
ডেস্ক রিপোর্টঃ
ইউরোপের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা আরও শক্তিশালী করতে আগামী প্রজন্মের দীর্ঘপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র প্রযুক্তি উন্নয়নে নতুন একটি বহুজাতিক উদ্যোগের নেতৃত্ব দেবে যুক্তরাজ্য। এ লক্ষ্যে প্রায় এক ডজন ইউরোপীয় দেশকে নিয়ে গঠিত জোটের মাধ্যমে বড় অঙ্কের বিনিয়োগের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে বলে বুধবার জানিয়েছে ব্রিটিশ সরকার।
লন্ডন থেকে এএফপি জানায়, তুরস্কের রাজধানী আঙ্কারায় অনুষ্ঠিত ন্যাটো শীর্ষ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার এ কর্মসূচির বিস্তারিত তুলে ধরবেন।
ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় ডাউনিং স্ট্রিট এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, সম্মেলনের ফাঁকে ইউরোপের প্রায় এক ডজন অংশীদার দেশের নেতাদের উপস্থিতিতে নতুন এ উদ্যোগের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করবেন স্টারমার।
পরিকল্পনা অনুযায়ী, আগামী এক দশকে ন্যাটো মিত্ররা ইউরোপের প্রতিরক্ষা ও প্রতিরোধ সক্ষমতা জোরদারে অত্যন্ত নিখুঁতভাবে দূরপাল্লার হামলা চালাতে সক্ষম ক্ষেপণাস্ত্র প্রযুক্তি উন্নয়নে ৫০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার (প্রায় ৩৭ বিলিয়ন ইউরো) বিনিয়োগ করবে।
ব্রিটিশ সরকারের ভাষ্য, এই বিনিয়োগের মাধ্যমে ন্যাটোর অস্ত্রভাণ্ডারে অত্যাধুনিক প্রযুক্তির ক্ষেপণাস্ত্র যুক্ত হবে। এসব ক্ষেপণাস্ত্রের কিছু অন্তত ৩০০ কিলোমিটার দূরের লক্ষ্যবস্তুতে নির্ভুলভাবে আঘাত হানতে পারবে, আবার কিছু ক্ষেপণাস্ত্রের পাল্লা ২ হাজার কিলোমিটারেরও বেশি হবে।
এদিকে ইউক্রেন যুদ্ধ এবং ইরানকে ঘিরে সাম্প্রতিক উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে ন্যাটো সদস্য দেশগুলোর প্রতি ঐক্যবদ্ধ অবস্থান বজায় রাখার আহ্বান জানিয়েছেন কিয়ার স্টারমার। এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, সদস্য দেশগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি টিকিয়ে রাখতে ভবিষ্যৎ প্রতিরক্ষা সক্ষমতা গড়ে তুলতে মিত্রদের সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে।
৭৭ বছর পুরোনো ট্রান্স-আটলান্টিক এই সামরিক জোট এমন এক সময়ে সম্মেলনে বসেছে, যখন যুক্তরাষ্ট্র ধীরে ধীরে ইউরোপে নিজেদের ভূমিকা সীমিত করার ইঙ্গিত দিচ্ছে এবং প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ন্যাটো মিত্রদের ব্যয় ও দায়িত্ব ভাগাভাগি নিয়ে প্রকাশ্যে সমালোচনা করছেন।
সম্মেলনের দ্বিতীয় দিনে আঙ্কারায় ন্যাটোর ৩২ সদস্য দেশের নেতাদের সঙ্গে ঐতিহ্যবাহী যৌথ আলোকচিত্রে অংশ নেন ট্রাম্প। পরে তিনি কার্য অধিবেশনে যোগ দেন এবং ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির সঙ্গে বহুল আলোচিত বৈঠক করেন।
সূএঃ বাসস