সবার কথা বলে

শরীয়তপুরে নদী থেকে আওয়ামী লীগ নেতার অবৈধ বালু উত্তোলন

0 93

শরীয়তপুরে নদী থেকে আওয়ামী লীগ নেতার অবৈধ বালু উত্তোলন।

নিজেস্ব সংবাদদাতা – সংবকদের পাতা:

শরীয়তপুরের ভেদরগঞ্জ উপজেলার কীর্তিনাশা নদের দুই পাড় থেকে অবৈধভাবে চলছে বালু উত্তোলন। নদীর দুই পাড় থেকে বালু উত্তোলন করছেন উপজেলার চরসেনসাস ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সদস্য মিজান সিকদার। অপরিকল্পিত ভাবে বালু উত্তলনের ফলে নদের দুই পাড়ে ভাঙন দেখা দিয়েছে। প্রশাসনের কাছে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনকারী মিজান সিকদারের তালিকা থাকলেও আওয়ামী লীগ নেতা ‘বালুখেকো’ মিজান সিকদারকে ধরতে চোর-পুলিশ খেলা খেলছেন প্রশাসন।

এমন অবস্থায় বালু উত্তোলনের কারণে হুমকির মুখে পড়েছে নদের পাড়ের শতাধিক বসতবাড়ি, ফসলি জমি, মহাসড়কসহ একাধিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রকাশ্যে মিজান সিকদার বালু উত্তোলন করলেও তা বন্ধে প্রশাসনের তেমন ভূমিকা নেই।

জানা গেছে, ভেদরগঞ্জ উপজেলার সখিপুর থানার নতুন বালার বাজার এলাকার আজাহারুল বালা কান্দী দুটি পয়েন্ট থেকে কার্টার ড্রেজার দিয়ে কীর্তিনাশা নদীর তীর থেকে প্রতিদিন কয়েক লাখ ঘনফুট বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। রাতদিন সমানতালে অবৈধভাবে ওই নদী থেকে বালু উত্তলন করা হচ্ছে। স্থানীয় রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে অবৈধ বালু ব্যবসায়ী মিজান সিকদার সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে ম্যানেজ করে হাতি নিচ্ছেন লাখ লাখ টাকা।

স্থানীয়রা জানান, ড্রেজার দিয়ে বালু মাটি উত্তোলন অব্যাহত থাকলে এ বর্ষায় নদীর পাড় এলাকার ফসলি জমি, ঘর-বাড়িসহ সরকারি স্থাপনা মারাত্মকভাবে নদী ভাঙনের কবলে পড়বে। এসব বালু মাটি ব্যবসায়ীরা স্থানীয় এবং প্রভাবশালী হওয়ায় কেউ কোনো প্রতিবাদ করার সাহস পায় না।

বালার বাজার এলাকার বাসিন্দা আমেনা আক্তার বলেন, ‘সব সময় নদীর নিচু এলাকা দিয়েই পানির প্রবাহ বইতে থাকে। তাই বর্ষার সময় পানির প্রবল স্রোতে নদীর পাড় এলাকায় ভাঙন দেখা দিতে পারে। একবার ভাঙন শুরু হলে আশপাশের গ্রামগুলো নদীতে বিলীন হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনায় এলাকাবাসীর মধ্যে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে।’

বালা কান্দী এলাকার বাসিন্দা নুর আলম বলেন, ‘ড্রেজার দিয়ে মাটি কাটার কারণে বর্ষা এলেই নদীর পাড়ে ভাঙন শুরু হয়। তখন আমাদের রাতের ঘুম হারাম হয়ে যায়। স্থানীয় মিজান সিকদার ও হারুন বেপারী  প্রভাব খাটিয়ে নদী থেকে অবৈধভাবে মাটি কেটে বিক্রি করছে। ভয়ে সাধারণ লোকজন তাদেরকে কিছুই বলতে সাহস পায় না।’

মানবাধিকারকর্মী এস.এম রাশেদুল ইসলাম বলেন, বেশ কিছুদিন ধরে ভেদরগঞ্জ উপজেলার নদী ও কৃষি জমি থেকে অবাধে বালু উত্তোলন করে মাসে কোটি টাকার ব্যবসা করছেন অসাধু ব্যবসায়ীরা। এর সঙ্গে জড়িত আছেন রাজনৈতিক ব্যক্তি, জনপ্রতিনিধি, অসাধু সরকারি কর্মচারীসহ অনেকে। রাশেদুল ইসলাম আরও বলেন, প্রকাশ্যে বালু উত্তোলন করে উপজেলার বিভিন্ন পয়েন্টে বিক্রি করা হচ্ছে। প্রতি মাসে অবৈধভাবে কোটি কোটি টাকা নিয়ে যাচ্ছেন বালু ব্যবসায়ীরা। তবুও প্রশাসন নিশ্চুপ।

এবিষয়ে ড্রেজার ব্যবসায়ী আওয়ামী লীগ নেতা মিজান সিকদার বলেন, মৌখিকভাবে আমাদের ব্যবসা পরিচালনা করার সুযোগ করে দিয়েছে প্রশাসন। সবাইকে ম্যনেজ করে কাজ করি। আপনি বিকাশ নাম্বার দিয়েন পাঠিয়ে দিবো। এখন বিজি আছি পরে কথা বলবো।

শরীয়তপুরের জেলা প্রশাসক (ভারপ্রাপ্ত) সাদিয়া জেরিন মুঠোফোনে বলেন, অবৈধ বালু উত্তোলনকারীদের তালিকা করে নিয়মিত মামলার আওতায় আনার জন্য উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেয়া হয়েছে। ইতিমধ্যে যৌথবাহিনির সাথে কথা হয়েছে খুব শিগগিরই বালু উত্তোলনকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। পাশাপাশি ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা অব্যাহত থাকবে।

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রচার করা হবে না.