0 163

নীলফামারীতে গৃহবধূর রহস্য জনক মৃ”ত্যু – এই নিয়ে সৃষ্টি হয়েছে ধুম্রজাল
সংবাদের পাতা – মাসুদুর রহমান:
সৈয়দপুরের মেয়ে নীলফামারী সদর চড়াইখোলা ইউনিয়নের উওর বেংমাড়ী পাড়ায় এমি আকতার রেখা নামের এক গৃহবধূর রহস্যজনক মৃ’ত্যু হয়েছে। হ-ত্যা নাকি আত্ম”হত্যা এ-ই নিয়ে সৃষ্টি হয়েছে ধুম্রজাল। এমির মৃ’ত্যু’র পর থেকে শ্বশুর বাড়ির লোকজনকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না,সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায় তারা উধাও হয়েছে।
গৃহবধূর পরিবারের দাবি, শ্বশুরবাড়ির লোকজন শারীরিক ভাবে নির্যাতন করে হ’ত্যা করা হয় তাকে। বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার জন্য আত্ম”হত্যা বলে ফ্যানের সঙ্গে লাশ ঝুলিয়ে রেখে নাটক সাজানো হয়েছে।
গত বৃহস্পতিবার (১৮ এপ্রিল) বিকেলে নীলফামারীর সদর উপজেলার চড়াইখোলা ইউনিয়নের উওর বেংমাড়ী পাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনার পর থেকে এলাকায় ধমধমে পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে চলছে জল্পনা-কল্পনা।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক পুরুষ ও মহিলা এই মৃত নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেন। তারা বলেন, এমি আকতার একজন ভালো মেয়ে ছিলেন, সে আত্ম”হত্যা কখনো করতে পারেনা। কেমন জানি বিষয়টি রহস্য জনক মনে হচ্ছে। তাই হত্যা নাকি আত্মহত্যা এ-ই নিয়ে সৃষ্টি হয়েছে ধুম্রজাল।
এমির পরিবারের দাবি, নরুল আমিনের বড়ো ভাই আলামিন,ভাবি মিষ্টি বেগম,রুহুল আমিন ও তার স্ত্রী বেবি আকতারসহ ছোট ভাই রাশিদুল ইসলাম সবাই মিলে এলোপাতাড়ি পিটিয়ে নাকে, মাথায়,গলায় আঘাতসহ শারীরিক নির্যাতন করে মেরে ফেলেছে। সেই দিন নুরুল আমিন ঢাকা যাওয়ার কথা বলে এলাকায় আত্মগোপনে ছিলেন দাবি এমির পরিবারের। বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার জন্য ইতিমধ্যে বিভিন্ন মহলে তদবির শুরু করেছেন তারা।ন্যায় বিচার নিয়ে বিপাকে এমির পরিবার।তাই তারা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে সঠিক তদন্ত সাপেক্ষ জড়িতদের দৃষ্টান্ত মূলক শাস্তির দাবি করেছেন।
এবিষয়ে কথা বলার জন্য নুরুল আমিনের বাড়িতে গেলে কাউকে খুঁজে পাওয়া যায়নি। তাই তাদের মন্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সৈয়দপুর উপজেলার খাতামধুপুর ইউনিয়নের মুশরত ঢুলিয়া সরদার পাড়া গ্রামের এজাজুল হকের মেয়ে এমি আকতারের সঙ্গে প্রায় ২ বছর আগে নীলফামারী সদর উপজেলার চড়াইখোলা ইউনিয়নের বেংমারী উত্তর পাড়া গ্রামের আবেদ আলীর ছেলে নুরুল আমিনের সহিত বিয়ে হয়।বিয়ের পর থেকে এমি আকতারের স্বামী ঢাকায় একটি প্রাইভেট চাকুরী করেন।ঈদের ছুটিতে বাসায় আসলে বিভিন্ন বিষয়ে তাদের মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়েছে বলে দাবি এমির পরিবারের। তাদের একটি ফুটফুটে ১ বছরের দুধের মেয়ে বাচ্চা রয়েছে।
নীলফামারী সদর থানার পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের দায়িত্বরত অফিসার এস আই মোঃ আবু তালেব আকন্দ সাংবাদিকদের বলেন, তিনি ঘটনাস্থলে পৌঁছে মৃত এমির দেহ ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান এবং লাশ ময়না তদন্তের জন্য উদ্ধার করে মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়না তদন্ত শেষে এমির পরিবারের কাছে লাশ হস্তান্তর করা হয়।
নীলফামারীর সদর থানার অফিসার ইনচার্জ তানভিরুল ইসলাম বলেন,লাশ ময়না তদন্ত শেষে পরিবারের কাছে হস্তান্তরসহ একটি অপমৃত্যু মামলা করা হয়েছে।ময়না তদন্তের রিপোর্ট আসলে মৃত্যুর আসল রহস্য জানা যাবে।পরবর্তীতে আইনি ব্যবস্তা নেওয়া হবে।