সবার কথা বলে

কবি নজরুলের রচনায়  ঈদের আমেজের শুরু

0 12
কবি নজরুলের রচনায়
ঈদের আমেজের শুরু
ও মোর রমজানের ও রোজার শেষে এলো খুশির ঈদ

খুশির ঈদের এই গানটি কানে না আসলে যেন ঈদের আমেজ গড়ে উঠেনা। রমজানের শেষে ঈদের চিকন চাঁদের হাসির ঝলকে বেজে উঠে এই বিখ্যাত গানটি।

নজরুলের এই বিখ্যাত সংগীতটি কালজয়ী হয়ে আছে যুগ যুগ ধরে।

আকাশের বুকে চাঁদ দেখার পর এই গানটি না শুনলে যেন ঈদের আমেজ ফিরে আসে না।
সাম্য ও বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলামের লিখা অনবদ্য এই সংগীতটি যেন ঈদের খুশিকে আরো ঘনঘটা করে তুলে। শিশু থেকে বৃদ্ধ সবার হৃদয়ে ছুঁইয়ে যায় এই সংগীতের কথা ও সুর।
আর বিখ্যাত এই সংগীতের পেছনে রয়েছে একটি গল্প।১৯৩১ সালে বিখ্যাত স্বনামধন্য সুপরিচিত সংগীত শিল্পী আব্বাস উদ্দিন আহমেদ ছিলেন কবি নজরুলের খুব কাছের একজন শীর্ষ ও অনুসারী। আর এই বিখ্যাত গানটি লিখেছেন শিল্পী আব্বাস উদ্দিন আহমেদের অনুরোধে।

নজরুল তখন শ্যামা সংগীত লিখতেন এবং খুব জনপ্রিয় হয়ে উঠেন।  সে সময় খুব খ্যাতি অর্জন করেন তিনি  শ্যামা সংগীত রচনার জন্য।
এক রাতে তিনি রেকর্ড শেষে বাড়ি ফিরার পথে আব্বাস উদ্দিন তাঁকে আটকে বসলেন, এবং খুব করজোরে আবদার করলেন একটি ইসলামী সংগীত রচনার জন্য। কারন উর্দু ইসলামী সংগীত বেশ জনপ্রিয় ছিলো। শিল্পী আব্বাস উদ্দিন বললেন নজরুল দা আপনি ইসলামী চেতনায় খুব বর্ষিয়ান একজন গুনী লেখক। আপনার রচনায় ইসলামী সংগীত হলে তা যুগ যুগ মুসলিম সম্প্রদায়ের মনে দাগ কাটবে। তা চলমান থাকবে আজীবন।

তখন নজরুল তাঁকে আস্বস্ত করলে সম্মতি দিয়ে বলেন আমি তোমার আবদার রাখবো।ঈদুল ফিতর নিয়ে একটি গান লিখবো। তার পর কাগজ নিয়ে গান রচনা করে বললেন সুরটা এখন করবো নাকি পরে? লিখার ৪দিন পর শিল্পী আব্বাস উদ্দিন আহমেদ সর্বপ্রথম গানটি রেকর্ড করেন।রেকর্ডের প্রায় ৪মাস পর ঈদের কয়েকদিন আগেই গানটি রিলিজ করা হয়।গ্রাম্য ফোন সর্বপ্রথম গানটি প্রচার করলে বেশ সুপার ডুপার হিট হয় ঈদের কালজয়ী এই গানটি।

গানটি তে রয়েছে ধর্মীয় ভাব, গাম্ভীর্য ও ঈদের খুশি। একসাথে  দুটি বিষয় চমৎকার ভাবে কবি তাঁর অসাধারণ লেখনীর মাধ্যমে ফুটিয়ে তুলেছেন। যা আজো ঈদকে আমাদের মাঝে নতুন করে জাগিয়ে তুলে। শিল্পী আব্বাস উদ্দিন দের গাওয়া সেই গানটি পরবর্তিতে  অনেক শিল্পী গেয়েছেন।কিন্তু মূলধারার সেই সুর সেই কথা আজো সবার হৃদয়ে অগভীরে বিরাজমান হয়ে আছে থাকবে।

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রচার করা হবে না.