0 45

“৫ই আগস্টের বিতর্কিত ভূমিকার জন্য ক্ষমা প্রার্থনা” কলেজের অধ্যক্ষ (ভারপ্রাপ্ত) শহিদুল ইসলাম।
মোঃ জাহিদুল ইসলাম – সোনাইমুড়ি (নোয়াখালী):
সোনাইমুড়ি সরকারী কলেজের অধ্যক্ষ (ভারপ্রাপ্ত) শহিদুল ইসলাম আজ ১৭ নভেম্বর, ২০২৪ খ্রিঃ রোজ রবিবার তার ফেসবুক বেরিফাইড আইডি থেকে লাইবে এসে বলেন, “গত ৫ ই আগস্ট ২০২৪ এ সারা দেশব্যাপী বিপ্লবের সময় থেকে সোনাইমুড়ি সরকারি কলেজের ছাত্রছাত্রী ও আমার সাথে একটি অনাকাঙ্ক্ষিত ও অপ্রত্যাশিত সম্পর্ক বিরাজমান। আমার প্রিয় ছাত্র-ছাত্রীদের সাথে এই ভুল বুঝাবুঝির জন্য কলেজের একজন বয়স্ক শিক্ষক ও একজন অভিভাবক হিসাবে আমি মনে করছি এর দায়ভার বেশির ভাগই আমার” তিনি আরো বলেন,”আন্দোলন চলাকালীন সময়ে ছাত্রছাত্রীদের প্রত্যাশা অনুযায়ী আমি হয়তো তাদের সাথে যোগাযোগ স্থাপন করে একটা সুস্থ পরিবেশ তৈরিতে আমার দূরদর্শিতা প্রমাণ করতে পারিনি। তার জন্য আমি আন্তরিকভাবে দুঃখ প্রকাশ করছি” এই সময় তিনি তিনি তার বিরুদ্ধে আনিত একছাত্রীর সাথে অনৈতিক আচরনের বিষয়ে বলেন,”আমার ডিগ্রি প্রথম বর্ষের ছাত্রী নূর নীলার সাথে বিভিন্ন সময়ের কথোপকথনে একজন শিক্ষক হিসেবে আমার কিছু ভুল ছিল। ছাত্রী হিসেবে যেমন সে আমার কন্যা সমতুল্য, তেমনি শিক্ষক হিসেবেও আমি তার পিতার সমতুল্য এই বিবেচনায় তার প্রতি আমার আরো অনেক বেশি সদয় ও সচেতন হওয়া উচিত ছিল” এই সময় তিনি ছাত্রী নুর নীলা সম্পর্কে বলেন, “আমার জানামতে নুর নীলা একটি ভালো পরিবারের সন্তান, এত বছর কলেজ চলাকালীন আমি তার চারিত্রিক মানসিক আর্থিক নৈতিক দৈন্যতার ছাপ খুঁজে পাইনি। সে অত্যান্ত বাধ্য, বিনয়ী, অনুগত, সাংস্কৃতিমনা মেধাবী ছাত্রী। একজন সত্যবাদী এবং স্পষ্টবাদী ছাত্রী হিসেবেই বরং পরিচিত কিন্তু দুঃখের বিষয় হল, আন্দোলন চলাকালীন সময়ে আমার অজান্তে, আমার নাম ব্যবহার করে হয়তো আমার কিছু শুভাকাঙ্ক্ষী সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নুর নীলা সম্পর্কে বিভিন্ন ধরনের অশ্লীল ভাষায় গালিগালাজ করে পোস্ট করেছে, ফোনে খারাপ ব্যবহার করেছে। আমি এজন্য তাদের প্রতি তীব্র নিন্দা ও ঘৃণা জানাচ্ছি। পাশাপাশি বিষয়টি নিয়ে আমি আন্তরিকভাবে দুঃখ প্রকাশ করছি” তিনি সবার প্রতি অনুরোধ করে বলেন, “যে বা যারা তার বিরুদ্ধে এই ধরনের কথা ছড়াচ্ছেন তারা যেন এই ধরনের কাজ থেকে বিরত থাকেন। আন্দোলন চলাকালীন সময়ে নুর নীলা কিংবা তার পরিবারের কেউ অথবা তার সাথে যারা আন্দোলনে যুক্ত ছিল এমন কেউ কোনদিন কখনো আমার কাছ থেকে কোন আর্থিক সুবিধা গ্রহণ বা দাবি করে নাই। বরং নুর নীলার স্বামীকে আমি কলেজের প্রয়োজনে অতিথি শিক্ষক সময় দেয়ার জন্য অনুরোধ করলেও সে অপারগতা প্রকাশ করেছিল।” এই সময় তিনি তিনি তার বিরুদ্ধে আন্দোলনরত ছাত্র-ছাত্রীদের উদ্দেশ্য করে বলেন, “আমার কথোপকথনে, আচরণে, কোন চ্যাটিংয়ে নুর নীলা সহ তার বন্ধু-বান্ধব কিংবা আমার কোন ছাত্রছাত্রী, আন্দোলনে অংশগ্রহণকারী ছাত্রছাত্রীদের কেউ কষ্ট পেয়ে থাকলে আমি তাদের কাছে আবারো দুঃখ প্রকাশ করছি। আমি তাদের পিতার সমতুল্য শিক্ষক হিসাবে কলেজের শিক্ষার পরিবেশ ফিরিয়ে আনার অঙ্গীকার করছি। ইনশাল্লাহ আমি একটা সুন্দর পরিবেশ সৃষ্টি করতে সর্বোচ্চ সহযোগিতা করব। প্রয়োজনে তারা যদি নতুন অধ্যক্ষ এনে কলেজের সুষ্ঠু পরিবেশ বজায় রাখার উদ্যোগ নেয় আমার পক্ষ থেকে কোন বাধা আসবেনা বরং আমি তাদের সার্বিক সহযোগিতা করব।”