0 40

শরীয়তপুর জাজিরায় সেনাবাহিনীর ডগ স্কোয়াডসহ বিশেষ অভিযান ৪৫টি ককটেল উদ্ধার।
এম এ জব্বার – সংবাদের পাতা:
শরীয়তপুরের জাজিরায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে চলমান অস্থিরতা দমনে কঠোর অবস্থানে নেমেছে যৌথ বাহিনী। সোমবার (১২ জানুয়ারি) সকালে উপজেলার বিলাসপুর ইউনিয়নের মুলাই ব্যাপারী কান্দি এলাকায় সেনাবাহিনীর ডগ স্কোয়াডসহ বিশেষ অভিযান চালিয়ে ৪৫টি ককটেল সদৃশ বস্তু ও বিপুল পরিমাণ দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে। এ সময় ঘটনায় জড়িত সন্দেহে ৪ জনকে আটক করা হয়।
সোমবার সকাল থেকে শুরু হওয়া প্রায় দুই ঘণ্টাব্যাপী এই অভিযানে যৌথ বাহিনীর সাথে যুক্ত ছিল সেনাবাহিনীর একটি চৌকস ডগ স্কোয়াড। মূলত বিস্ফোরক ও লুকানো অস্ত্রের সুনির্দিষ্ট সন্ধানে ডগ স্কোয়াড ব্যবহার করা হয়। তল্লাশিকালে বিলাসপুরের বিভিন্ন স্থান থেকে ৪৫টি শক্তিশালী ককটেল সদৃশ বস্তু ও বেশ কিছু দেশীয় অস্ত্র জব্দ করা হয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বিলাসপুর এলাকায় আধিপত্য বিস্তার নিয়ে ইউপি চেয়ারম্যান কুদ্দুস বেপারী ও স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা জলিল মাদবরের সমর্থকদের মধ্যে গত দুই দশক ধরে রক্তক্ষয়ী বিরোধ চলে আসছে। এই বিরোধের জেরে বিভিন্ন সময়ে হওয়া সংঘর্ষে এ পর্যন্ত অন্তত ১০ জন নিহত হয়েছেন।
সবশেষ গত বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) ভোররাতে মুলাই ব্যাপারী কান্দি এলাকার সাগর বেপারীর বাড়িতে ককটেল তৈরির সময় এক ভয়াবহ বিস্ফোরণ ঘটে। বিস্ফোরণে পুরো বসতঘরটি ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়। ওই ঘটনায় সোহান ব্যাপারী ও নবীন সরদার নামে দুই যুবক নিহত হন। ওই ঘটনার পর শুক্রবার সকালে পুলিশ বিধ্বস্ত ঘরটি থেকে বিপুল পরিমাণ বিস্ফোরক দ্রব্য উদ্ধার করেছিল। এলাকাটি এখনো থমথমে থাকায় আজ সেনাবাহিনীসহ যৌথ বাহিনী এই বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে।
এ বিষয়ে শরীয়তপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম এন্ড অপস) তানভীর হোসেন জানান, “বিলাসপুরের পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে আমরা সেনাবাহিনীসহ যৌথ অভিযান চালিয়েছি। ডগ স্কোয়াডের সহায়তায় ৪৫টি ককটেল সদৃশ বস্তু ও দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় ৪ জনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়েছে। সন্ত্রাস দমনে আমাদের এই চিরুনি অভিযান অব্যাহত থাকবে।”