0 408

মাগুরার শ্রীপুরে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে দু’গ্রুপের সংঘর্ষ, গুলিবিদ্ধ ৮ আহত ২০
মোঃ মিরাজ শেখ-(মাগুরা):
মাগুরার শ্রীপুর উপজেলার সব্দালপুর ইউনিয়নের নোহাটা, দূর্গাপুর ও সব্দালপুর গ্রামের দু’গ্রুপের আধিপত্যের দ্বন্দ্বে সংঘর্ষে ব্যাপক ভাংচুর-লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে।
গত সোমবার রাতে দফায় দফায় এ সংঘর্ষে ৮ জন গুলিবিদ্ধ হয় ও অন্তত ২০ জন নারী-পুরুষ আহত হয়। সরেজমিন গিয়ে জানা গেছে, উপজেলা আওয়ামী লীগের যুব ও ক্রীড়া বিষয়ক সম্পাদক মোঃ আনিচুর রহমান কনক গ্রুপের সাথে উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মরহুম ওসমান গনি ওরফে দুলাল মোল্যার ছেলে সাব্বির হোসেন ও তার সমর্থীত আলাম মোল্লার গ্রুপ আধিপত্যের দ্বন্দ্বে সংঘর্ষে লিপ্ত হয়।
আধিপত্য নিয়ে দীর্ঘদিন যাবৎ দ্বন্দ্ব চলে আসছিলে দুই গ্রুপের মাঝে। কিছুদিন পূর্বে আলাম মোল্যার মামার ফাতেহাতে দাওয়াত করাকে কেন্দ্র করে দুই গ্রুপের কথা কাটাকাটির সৃষ্টি হয়। সেই জের ধরে গত সোমবার রাতে উভয় গ্রুপ সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। এতে আনিচুর রহমান কনকের গ্রুপের নোহাটা গ্রামের রিজাউল, উজ্জ্বল, জিল্লু, শহীদ শেখ, মোল্লা ডাঙ্গি গ্রামের জয়নাল মীর, মুনসুর মীর, হাসান মীর, সোবহান মীর, আয়নুল, ইমদাদুল, রতন, জাহিদ ও সাবিনা ইয়াসমিনসহ অন্তত ৩০টি বাড়ি-ঘর ব্যাপক ভাংচুর ও আসবাবপত্র, পাটের গুদামের পাট, দোকানের মালামাল ও স্বর্ণলঙ্কার লুটপাট করে সাব্বির হোসেন ও আলাম মোল্লা গ্রুপের লোকজন।
অপরদিকে সাব্বির ও আলাম মোল্লা গ্রুপের ইউসুফ, খবির পাল, লিটন খন্দকার, সাজ্জাদ খন্দকার, ইকরাম, মিঠুসহ অন্তত ১৫ টি বাড়ি-ঘর ভাংচুর করে কনক গ্রুপের লোকজন। স্থানীয় ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানাযায়, ভাংচুরের একপর্যায়ে সাব্বির হোসেন ও আলাম মোল্লা গ্রুপের ছোড়া গুলিতে প্রতিপক্ষ কনক গ্রুপের ৮ জন গুলিবিদ্ধ হন ও কমবেশি ১৫ জন আহত হন।
পরে গুলিবিদ্ধ ও আহতদের উদ্ধার করে মাগুরা সদর হাসপাতাল, শ্রীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও বিভিন্ন হাসপাতালে পাঠানো হয়। ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্থ প্লে নামে এক ব্যাক্তি জানান, আলাম মোল্লার লোকজন আমার সম্পূর্ণ বাড়ি ভাংচুর করে এবং আমার ঘরে থাকা গরু বিক্রি করা নগদ ১লক্ষ ৫০হাজার টাকা ও স্বর্ণালঙ্কার লুট করে নিয়ে যায়।
উক্ত ঘটনার বিষয়ে আনিচুর রহমান কনকের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, গত সোমবার রাতে তৎকালীন সর্বহারার পার্টির লিডার ও সব্দালপুর ইউনিয়ন বিএনপির সহ-সভাপতি বিশ্বসন্ত্রাসী আলাম মোল্লা ও সাব্বির হোসেনের নেতৃত্বে তৎকালীন সর্বহারার পার্টির লিডার অশোক, মাস্টার বাবু মোল্লা, পবন মল্লিক, আওয়াল মল্লিক, রইচ, রেজা, হারুন, সানি, পারভেজ, ফরহাদ, রিফাত, আলীসহ আরো অনেকেই অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র, ঢাল-সড়কি, ছ্যানদা, রামদা নিয়ে আমার লোকজনের উপর আক্রমন চালায়, বাড়িঘর ভাংচুর ও লুটপাট করে। পরে পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করে।
এ বিষয়ে জানতে চেয়ে আলাম মোল্লার সাথে যোগাযোগ করার চেষ্টা করলে যোগাযোগ করতে ব্যার্থ হই ও একাধিকবার আলাম মোল্লার মুঠোফোনে ফোন করিলে মোবাইল বন্ধ দেখায়। শ্রীপুর থানার অফিসার ইনচার্জ কাঞ্চন কুমার রায় জানান, খবর পেয়ে শ্রীপুর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
বর্তমানে পরিস্থিতি পুলিশের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। এলাকায় পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। তবে পুলিশের পক্ষ থেকে কোনো প্রকার ফায়ার করা হয়নি। যদি এমন কোনো ঘটনা ঘটে থাকে সে বিষয়ে আমি কিছু জানিনা।