
ডেস্ক রিপোর্টঃ
যুক্তরাষ্ট্র ও সৌদি আরব বেসামরিক পারমাণবিক কর্মসূচি বাস্তবায়নে একটি গুরুত্বপূর্ণ সহযোগিতা চুক্তি স্বাক্ষর করেছে। মার্কিন প্রশাসনের দাবি, এ চুক্তিতে পারমাণবিক অস্ত্র বিস্তার রোধে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ও তদারকি ব্যবস্থা অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
বুধবার ওয়াশিংটনে মার্কিন জ্বালানিমন্ত্রী ক্রিস রাইট এবং সৌদি জ্বালানিমন্ত্রী প্রিন্স আবদুলআজিজ বিন সালমান দুটি পৃথক চুক্তিতে সই করেন। এর একটি শান্তিপূর্ণ পারমাণবিক সহযোগিতা এবং অন্যটি দ্বিপক্ষীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা সংক্রান্ত। তবে চুক্তির বিস্তারিত শর্ত এখনো প্রকাশ করা হয়নি।
মার্কিন জ্বালানি বিভাগের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, এই সমঝোতা দুই দেশের মধ্যে কয়েক দশকব্যাপী বহু বিলিয়ন ডলারের সহযোগিতার ভিত্তি গড়ে দেবে। একই সঙ্গে এটি অর্থনৈতিক সম্পর্ক জোরদারের পাশাপাশি পারমাণবিক নিরাপত্তা ও অস্ত্র বিস্তার রোধের লক্ষ্য বাস্তবায়নে সহায়ক হবে।
চুক্তিটি এমন সময়ে হলো, যখন ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছে। এ ইস্যুই সাম্প্রতিক সংঘাত এবং স্থগিত শান্তি আলোচনার অন্যতম প্রধান কারণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
মার্কিন সংবাদমাধ্যমের এক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, চুক্তির আওতায় সৌদি আরবে যুক্তরাষ্ট্রের কোম্পানিগুলো ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কেন্দ্র স্থাপনের সুযোগ পেতে পারে। তবে এ বিষয়ে মার্কিন জ্বালানি বিভাগ আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানায়নি।
চুক্তিটি এখন অনুমোদনের জন্য মার্কিন কংগ্রেসে পাঠানো হবে। যদিও রিপাবলিকান-নিয়ন্ত্রিত কংগ্রেসে এটি আটকে যাওয়ার সম্ভাবনা কম বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের আইনপ্রণেতা ও ইসরাইলের কর্মকর্তারা সৌদি আরবের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছিলেন। তাদের আশঙ্কা, ভবিষ্যতে এ প্রযুক্তি সামরিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা হতে পারে।
অন্যদিকে সৌদি আরব বরাবরই শান্তিপূর্ণ উদ্দেশ্যে পারমাণবিক প্রযুক্তি ব্যবহারের অধিকার দাবি করে আসছে। বিশ্লেষকদের মতে, এই চুক্তি মধ্যপ্রাচ্যের কৌশলগত ভারসাম্য, জ্বালানি নিরাপত্তা এবং আঞ্চলিক রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে।
সূত্রঃ বাসস