
ডেস্ক রিপোর্টঃ
দেশের চলমান জ্বালানি সংকট নিরসনে মালয়েশিয়ার সহযোগিতা চেয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন বলে জানিয়েছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত।
নিজ কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে প্রতিমন্ত্রী বলেন, সোমবার জ্বালানি সহযোগিতা চেয়ে মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রীর কাছে একটি চিঠি পাঠান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। পরে বাংলাদেশ সময় দুপুর ২টায় দুই দেশের প্রধানমন্ত্রীর মধ্যে টেলিফোনে কথা হয়।
তিনি জানান, প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষাবিষয়ক উপদেষ্টা মাহদী আমিন মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রীর কাছে চিঠিটি হস্তান্তর করেন। টেলিফোনে আলোচনার পর আনোয়ার ইব্রাহিম জ্বালানি সহযোগিতার বিষয়টি নিয়ে তার দেশের সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর সঙ্গে পরামর্শ করার কথা জানান।
অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেন, চলমান জ্বালানি সংকটের কারণে জনগণের যে ভোগান্তি হচ্ছে, তা সরকার গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছে। পরিস্থিতি দ্রুত স্বাভাবিক করতে সরকার দিনরাত কাজ করছে এবং সংকট সমাধানে মন্ত্রণালয় সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।
তিনি বলেন, জনগণের দুর্ভোগ কমানোর দায়িত্ব সরকারকে দেওয়া হয়েছে। এ দায়িত্ব থেকেই জ্বালানি পরিস্থিতির উন্নয়নে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় নিরলসভাবে কাজ করছে। প্রধানমন্ত্রীও এ বিষয়ে মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রম ও অগ্রগতি নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করছেন।
প্রতিমন্ত্রী জানান, বর্তমানে দেশের চাহিদা অনুযায়ী গ্যাস সরবরাহ করা সম্ভব হচ্ছে না। ফলে চাহিদা ও সরবরাহের মধ্যে যে ঘাটতি তৈরি হয়েছে, তা কমাতে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা নেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এ কারণেই মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রীর কাছে সহায়তা চেয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
তিনি আরও বলেন, মালয়েশিয়া থেকে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) আমদানির সম্ভাবনা তৈরি করতে সরকার কাজ করছে। এ প্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন করার চেষ্টা চলছে। পাশাপাশি মালয়েশিয়ার কারিগরি অভিজ্ঞতা, পরামর্শ কিংবা দেশটির জ্বালানি সম্পদ ভাগাভাগির মাধ্যমে কোনো সহযোগিতার সুযোগ রয়েছে কি না, তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
একটি মাত্র জ্বালানি উৎসের ওপর নির্ভরতা কমাতে সরকার বিকল্প উৎস অনুসন্ধান করছে বলেও জানান প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, পর্যাপ্ত বিকল্প ব্যবস্থা না থাকা এবং একটি ভাসমান স্টোরেজ ও পুনঃগ্যাসীকরণ ইউনিটের (এফএসআরইউ) কারিগরি ত্রুটির কারণে বর্তমানে জ্বালানি সরবরাহে সমস্যা দেখা দিয়েছে।
এদিকে, দ্বিপক্ষীয় জ্বালানি সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়ে আলোচনা করতে সম্প্রতি জাপানের প্রধানমন্ত্রীর একজন উপদেষ্টার নেতৃত্বে একটি জাপানি প্রতিনিধি দল বাংলাদেশ সফর করেছে। তাদের সঙ্গে জ্বালানি খাতে সহযোগিতা আরও জোরদার করার বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, সরকার এফএসআরইউ-সংক্রান্ত সমস্যার সমাধানে কাজ করলেও দীর্ঘমেয়াদে একটি স্থলভিত্তিক এলএনজি টার্মিনাল নির্মাণই টেকসই সমাধান হতে পারে। এ প্রকল্প বাস্তবায়নে জাপানের সহযোগিতা চাওয়া হয়েছে।
সূত্রঃ বাসস