
ডেস্ক রিপোর্টঃ
পুরো ঢাকা মহানগরকে সিসিটিভি নজরদারির আওতায় আনতে নেওয়া প্রকল্পের উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব (ডিপিপি) নতুন করে সাজানো হচ্ছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।
বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) জাতীয় সংসদে বিরোধী দল বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সদস্য মোহাম্মদ কামাল হোসেনের (ঢাকা-৫) লিখিত প্রশ্নের জবাবে এ তথ্য জানান তিনি।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, যাচাই কমিটির সভায় নেওয়া সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে প্রকল্পটির ডিপিপি পুনর্গঠনের কাজ চলছে। একনেক প্রকল্পটি অনুমোদন করলে ঢাকা মহানগরের পুরো এলাকাকে সিসিটিভি পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থার আওতায় আনার প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া সম্ভব হবে।
তিনি জানান, ‘ডেভেলপমেন্ট অব স্মার্ট পুলিশিং ইন ডিএমপি’ নামের প্রকল্পটি ঢাকা শহরকে সিসিটিভি নজরদারির আওতায় আনার উদ্দেশ্যে নেওয়া হয়েছে। এটি বর্তমানে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) অনুমোদন না পাওয়া নতুন প্রকল্পগুলোর তালিকায় রয়েছে।
মন্ত্রী আরও জানান, প্রকল্পটির প্রাথমিক ডিপিপি নিয়ে গত ২৪ মে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিবের সভাপতিত্বে যাচাই কমিটির একটি সভা অনুষ্ঠিত হয়। ওই সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী বর্তমানে ডিপিপি পুনর্গঠনের কাজ চলছে।
সংসদে অন্য এক লিখিত প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডকে আধুনিক ও প্রযুক্তিনির্ভর করার লক্ষ্যে স্থানীয় ডকইয়ার্ডে পাঁচটি নতুন ইনশোর প্যাট্রোল ভেসেল (আইপিভি) নির্মাণের পরিকল্পনা করেছে সরকার। পাশাপাশি কোস্ট গার্ডের গবেষণা ও উদ্ভাবনী সক্ষমতা বাড়াতে কোস্ট গার্ড রিসার্চ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট সেন্টার (সিআরডিসি) প্রতিষ্ঠার কার্যক্রমও এগিয়ে চলছে।
এ ছাড়া কোস্টাল সার্ভেইল্যান্স সিস্টেম (সিএসএস) স্থাপনের কাজও চলমান রয়েছে। এর মাধ্যমে নতুন প্রযুক্তি উদ্ভাবন, পরিচালনাগত বিভিন্ন সমস্যা মোকাবিলা এবং কোস্ট গার্ডের প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বৃদ্ধিতে সহায়তা পাওয়া যাবে বলে জানান তিনি।
মহিলা আসন-৪৯-এর স্বতন্ত্র সদস্য সুলতানা জেসমিনের লিখিত প্রশ্নের জবাবে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ২০২৬ সালে দেশের বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে বিজিবি ১ কোটি ৫৫ লাখ ইয়াবা ট্যাবলেট, ২৯ কেজি ক্রিস্টাল মেথামফেটামিন (আইস), ৯ দশমিক ৫ কেজি হেরোইন, ১ কেজি আফিম, ১৪ বোতল এলএসডি, ২৬ হাজার ৪৭৪ বোতল ফেনসিডিল, ১১ হাজার ৭০৭ কেজি গাঁজা এবং ৫৭ হাজার ৪৬৯ বোতল বিদেশি মদ ও বিয়ার জব্দ করেছে।
এসব অভিযানে চলতি বছরে মোট ১ হাজার ২১৯ জন আসামিকে গ্রেফতার করা হয়েছে বলেও জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।
তিনি আরও বলেন, ভারত ও মিয়ানমার সীমান্ত দিয়ে যাতে মাদক দেশে প্রবেশ করতে না পারে, সে লক্ষ্যে থার্মাল ক্যামেরা ও ড্রোনসহ আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারি ব্যবস্থা ব্যবহার করে অভিযান ও প্রতিরোধমূলক কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে।
সূত্রঃ যুগান্তর