
“নদীর তীরে নীরবতা: সুরেশ্বর লঞ্চঘাটের হারানো ব্যস্ততা”
এম এ জব্বার – সংবাদের পাতা:
যাত্রী সংকট, রুট পরিবর্তন ও অবহেলার কারণে গুরুত্ব হারিয়েছে সুরেশ্বর লঞ্চঘাট। তবে সঠিক পরিকল্পনা হলে আবারও ফিরতে পারে এর প্রাণচাঞ্চল্য।
শরীয়তপুর জেলার নড়িয়া উপজেলার ঘড়িষার ইউনিয়নে অবস্থিত সুরেশ্বর লঞ্চঘাট।
একটি সময় এই ঘাটই ছিল শরীয়তপুরবাসীর প্রধান যাতায়াতের নৌপথ। দিন-রাত, সকাল-বিকাল—সব সময় লঞ্চ চলাচলে মুখর থাকত এই এলাকা। ঢাকা যাওয়া মানেই ছিল লঞ্চে চড়া।
স্বল্প খরচে আরামদায়ক ভ্রমণের জন্য নৌপথই ছিল মানুষের প্রথম পছন্দ। কিন্তু সময়ের সঙ্গে বদলেছে যাতায়াতের ধরণ।
পদ্মা সেতু চালু হওয়ার পর যাত্রীরা এখন বাসে চরাকেই প্রধান বাহন হিসেবে বেছে নিচ্ছেন। এর প্রভাব পড়েছে সুরেশ্বর লঞ্চঘাটেও।
এক সময়ের ব্যস্ত ঘাট এখন অনেকটাই নীরব।
তবুও বাস্তবতা হলো—অনেক যাত্রী এখনো নৌপথে ভ্রমণ করতে ভালোবাসেন।
নদীর বাতাস, স্বস্তির যাত্রা—লঞ্চের প্রতি এই ভালোবাসা আজও আছে।
কিন্তু ভাড়ার অসামঞ্জস্য, সময়সূচির অনিয়ম এবং যাত্রীসেবার মান কমে যাওয়ায় অনেকে বাধ্য হচ্ছেন সড়কপথ বেছে নিতে।
যদি ভাড়া সহনীয় করা যায়, যাত্রীসেবার মান উন্নত হয় এবং নিয়মিত ও নির্ভরযোগ্য সময়সূচি নিশ্চিত করা যায়, তাহলে আগের মতো না হলেও আবারও যাত্রী বাড়তে পারে এই নৌপথে।
উন্নয়ন মানেই পুরোনো পথ ভুলে যাওয়া নয়। সঠিক পরিকল্পনা আর উদ্যোগ নিলে, সুরেশ্বর লঞ্চঘাট আবারও ফিরে পেতে পারে তার হারানো প্রাণচাঞ্চল্য।