সবার কথা বলে

আবিরের ঈদ

0 5

আবিরের ঈদ
আসাদ সরকার

ঈদ মানে হাসি, আর ঈদ মানে খুশি, কিন্তুু কারো কারো জীবনে ঈদ খুশির পরিবর্তে অনেক কষ্টের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। তারা সারাজীবন মনের ভিতর কষ্ট পুষে রাখে। সামনে রোজার ঈদ। ঈদের আগে সবাই কেনাকাটায় ব্যস্ত।বলতে গেলে কেনাকাটার ধুম পড়েছে। বাদ নেই ছোট্ট শিশুরাও।  আবির পঞ্চম শ্রেণিতে পড়ে। ক্লাসের বন্ধুরা নতুন জমা কিনে ফেলছে। কিন্তু আবিরের এখনও কেনা হয়নি। বন্ধুরা প্রায় জিজ্ঞাসা করে,  কি রে আবির এবার ঈদে কি কিনছস? কবে কেনাকাটা করবি? এবার সবাই মিলে অনেক দূরে ঘুরতে যাবো। তুই কিন্তু এবার না করতে পারবি না। প্রয়োজন হলে আমরা কাকি মাকে বুঝিয়ে বলবো। সবাই মিলে অনেক মজা করবো। ঈদের দুইদিন পরে যাবো।  তুই, আমি শাকিব, সামিউ রিফাত, শায়ন,তামিম, আলিফ, নেয়ামুল।  আবির কিছু  না বলে, চুপচাপ বসে থাকে। আবির ক্লাসের ফাস্ট বয়। পড়াশোনায় অনেক ভালো। স্কুলের সকল শিক্ষক আবিরকে অনেক আদর করে। কিছু দিন আগে তার বাবা সড়ক দুর্ঘটনায় মারা গেছে।  দুই ভাই দুই বোনের সংসার। একমাত্র বাবার উপার্জনে চলতো তাদের সংসার। বাবার মৃত্যু পর থেকে সংসার চালাতে হিমসিম খাচ্ছে তার মা। আবিরের বড় বোন এই বার এস এস সি পরীক্ষা দিবে। পড়াশোনার পাশাপাশি বাড়িতে দর্জির কাজ করে মাকে সহযোগিতা করে যাচ্ছে এবং নিজের পড়াশোনা খরচ বহন করছে। তার পরেরজন অষ্টম শ্রেণিতে পড়ে। আবির বাবা মায়ের তৃতীয় সন্তান। আবিরের ছোটজন ক্লাস ওয়ানে পড়ে। নতুন জমা কেনার মত অবস্থা নেই তাদের পরিবারের কারও। স্কুল থেকে বাড়ি ফিরে প্রতিদিন আবির মায়ের কাছে নতুন জামা কিনে দিতে বায়না ধরে, কান্নাকাটি করে নতুন জামা কিনে না দিলে সে আর স্কুলে যাবে না। স্কুলের বন্ধুরা নতুন জামা কিনে ফেলছে । মা ছেলের আবদার কানপেতে শুনে আর কিনে দিবে বলে মিছে সান্ত্বনা দিয়ে যাচ্ছে।  নিরবে নিরবে চোখের জল ফেলে যাচ্ছে।  তাদের পরিবারের এমন পরিস্থিতি আসবে কখনো ভাবতে পারেনি।  প্রতিদিন স্কুল থেকে আসার পর ছেলে বায়না ধরে। এভাবে দুই তিনদিন যাওয়ার পর আবির স্কুলে যাওয়া বন্ধ করে দিল। আবিরের বন্ধু শাকিল একদিন বিকালে আবিরদের বাড়িতে আসলো। এসে দেখে আবির বাড়িতে নেই। আবিরের বড় বোন শাকিলকে দেখে অবাক!  আরে শাকিল তুমি আমাদের বাড়িতে! শাকিলের বাবা একজন বড় ব্যবসায়ী। কোটি কোটি টাকা সম্পদের মালিক।  কিন্তু অনেক ভালো ভদ্র ছেলে।  আবিরের খুব ভালো বন্ধু।  আপু আবির দুইদিন ধরে স্কুলে যায় না কেন? আবিরের বোন তাদের অবস্থা খুলে বললো শাকিল কে। শাকিল আবিরের সাথে দেখা না করে বাড়ি ফিরে যায়। শাকিল তার মাকে আবিরের ঘটনা খুলে বললো। পরেরদিন শাকিল তার মা’কে নিয়ে মার্কেটে যায়। শাকিল নিজের জন্য যে শার্ট, প্যান্ট, জুতা কিনেছে। আবিরের জন্য ঠিক তাই কিনেছে। বিকেলে এসে আবিরকে না জানিয়ে তার বড় আপুর কাছে পোশাক গুলো দিয়ে যায়। আর বলে আপু আবিরকে কখনো এসব বলবেন না প্লিজ।  আমি চাই না আবিরের মনটা ছোট্ট হোক। বলবেন আপনি এগুলো কিনে দিয়েছেন। আবিরের মা এবং বোন শাকিলের কথা শুনে চোখ দিয়ে পানি ঝরতে থাকে! একটি অবুঝ শিশু অথচ কত আবেগ কত মায়া। আবিরের মা শাকিলকে ধরে কান্না শুরু করে আর বলে বাবা আল্লাহ তোমাকে হাজার বছর আমাদের মাঝে বাঁচিয়ে রাখুক। তোমার ঋণ কখনো শোধ হবে না। কাকি আপনি কি বলেন এসব? আবির আমার বন্ধু।  সন্ধ্যায় খেলা শেষে আবির বাসায় এলো। মা আবিরকে পড়ায় বসতে বললো। আবির বললো কি হবে মা পড়াশোনা করে? আমাকে কোন কাজে দিয়ে দাও।  তাহলে তোমার কষ্ট কিছুটা কমবে। আমি নতুন নতুন জামা পড়তে পারবো। আপুকে জামা, তোমাকে শাড়ি কিনে দিতে পারবো। মা আবিরকে বুকে নিয়ে বললো বাবা তোমার জন্য আমি নতুন জামার ব্যবস্থা করেছি। তোমার কাজে যেতে হবে না।  এই কথা শুনে আবির তো অবাক! মা সত্যি! তুমি সত্যি বলছো মা? আমার জন্য তুমি নতুন জমা কিনে আনছ?
কই? কই? দেখি,
অত অস্থির হলে হবে? সকালে দেখাবো।
না, আম্মু এখন দেখাও।  পোশাকগুলো পেয়ে আবির তো মহাখুশি।  কালকে স্কুলে যাবে। বন্ধুদের নিয়ে জামা দেখাবে। সারারাত আর ঘুম নেই আবিরের চোখে। কখন রাত শেষে ভোর হবে বন্ধুদের নতুন জামা দেখাবে।  সকাল ঘুম থেকে উঠে গোসল করে সবার আগে ব্যাগে পোশাক গুলো ভরে নিল। স্কুলে গিয়ে প্রথমে শাকিলকে দেখালো। শাকিল এমন একটা ভাব নিল সে কিছু জানে না। শাকিল বললো আমি মাকে বলবো তোর মতন একটি জামা কিনে দিতে। সবাই মহাখুশি, ঈদের পরে ঘুরতে যাবে। আজ যেন আবিরের মনে আনন্দ আর আনন্দ। আকাশে বাতাসে আনন্দ আর আনন্দ।  এভাবেই যেন হয় ধনী গরীব সকলের মাঝে ঈদের খুশি ভাগাভাগি।

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রচার করা হবে না.