসলেন। এক প্রকার জোড় করে শহীদ ডা জিকরুল হকের বাড়িতে নিয়ে গেলেন জিকরুল হক তখন নামাজে দাড়িয়েছেন। আমরা অপেক্ষায়। আমদের ডাকা হল। আমি কাশেম জাকির তার কাছে গিয়ে আমাদের ২৩ শে মার্চের পতাকা উত্তোলনের কথা জানালাম। শহীদ ডা জিকরুল হকের বাড়িতে দেখা হল শেখ লুৎফর রহমানের সাথে। ডা জিকরুল গম্ভীর মুখে চিন্তা করে আমাদের সেদিন রাত ১১ টার সময় দেখা করতে বললেন। আমরা জামে মসজিদেরর সামনে রিয়াসাদ হোটেলে চা নাস্তা সেরে বের হতেই দেখা গেল আফজাল ভাই গোলাহাট থেকে সাইকেল করে শহরে প্রবেশ করছেন। আমাদের আজকের সিদ্ধান্তের কথা জানানো হল তাকে। দৃঢ প্রতিজ্ঞায় কাশেম সবাইকে শপদ করালো, যেকোন মূল্যে ২৩ শে মার্চের পতাকা উত্তোলন করব। শহীদ আমিনুল হকের পুত্র বর্তমান উপজেল আওয়ামীলীগ সাধারন সম্পাদক মহসীনুল হকের বড় ভাই ফেরদৌস নতুন বাবু পাড়ার এক দর্জির কাছ থেকে আনুমানিক ৪ ফুট লম্বা ৪ ফুট চওড়া বাংলাদেশের পতাকা এনে শহীদ ডা জিকরুল হকে র হাতে দিলেন। জিকরুল হকের আঙ্গিনায় পাওয়া গেল ৩০ ফুট বাশ। ফেরদৌস ভাই জোগার করলেন মোটা সুতার দড়ি।
আমরা বাশ ও পতাকা নিয়ে রওনা হলাম ডা জিকরুল হকের চেম্বারের দিকে । বন্ধু কাশেম জিকরুল হকের চেম্বারের সামনে প্রায় ১ ফুট গর্ত করে পতাকা লাগানো বাঁশটি উত্তোলন করল। তখন ছিল ২২ শে মার্চের দিবা গত রাত ১২:৪১ মিনিট। অর্থাৎ ২৩ শে মার্চ।কাশেম নিজেকে আবেগে রাখতে না পেরে জয় বাংলা শ্লোগান দিল। আমরা উপস্হিত সকলে সংযোগ হলাম। শহীদ আমিনুল হক এবং মরহুম শেখ লুৎফর রহমান আমাদের ডেকে বললেন ভোর না হওয়া পর্যন্ত যেন আমরা সবাই এখানে থাকি। কারন পাক দোসররা যে কোন মুহুর্তে এই পতাকা উত্তোলনের আন্দোলনকে ভিন্ন খাতে নিয়ে গিয়ে শহরে বিশৃংখলা সৃষ্টি করতে পারে ।
এভাবে সৈয়দপুরে ২৩ শে মার্চে বেশ কিছু স্হানে পতাকা উত্তোলন করা হয়। শহীদ ডা জিকরুল হকের বাড়িতে পতাকা উত্তোলন করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের তরুন ছাত্রলীগ নেতা শহীদ কুদরত ই এলাহী। গাছে উঠেছিলেন শহিদুল হক। আরো উপস্হিত ছিলেন শহীদ ডা জিকরুল হক ও শহীদ আমিনুল হকের সন্তানরা। পরবর্তিতে খানসেনা ও তাদের দোসরা সেই পতাকা লুকানো খড়ের গাদা থেকে উদ্ধার করে। পতাকা উত্তোলনের অপরাধে কুদরত ই এলাহী ও দর্জিকে হত্যা করা হয়। এছাড়া বাংলা হাইস্কুল মাঠে ও বাংলা হাইস্কুলের উপরে পতাকা উত্তোলন করা হয়।