সবার কথা বলে

কেন্দুয়ায় ঈদগাহ মাঠ দ”খ”ল”কে কেন্দ্র করে দুই বংশের উ ত্তে জ না

0 71

কেন্দুয়ায় ঈদগাহ মাঠ দখলকে কেন্দ্র করে দুই বংশের উত্তেজনা, সংঘর্ষের শঙ্কা।

এমদাদুল হক – জামালপুর:

জামালপুর সদর উপজেলার ১নং কেন্দুয়া ইউনিয়নের জালালেরপাড়া গ্রামে ঈদগাহ মাঠ ও মসজিদকে কেন্দ্র করে দুই বংশের মধ্যে তীব্র উত্তেজনা বিরাজ করছে। দীর্ঘদিনের সামাজিক সম্প্রীতি ভেঙে গিয়ে পরিস্থিতি এখন সংঘর্ষের দিকে এগোচ্ছে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, জালালেরপাড়া গ্রামের মন্ডল ও আকন্দ বংশের লোকজন যুগ যুগ ধরে একই মসজিদ, মাদ্রাসা ও ঈদগাহ মাঠে ধর্মীয় কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছিলেন। তবে প্রায় ৪-৫ মাস আগে জুম্মার খুতবায় মসজিদের ইমামের একটি বক্তব্যকে কেন্দ্র করে বিরোধের সূত্রপাত হয়। ওই বক্তব্যকে ‘উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’ দাবি করে মন্ডল বংশের লোকজন প্রতিবাদ জানালে ইমামকে ক্ষমা চাইতে বলা হয়। কিন্তু তিনি ক্ষমা না চাওয়ায় দুই পক্ষের মধ্যে দ্বন্দ্ব বাড়তে থাকে। একপর্যায়ে মসজিদ কমিটি ওই ইমামকে বহিষ্কার করে।

পরবর্তীতে অভিযোগ ওঠে, ফুলবাড়িয়ায় বসবাসরত আকন্দ বংশের মোঃ ওয়াজেদ আলী (৬২) গ্রামে এসে বিরোধকে উসকে দেন। তার নেতৃত্বে একদল লোক ঈদগাহ মাঠের কেন্দ্রস্থলে একটি পৃথক মসজিদ নির্মাণ করে, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তোলে।

মন্ডল বংশের লোকজন দাবি করেন, ঈদগাহ মাঠ নির্মাণে তাদের আর্থিক অবদান সবচেয়ে বেশি। কিন্তু বর্তমানে আকন্দ বংশের একটি পক্ষ পুরো মাঠ নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার চেষ্টা করছে। এমনকি মন্ডল বংশের সদস্যদের ঈদগাহ মাঠে প্রবেশ ও নামাজ আদায়ে বাধা দেওয়া এবং প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগও উঠেছে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সাম্প্রতিক সময়ে ওয়াজেদ আলীর নেতৃত্বে কিছু লোক দেশীয় অস্ত্র নিয়ে এলাকায় মহড়া দিচ্ছে, যা গ্রামবাসীদের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে। পরিস্থিতি যেকোনো সময় বড় ধরনের সংঘর্ষে রূপ নিতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

এ বিষয়ে স্থানীয় সচেতন মহল দ্রুত প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। তাদের মতে, এখনই কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে জালালেরপাড়া গ্রামের দীর্ঘদিনের শান্তি ও সম্প্রীতি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রচার করা হবে না.