সবার কথা বলে

এমপিওভুক্ত অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক-কর্মচারীরা যেভাবে পাবেন অবসরভাতা

0 4

এমপিওভুক্ত অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক-কর্মচারীরা যেভাবে পাবেন অবসরভাতা

ডেস্ক রিপোর্টঃ

দীর্ঘদিন ধরে অবসর সুবিধা ও কল্যাণ ট্রাস্টের টাকা না পাওয়া এমপিওভুক্ত বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-কর্মচারীদের পাওনা পরিশোধে উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। আগামী ১৫ আগস্ট দেশের ৬৪ জেলায় একযোগে অবসর সুবিধা বোর্ড ও শিক্ষক-কর্মচারী কল্যাণ ট্রাস্টের অর্থ বিতরণ শুরু হওয়ার কথা রয়েছে।

শিক্ষা মন্ত্রণালয় সূত্র জানিয়েছে, এ জন্য সরকার ২ হাজার কোটি টাকার বিশেষ বরাদ্দ দিচ্ছে। এর মাধ্যমে অবসর সুবিধা বোর্ডের প্রায় ৭০ হাজার এবং কল্যাণ ট্রাস্টের প্রায় ৪৪ হাজার শিক্ষক-কর্মচারী অর্থ পাবেন। অর্থাৎ এ ধাপে মোট প্রায় ১ লাখ ১৪ হাজার অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক-কর্মচারী সুবিধার আওতায় আসবেন।

টাকা পাবেন যেভাবে

এবারই প্রথম আইবাস++ সফটওয়্যারের মাধ্যমে সরাসরি উপকারভোগীদের ব্যাংক হিসাবে অবসর ও কল্যাণ সুবিধার টাকা পাঠানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ফলে টাকা পেতে কোনো দালাল বা মধ্যস্বত্বভোগীর সহায়তা নেওয়ার প্রয়োজন হবে না।

অবসর সুবিধা বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, ২০২২ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত অবসরে যাওয়া শিক্ষক-কর্মচারীদের আবেদন নিষ্পত্তি করা হচ্ছে। এ পর্যায়ে প্রায় ৭০ হাজার ১১৫টি আবেদন রয়েছে। চাকরির সময় মূল বেতনের ৬ শতাংশ হারে দেওয়া চাঁদার ভিত্তিতে অবসর সুবিধার পরিমাণ নির্ধারণ করা হয়। একজন শিক্ষক-কর্মচারী সর্বোচ্চ প্রায় ৫ লাখ টাকা পর্যন্ত পেতে পারেন। এসব আবেদন নিষ্পত্তিতে প্রায় ১ হাজার ৫০০ কোটি টাকা প্রয়োজন হবে।

অন্যদিকে, কল্যাণ ট্রাস্টে ২০২৩ সালের এপ্রিল থেকে ২০২৬ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত জমা পড়া প্রায় ৪৪ হাজার আবেদন নিষ্পত্তির কাজ চলছে। চাকরিকালে মূল বেতনের ৪ শতাংশ হারে জমা দেওয়া চাঁদার ভিত্তিতে এ সুবিধা দেওয়া হয়। এ ক্ষেত্রে একজন অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক-কর্মচারী সর্বোচ্চ প্রায় আড়াই লাখ এবং সর্বনিম্ন প্রায় ৫০ হাজার টাকা পেতে পারেন। এ পর্যায়ে প্রয়োজন হবে প্রায় ৬০০ কোটি টাকা।

সব পাওনা কি একবারে মিলবে?

বর্তমানে অবসর সুবিধা বোর্ড ও কল্যাণ ট্রাস্ট মিলিয়ে ১ লাখ ১৪ হাজারের বেশি আবেদন জমে আছে। সব আবেদন নিষ্পত্তি করতে মোট প্রায় ১২ হাজার কোটি টাকা প্রয়োজন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

এর মধ্যে অবসর সুবিধা বোর্ডের আবেদনগুলো নিষ্পত্তিতে প্রায় ৯ হাজার কোটি এবং কল্যাণ ট্রাস্টের আবেদন নিষ্পত্তিতে ৩ হাজার কোটি টাকার বেশি প্রয়োজন। ফলে সরকারের ২ হাজার কোটি টাকার বিশেষ বরাদ্দে উল্লেখযোগ্যসংখ্যক শিক্ষক-কর্মচারীর পাওনা পরিশোধ করা সম্ভব হলেও সব আবেদন একসঙ্গে নিষ্পত্তি করা সম্ভব হবে না।

কেন দীর্ঘদিন আটকে ছিল টাকা

সংশ্লিষ্টরা জানান, অবসর ও কল্যাণ তহবিলের বড় একটি অংশ শিক্ষক-কর্মচারীদের চাকরিকালে দেওয়া চাঁদা থেকে আসে। অবসর সুবিধার জন্য মূল বেতনের ৬ শতাংশ এবং কল্যাণ সুবিধার জন্য ৪ শতাংশ হারে অর্থ জমা দেওয়া হয়। পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের কাছ থেকেও বছরে ১০০ টাকা নেওয়া হয়। এর মধ্যে ৭০ টাকা অবসর তহবিল এবং ৩০ টাকা কল্যাণ তহবিলে জমা হয়।

তবে প্রতি মাসে যে পরিমাণ আবেদন জমা পড়ে, তা নিষ্পত্তির জন্য প্রয়োজনীয় অর্থের তুলনায় তহবিলের আয় কম। এ কারণে নিয়মিত অর্থসংকট তৈরি হয়ে আবেদন জমতে থাকে।

এ ছাড়া পুরোনো সফটওয়্যারের নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে যাওয়ায় আবেদন যাচাইয়ের ডিজিটাল কার্যক্রমও বাধাগ্রস্ত হয়। ফলে অনেক আবেদন এখনো হাতে যাচাই করতে হচ্ছে। এতে নিষ্পত্তির কাজ আরও দীর্ঘায়িত হয়েছে।

১৫ আগস্ট থেকে বিতরণ শুরু

শিক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ১৩ আগস্ট সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে এ বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরবেন শিক্ষামন্ত্রী। এরপর ১৫ আগস্ট দেশের ৬৪ জেলায় একযোগে অর্থ বিতরণ কার্যক্রম শুরু হওয়ার কথা রয়েছে।

দীর্ঘদিন ধরে পাওনা অর্থের অপেক্ষায় থাকা অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের জন্য সরকারের এ উদ্যোগকে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। তবে অবশিষ্ট আবেদনকারীরা কবে তাদের পাওনা পাবেন, সে বিষয়ে এখনো নির্দিষ্ট সময়সূচি জানা যায়নি।

সূত্রঃ যুগান্তর 

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রচার করা হবে না.