
হাতিয়ায় ধাওয়ার মুখে অপহরণ করা আওয়ামী লীগ নেতার মেয়েকে রেখে পালাল বিএনপি নেতার ছেলে।
রাশেদুল ইসলাম – সংবাদের পাতা:
নোয়াখালীর হাতিয়ায় বিয়ের প্রস্তাব প্রত্যাখান করায় বাড়ি থেকে আওয়ামী লীগ নেতার মেয়েকে অপহরণ চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে এক বিএনপি নেতার ছেলের বিরুদ্ধে। অভিযুক্ত আরিফ হোসেন উপজেলার নিঝুমদ্বীপ ইউনিয়ন বিএনপির সহ-সভাপতি মো. সাহেদ মেম্বারের ছেলে।
শনিবার (২২ মার্চ) রাতে উপজেলার নিঝুমদ্বীপ শতফুল বাজারের পাশে এ ঘটনা ঘটে।
জানা যায় – অপহরণ করে নিয়ে যাওয়ার সময় এলাকাবাসী ধাওয়া দিলে অপহরণকারীরা মেয়েটিকে রেখে পালিয়ে যায়। পরে আহত অবস্থায় ওই ছাত্রীকে উদ্ধার করে এলাকাবাসী।
স্থানীয়রা জানান, শনিবার রাতে মুখোশধারী কয়েকজন যুবক এসে আ.লীগ নেতার বাড়িতে হানা দেয়। তারা পরিবারের সবাইকে জিম্মি করে একপর্যায়ে মেয়েটিকে অপহরণ করেন।
এ সময় বাঁধা দিতে গেলে মেয়ের মা ও স্বজনদের পিটিয়ে আহত করেন অপহরণকারীরা।
অপহরণকারীরা মেয়েটিকে নিয়ে ঘর থেকে বেরিয়ে গেলে পরিবারের লোকজন চিৎকার করলে এলাকাবাসী এগিয়ে আসেন এবং তাদের চিৎকারে অপহরণকারীদের ধাওয়া দেয়। পরে অপহরণকারীরা মেয়েটিকে খাল পাড়ে রেখে পালিয়ে যায়।
শতফুল বাজার মসজিদের ইমাম মাওলানা আফসার এই বিষয়ে গণমাধ্যমকে জানান, রাতে তারাবির নামাজ শেষে মেয়েটির বাড়িতে যান তিনি। এ সময় মেয়েকে ঘরের মধ্যে অজ্ঞান অবস্থায় দেখতে পান মসজিদের ইমাম।
স্থানীয়সূত্রে জানা যায়, কিছুদিন আগে এই ছেলের সঙ্গে মেয়েটির বিয়ের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল। মেয়ের পরিবার তা প্রত্যাখ্যান করেন। এজন্য ক্ষিপ্ত হয়ে তারা এই ঘটনা ঘটিয়েছে। তবে নিঝুমদ্বীপের ইতিহাসে এটি একটি বিরল ঘটনা বলে মনে করছেন স্থানীয় গণ্যমান্য রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গরা। দেশের আইনশৃঙ্খলা নেই বললেই চলে। মেয়ের বাবা আওয়ামী রাজনীতির সঙ্গে জড়িত বলে তারা এই ঘটনাটি ঘটানোর সাহস পেয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এদিকে ঘটনার পরপরই বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার জন্য ছেলের বাবা সাহেদ মেম্বার, নিঝুমদ্বীপ ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আনোয়ার মেম্বার, যুবদলের সভাপতি আশ্রাফ, ইব্রাহিম পার্টিসহ বিএনপির একটি দল মেয়েদের বাড়িতে আসেন। তারা এই ঘটনার জন্য দুঃখ প্রকাশ করেন। এবং বিষয় টি গণমাধ্যম সহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নিকট অভিযোগ দিতে একাধিক বার নিষেধ করা হয়।
এ বিষয়ে নিঝুমদ্বীপ ইউনিয়ন যুবদলের সভাপতি আশ্রাফ জানান, তারা এখন মেয়েদের বাড়িতে অবস্থান করছেন। ঘটনাটি মীমাংসার চেষ্টা চলছে। মেয়েকে এই ছেলের সঙ্গে বিয়ে দেওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।
এ ঘটনায় নিঝুমদ্বীপে থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে। অনেকে এই ঘটনার বিচার চেয়ে বিক্ষোভ সমাবেশ করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। তবে অভিযুক্তরা বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে জড়িত থাকায় কেউ সরাসরি প্রতিবাদ করার সাহস পাচ্ছেন না।
এ বিষয়ে মেয়ের বাবা বলেন, ‘আমার মেয়ে এখনো অজ্ঞান আছে। রাতে ডাক্তার এনে তাকে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। রাতে ছেলের বাবা এসে বিয়ের প্রস্তাব দেন। আমি তা প্রত্যাখান করেছি। এত বড় একটা ঘটনা ঘটানোর পরও তারা এই ছেলের-মেয়ের বিয়ের চিন্তা কীভাবে করে, আমি বুঝতে পারছি না।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমি আল্লাহর কাছে বিচার দিয়েছি। রাত থেকে শুধু হুমকি দেওয়া হচ্ছে। আমি পরিবার নিয়ে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি।’
ছেলের বাবা অপহরণের বিষয়টি অস্বীকার করে বলেন, ‘মেয়ের বাড়ির কাছাকাছি একটা ভুল বোঝাবুঝি হয়েছে। আমরা খবর পেয়ে মেয়েকে তার বাড়িতে পৌঁছে দিয়েছি।’
ঘটনার বিষয়ে হাতিয়া থানা পরিদর্শক (তদন্ত) খোরশেদ আলম বলেন, ‘ঘটনাটি আমি জেনেছি, মেয়েটিকে অপহরণ করে নেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছিল। কিন্তু নিতে পারেনি। মেয়েটি বর্তমানে তার বাড়িতে আছে। পরিবারের পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ পেলে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’