
নড়িয়ায় শিক্ষার্থীদের পরীক্ষা দিতে বাধা প্রদান করায় মানববন্ধন।
মোঃ জামাল হোসেন-সংবাদের পাতা:
শরীয়তপুরের নড়িয়ায় শিক্ষার্থীদের পরীক্ষায় এবং স্কুলে যেতে বাধা প্রদান করায় মানব বন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার বিকেল চার টায় উপজেলার সুরেশ্বর-ইছাপাশা গ্রামে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।
সরেজমিনে গিয়ে জানা যায়, একটি তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় একটি সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে, যা এলাকার শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গুলোর পরিবেশকে অশান্ত করে তোলে। সুরেশ্বর উচ্চ বিদ্যালয় ও মহাবিদ্যালয় এবং ইছাপাশা ও পশ্চিম সুরেশ্বর প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা এই ঘটনার শিকার হয়েছে বলে জানিয়েছেন এলাকাবাসী।
এতে শিক্ষার্থীদের পরীক্ষায় বাধা দেওয়া, তাদের ওপর শারীরিক হামলা এবং ইভটিজিংয়ের মতো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এর ফলে শিক্ষার্থীরা তাদের বার্ষিক পরীক্ষা দিতে পারেনি, এবং পরীক্ষার নির্ধারিত সময়ও শেষ হয়ে গেছে।
তাই এই ঘটনার প্রতিবাদে শিক্ষার্থী, অভিভাবক এবং ইছাপাশা ও পশ্চিম সুরেশ্বর গ্রামের স্থানীয় লোকজন একটি মানববন্ধন করেছেন। মানববন্ধনে স্থানীয় লোকজন, শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও সচেতন নাগরিকরা অংশগ্রহণ করেন।
এতে তারা জানান, এ ধরনের সহিংসতা এবং অপ্রীতিকর আচরণ শুধু শিক্ষার্থীদের ওপর শারীরিক ও মানসিক প্রভাব ফেলছে না, এটি শিক্ষার পরিবেশকেও চরমভাবে ব্যাহত করছে।
তবে সুরেশ্বর উচ্চ বিদ্যালয় ও মহাবিদ্যালয়ের অধ্যক্ষের সাথে যোগাযোগ করলে তিনি জানান, যেসব শিক্ষার্থীরা পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে পারেনি, উপজেলা শিক্ষা অফিসারের সাথে কথা বলে তাদের পরীক্ষা দেওয়ার ব্যবস্থা করা হবে।
মানব বন্ধনে শিক্ষার্থীরা বলেন,এলাকায় একটি মারামারি হয় গত ৩ ডিসেম্বর, এতে করে সেই প্রভাব আমাদের উপর এসে পড়েছে।এখানে আমাদের অপরাধ কি,সুরেশ্বর গ্রামের কিছু বখাটে ছেলেরা আমাদের স্কুলে যেতে দেয় না,এবং কি বার্ষিক পরীক্ষাও দিতে দেয়নি,বলেছে যদি আমরা স্কুলে যাই তাহলে আমাদের প্রাণে মেরে ফেলবে। এখন আমরা যে পরীক্ষা দিতে পারলাম না এখন আমাদের কি হবে। আমরা চাই পরীক্ষা দিতে এবং এ সমস্ত খারাপ বখাটে ছেলেদের কঠিন বিচার করা হোক।
এ ছাড়াও মানববন্ধনে উপস্থিত জনগণ প্রশাসনের কাছে দ্রুত সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানিয়ে বলেন, অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা না হলে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে সুষ্ঠু পরিবেশ ফিরিয়ে আনা সম্ভব হবে না। পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের পরীক্ষার স্বাভাবিক পরিবেশ নিশ্চিত করার এবং ইভটিজিংসহ সন্ত্রাসী কার্যকলাপ বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়।
শিক্ষার্থীদের অভিভাবকরা জানান, এই তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পরিবেশ অস্থিতিশীল করা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। প্রশাসনকে এ বিষয়ে দ্রুত পদক্ষেপ নিতে হবে এবং শিক্ষার্থীদের শিক্ষা কার্যক্রম সুরক্ষিত রাখতে হবে।আর যে সমস্ত খারাপ বখাটে ছেলেরা এর সাথে জড়িত তাদের কঠিন বিচার করতে হবে।