
গলাচিপায় সরকার পরিবর্তনে জমি জবরদখলের অভিযোগ।
মু. জিল্লুর রহমান জুয়েল:
সরকারের ক্ষমতার পালাবদলের সুযোগে জমির মালিকানা না থাকা সত্বেও ক্ষমতার দাপট, পেশি শক্তির ব্যবহার ও আদালতের আদেশ অমান্য করে পটুয়াখালীর গলাচিপার চরকাজলের চর কপালবেড়ায় জমি জবরদখল করে চাষ ও বীজ বপন করা হয়েছে। উপকূলীয় দ্বীপাঞ্চলে অবস্থিত দুটি ইউনিয়ন চরকাজল ও চরবিশ্বাস, যার চারপাশ নদী দ্বারা বেষ্টিত। আইন শৃঙ্খলা রক্ষার্থে চরকাজলে একটি অস্থায়ী পুলিশ ক্যাম্প ছিল। সরকার পরিবর্তনে পুলিশের নিরাপত্তার স্বার্থে অস্থায়ী পুলিশ ক্যাম্পটি প্রত্যাহার করার সুযোগে এ ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগ পাওয়া যায়।
আদালত সূত্রে জানা যায়, উপজেলার চরকাজলের চর কপালবেড়ার বাসিন্দা লতিফ হাওলাদারসহ ২৪ জন বাদী হয়ে বিবাদী জহির হাওলাদারসহ ১১জনের বিরুদ্ধে গত ১২ মার্চ ২০২৩ ইং বিবাদী পক্ষের জমির কাগজ পত্রের সাথে মিল নেই এরকম ভূয়া কাগজপত্র দাখিল করে, জেএল নং ১৬৪, মৌজা-চর কপালবেড়া, এসএ খতিয়ান নং ৬৫০, ৬৫১, ১৬৯, ১৭৪, ৬৫৩, ৪৭৮, ৪৩১ ও দাগ নং ৭৯১, ৯২২, ৯২৩, ৯২৫, ৯২৬, ৯২৭, ১৬৭৩, ১৬৭৪, ১৬৭৫, ১৬৭৭, ১৬৮৩, ১৬৮৪, ১৬৮৫, ১৬৯৮/১-১৬৯৮ এসব দাগের জমি দাবি করে সহকারী জজ আদালত, গলাচিপা, পটুয়াখালী বরাবরে একটি মামলা দায়ের করে। যার মামলা নম্বর -৯৫/২০২০। মামলার শুনানিতে উভয় পক্ষ ভিন্ন ভিন্ন ভাবে নিষেধাজ্ঞার আদেশ দাবি করেন বিজ্ঞ আদালত । আদালত উভয় পক্ষে যুক্তিতর্ক ও কাগজপত্র পর্যালোচনা সাপেক্ষে বাদী পক্ষের দাবি খারিজ করে বিবাদী পক্ষে জমির মালিকানার আদেশ প্রদান করেন।
পরে এই আদেশকে চ্যালেঞ্জ করে বাদী লতিফ হাওলাদারসহ ৪০ জন বাদী হয়ে জহির হাওলাদারসহ ১১ জনের বিরুদ্ধে পূণরায়, যুগ্ম জেলা জজ আদালত-৩, পটুয়াখালী, বরাবরে আপিল দায়ের করেন। যার নম্বর -২৫/২০২৩। সেখানেও নিম্ন আদালতের আদেশ বহাল রেখে গত ৪ জুন ২০২৪ ইং রায় প্রদান করে।
এ বিষয়ে জমির মালিক জহির হাওলাদারসহ বেশ কয়েকজন জানান, আমরা দীর্ঘদিন ধরে এই জমি ভোগদখল করে আসছি। এখানে একটি বসতঘরও রয়েছে। জমি চাষাবাদের জন্য আমরা বীজতলা তৈরি করে ধান ফেলে বীজ ফলাই। মিথ্যা মামলার বাদী লতিফ হাওলাদারদের পরোক্ষ সহযোগিতায় তৃতীয় পক্ষ ক্ষমতার প্রভাব ও পেশিশক্তি ব্যবহার করে জোরপূর্বক ১০ আগষ্ট ২০২৪ইং চাষাবাদ ও আমাদের উৎপাদিত বীজ তুলে সেই বীজই বপন করে।
জবরদখলকারীরা হলো, উপজেলার চরকাজল ইউনিয়নের চরকপালবেড়া গ্রামের দিলু মোল্লার ছেলে লতিফ মোল্লা, মৃত ইদ্রিস শিকদার এর ছেলে কবির শিকদার, মৃত সহর আলীর ছেলে দিলু মোল্লা ও নুরু শিকদার এর ছেলে রফিক শিকদারসহ আরও নাম না জানা অজ্ঞাত ২৫ থেকে ৩০ জন ছিল। আমরা সরকার পরিবর্তনে পুলিশের সহযোগিতা পাইনি। জবরদখলকারীদের হাত থেকে আমাদের জমি মুক্ত করার জন্য প্রশাসনের সহায়তা কামনা করছি।
এ বিষয়ে জোরপূর্বক জমি চাষের সাথে জড়িত লতিফ মোল্লাসহ বেশ কয়েকজনের সাথে যোগাযোগ করার চেষ্টা করেও তাদের কাউকে পাওয়া যায়নি।