
রেফারিং বিতর্কে মিসরের অভিযোগ উড়িয়ে দিল ফিফা
ডেস্ক রিপোর্টঃ
বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্ব ও নকআউট রাউন্ডের টানা ২৮ দিনের লড়াই শেষে বৃহস্পতিবার শুরু হচ্ছে কোয়ার্টার ফাইনাল। তবে শেষ আটের লড়াই শুরুর আগেও আলোচনায় রয়েছে আর্জেন্টিনা ও মিসরের মধ্যকার শেষ ষোলোর ম্যাচের বিতর্কিত রেফারিং।
ম্যাচে রেফারির কয়েকটি সিদ্ধান্ত নিয়ে আপত্তি তুলেছিলেন মিসরের প্রধান কোচ হোসাম হাসান এবং স্ট্রাইকার মোস্তফা জিকো। তাদের অভিযোগ ছিল, আর্জেন্টিনা ম্যাচে বাড়তি সুবিধা পেয়েছে এবং ম্যাচ পরিচালনা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তারা।
তবে এসব অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফা। সংস্থাটির প্রধান রেফারিং কর্মকর্তা পিয়ারলুইজি কলিনা জানিয়েছেন, ম্যাচ পরিচালনায় কোনো ভুল হয়নি এবং বিতর্কের কোনো ভিত্তি নেই।
ফিফার এক সাক্ষাৎকারে কলিনা ম্যাচের বিতর্কিত সিদ্ধান্তগুলোর বিস্তারিত ব্যাখ্যা দেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, ভিএআর প্রতিটি গোলের আগে আক্রমণাত্মক বল দখলের পুরো ধাপ (অ্যাটাকিং পজেশন ফেজ) পর্যালোচনা করে। গোল হওয়ার আগে কোনো ফাউল শনাক্ত হলে এবং সেটি গোলের ওপর প্রভাব ফেলেছে বলে মনে হলে, ভিএআর রেফারিকে ভিডিও দেখে সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার পরামর্শ দেয়।
মিসরের আপত্তির কেন্দ্রবিন্দু ছিল দুটি ঘটনা। প্রথমটি ৫৮ মিনিটে মোস্তফা জিকোর করা গোল বাতিল হওয়া। ভিএআর পর্যালোচনায় দেখা যায়, আক্রমণের শুরুতে লিসান্দ্রো মার্তিনেজের ওপর ফাউল হয়েছিল। সেই কারণেই গোলটি বাতিল করা হয়।
দ্বিতীয় ঘটনায়, নির্ধারিত সময়ের পর যোগ করা সময়ে এনজো ফার্নান্দেজের জয়সূচক গোলের আগে হুলিয়ান আলভারেজের সঙ্গে মোহামেদ সালাহর সংঘর্ষকে ফাউল দাবি করেছিল মিসর। তবে রেফারি এবং ভিএআর সেটিকে স্বাভাবিক ফুটবলীয় সংস্পর্শ হিসেবে বিবেচনা করেন।
কলিনা বলেন, গোল থেকে ফাউলের দূরত্ব বা সময়ের কোনো নির্দিষ্ট সীমা নেই। যদি রেফারি কোনো ফাউল দেখতে না পান এবং ভিএআর সেটি শনাক্ত করে, তাহলে তারা হস্তক্ষেপ করতে পারে। তবে কোনো ডিফেন্ডার আগে বল স্পর্শ করে পরে স্বাভাবিক সংস্পর্শ হলে সেটিকে ফাউল ধরা হয় না।
তিনি আরও জানান, সালাহ ও আলভারেজের মধ্যকার ঘটনাটিও ভিএআর একইভাবে মূল্যায়ন করেছে এবং সেটিকে স্বাভাবিক ফুটবলীয় সংস্পর্শ বলেই সিদ্ধান্ত দেওয়া হয়েছে।
সূএঃ যুগান্তর