
গলাচিপায় ৪৮ কেজিতে মন; লাভের অংশ আড়ৎদার সেন্ডিকেটের দখলে !
মু. জিল্লুর রহমান জুয়েল – সংবাদের পাতা:
দেশের জি,ডি,পি অর্জনের দক্ষিণ অঞ্চলকে শস্য ভাণ্ডার বলে ঐতিহ্য রয়েছে। যার অধিকাংশ’ই লাভের মূল অংশ আড়ৎদার বা সেন্ডিকেট পাইকারিদের দখলে।
পটুয়াখালী জেলার বিভিন্ন উপজেলা ঘুরে জানা গেছে, আমন ও ইরি মৌসুমে ধানের চাষাবাদে বাম্পার ফলন হয়েছে, যা বিগত দশ বছরেও এমন ফলন উৎপাদিত হয়নি।
প্রান্তিক পর্যায়ে কৃষকের আমন এবং ইরি মৌসুমে কড়া বা শতাংশ অনুপাতে খরচ হলেও পাইকারি সিন্ডিকেটের কারনে ৪৮ থেকে ৫০ কেজিতে এক মন হিসেবে কৃষকের কাছ থেকে ধান ক্রয় করে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে পাইকারি সিন্ডিকেট।
সরকারি নিষেধাজ্ঞা থাকলেও বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে গলাচিপা, রাঙ্গাবালী ও দশমিনা উপজেলার হাটবাজারে ঘুরে বিভিন্ন প্রান্তিক কৃষকদের সাথে কথা বলে দেখা গেছে এক এক জন ৪৮/৪৯ কেজি হিসেবে ধান ক্রয় করছেন। তারা জানান, পাইকারিরা সিন্ডিকেট তৈরী করে ৪৮ কেজিতে এক মন প্রতি বিভিন্ন জনের মাধ্যমে ক্রয় করছে বিভিন্ন পাইকারি বা আড়ৎদাররা। এতে করে সহ রাইস মেইল এর মালিক পক্ষ কৃষকের কষ্টার্জিত ফসলের মূল্য থেকে বঞ্চিত হচ্ছে প্রতি বছর। আর এ ধরনের পুকুর চুরি করে লাখ লাখ টাকা কামিয়ে আঙ্গুল ফুলে কলাগাছ বনে যাচ্ছে।
গলাচিপা, দশনিনা ও রাঙ্গাবালী উপজেলার বেশ কিছু ধানের হাটবাজারে খোজঁ নিয়ে জানা গেছে, এক এক হাটবাজারে এক এক ধানের মূল্য নির্ধারণ করে কৃষকের কাছ থেকে ৪৮/৪৯ কেজিতে এক মন হিসে ধান ক্রয় করে ১ হাজার, ১১’শ সর্বচ্চ ১২শ ৫০ টাকায় মন হিসেবে দেশের বিভিন্ন প্রান্তের রাইস মিলে পাঠিয়ে দিচ্ছেন এক দল পাইকারি আড়ৎদার বা সেন্ডিকেট মহল। এতে কৃষকের ক্ষতি হলেও লাভের মূল অংশ সেন্ডিকেটের পাইকারিদের দখলে।
এবিষয়ে বাংলাদেশ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের পটুয়াখালীর খামারবাড়ি’র উপ-পরিচালক মোঃ নজরুল ইসলাম বলেন, ৪৮ কেজি হিসেবে ধান, ডাল, গম, ইত্যাদি শস্যপণ্য ক্রয় বিক্রয় বাংলাদেশর কোথায়ও খুঁজে পাওয়া যায়নি। একদল অসাধুপায়ী ব্যাবসায়ী মহল এ কাল্পনিক নিয়োম তৈরী করে প্রান্তিক চাষিদের রক্ত চুষে খাচ্ছে। এ বিষয়ে আমরা সতর্ক রয়েছি। কোন ব্যাবসায়ী যদি ৪০ কেজির বাহিরে ৪৬ এবং ৪৮ কেজি হিসেবে এক মন হিসেবে ক্রয় -বিক্রির করে? তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা করা হবে।
পটুয়াখালীর জেলা প্রশাসক আবু হাসনাত মোহাম্মদ আরিফিন, জানান, ৪০ কেজি হিসেবে ধান, ডাল সহ রবি শস্যপণ্য ক্রয় বিক্রয়ের সরকারি ভাবে নির্দেশনা রয়েছে। এ নির্দেশনার বাহিরে যে সকল পাইকারি আড়ৎদাররা ৪৮ কেজিতে ‘মন’ এ কাল্পকানী বা সেন্ডিকেটদের মাধ্যমে ধান ক্রয় – বিক্রয় করছেন, তাদের শনাক্ত করার উপজেলা প্রশাসক ও কৃষি অফিসারদের আইন দণ্ডবিধি’র আওতায় মোবাইল কোর্ট এর মাধ্যমে অর্থ জরিমানা সহ জেল হাজতের নির্দেশ প্রদান করা হয়েছে।