
ভেদরগঞ্জে দুধ সরবরাহ নিয়ে সংঘর্ষ, দুই পক্ষের আহত ৬
আশিকুর রহমান হৃদয় – সংবাদের পাতা:
শরীয়তপুরের ভেদরগঞ্জে দুধ সরবরাহ ও পারিবারিক বিরোধকে কেন্দ্র করে দুই পরিবারের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে উভয় পক্ষের অন্তত ছয়জন আহত হয়েছেন।
সোমবার (১৬ ফেব্রুয়ারী) সকাল ৯টার দিকে ভেদরগঞ্জ উপজেলার চরভাগা ইউনিয়নের পেদাকান্দি গ্রামের ৭ নম্বর ওয়ার্ডে এ ঘটনা ঘটে।
সংঘর্ষে আহতরা হলেন মোতালেব পেদা (৮০), মোশারফ পেদা (৭৫), সনিয়া আক্তার (৪০) ও ইস্কান্দার পেদা। অপর পক্ষের আমজাদ পেদা (৬০), মনির হোসেন পেদা (৫০) ও সোহাগ পেদাও আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। কয়েকজনকে ভেদরগঞ্জ ও ঢাকায় চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায় , আমজাদ পেদা ও মোতালেব পেদার পারিবারিক দ্বন্দ্ব দ্বন্দ্ব রয়েছে। এলাকায় কয়েকজন মিলে পালা করে দুধ বিক্রি করেন। সোমবার সকালে নির্ধারিত কয়েকজন দুধ দিতে এলে দুধ সংগ্রহকারী ব্যক্তি জানান, একটি বিয়ের অনুষ্ঠানে আগেই দুধ সরবরাহের চুক্তি থাকায় তিনি সেদিন আর দুধ নিতে পারবেন না। এ নিয়ে প্রথমে মোতালেব পেদার পক্ষ ও আমজাদ পেদার পক্ষের মধ্যে কথা কাটাকাটি শুরু হয়। একপর্যায়ে ‘ঘুষ নেওয়া’ নিয়ে মন্তব্যকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পরে উভয় পক্ষের লোকজন লাঠি -সোঠা ও শাবল নিয়ে জড়ো হয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। এই ঘটনায় উভয় পক্ষের অন্তত ছয়জন আহত হয়েছেন। আহতদের ভেদরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এ ভর্তি করা হয়েছে। এবং এদের মধ্যে গুরুতর কয়েকজনকে ঢাকায় পাঠানো হয়েছে।
রোজিনা বেগম অভিযোগ করেন, আমরা নিয়ম মেনেই দুধ দিতে গিয়েছিলাম। কিন্তু অকারণে তাদের বাধা দেওয়া হয়। কথা কাটাকাটির সময় তার ভাসুর মোতালেব পেদাকে উদ্দেশ করে আমজাদ পেদা অপমানজনক মন্তব্য করেন বলে দাবি করেন তিনি। এতে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। পরে আমজাদ পেদার পক্ষের লোকজন লাঠিসোটা নিয়ে হামলা চালায় বলে অভিযোগ করেন রোজিনা। তিনি বলেন, তারা কোনো ঝামেলায় যেতে চাননি। বৃদ্ধ মোতালেব পেদাকেও মারধর করা হয়েছে। এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার দাবি করেন তিনি।
অন্যদিকে শাহাজালাল পেদা বলেন, তাদের বাড়ির সামনে দুধ মাপা নিয়ে মোতালেব পেদার ছোট ভাইয়ের সঙ্গে তার বাবা আমজাদ পেদার কথা কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে মোতালেব পেদার পক্ষের লোকজন তাদের ওপর চড়াও হয়। তাদের পরিবারের তিনজন বর্তমানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন বলেও জানান তিনি।
এ বিষয়ে সখিপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মহিদুল ইসলাম বলেন, দুধ সরবরাহ ও পারিবারিক বিরোধকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষের খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। এই ঘটনায় উভয় পক্ষের কয়েকজন আহত হয়েছেন এবং তারা চিকিৎসাধীন। এখন পর্যন্ত কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।