সবার কথা বলে

ইরানের রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে রাষ্ট্রপতির সাক্ষাৎ, মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতে উদ্বেগ

0 4

ইরানের রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে রাষ্ট্রপতির সাক্ষাৎ, মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতে উদ্বেগ

ডেস্ক রিপোর্টঃ

বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত ইরানের রাষ্ট্রদূত ড. জলিল রহিমি জাহানাবাদি। বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) বঙ্গভবনে তাদের মধ্যে এ সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়।

সাক্ষাৎকালে রাষ্ট্রপতি বলেন, দীর্ঘদিনের ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক সম্পর্কের পাশাপাশি দুই দেশের জনগণের মধ্যে বিদ্যমান যোগাযোগের ভিত্তিতে বাংলাদেশ ও ইরানের বন্ধুত্বপূর্ণ ও ভ্রাতৃত্বপূর্ণ সম্পর্ক গড়ে উঠেছে। এ সম্পর্ককে বাংলাদেশ অত্যন্ত গুরুত্ব দেয় বলেও জানান তিনি।

ইরানের সাহিত্য ও সংস্কৃতির প্রভাবের কথা উল্লেখ করে রাষ্ট্রপতি বলেন, ফেরদৌসি, শেখ সাদি, হাফিজ ও জালাল উদ্দিন রুমির মতো বিখ্যাত পারস্য কবি ও মনীষীদের সৃষ্টিকর্ম এ অঞ্চলের মানুষের চিন্তাভাবনা ও সংস্কৃতিতে গভীর প্রভাব ফেলেছে। একইসঙ্গে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের কবিতা ও গানে ইরানের জনগণের প্রতি ভালোবাসা ও মমত্ববোধের বিষয়টিও তুলে ধরেন তিনি।

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাত নিয়ে উদ্বেগ জানিয়ে রাষ্ট্রপতি বলেন, এ সংঘাতের কারণে বাংলাদেশের মতো আমদানিনির্ভর দেশগুলো বড় ধরনের জ্বালানি সংকটের মুখোমুখি হচ্ছে। তিনি আলোচনার মাধ্যমে সমঝোতা এবং কূটনৈতিক উদ্যোগের মধ্য দিয়ে বিরোধের শান্তিপূর্ণ সমাধানের পক্ষে বাংলাদেশের অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেন।

মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধে ইরানে প্রাণহানির ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেন রাষ্ট্রপতি। পাশাপাশি ইরানের সার্বভৌমত্ব ও আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করে দেশটির ভূখণ্ডে ইসরাইলি হামলার নিন্দা জানান তিনি।

বিশ্বে শান্তি ও স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠায় মুসলিম উম্মাহর ঐক্যের ওপরও গুরুত্বারোপ করেন রাষ্ট্রপতি।

সাক্ষাৎকালে ইরানের রাষ্ট্রদূত দেশটির রাষ্ট্রপতির পক্ষ থেকে বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি হিসেবে নির্বাচিত হওয়ায় মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে অভিনন্দনপত্র দেন। একই সঙ্গে মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা কমাতে বাংলাদেশের গঠনমূলক ভূমিকার প্রশংসা করেন তিনি।

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির জানাজায় বাংলাদেশের জাতীয় সংসদের স্পিকারের অংশগ্রহণের বিষয়টি কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করেন ইরানের রাষ্ট্রদূত। ভবিষ্যতে বিভিন্ন ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ও ইরানের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করতে দুই দেশ একসঙ্গে কাজ করবে বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।

রাষ্ট্রপতি ইরানের রাষ্ট্রদূতকে দায়িত্ব পালনে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে পূর্ণ সহযোগিতার আশ্বাস দেন। তার দায়িত্বকাল দুই দেশের সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি।

এ সময় রাষ্ট্রপতির কার্যালয়ের সচিব, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং ইরানি দূতাবাসের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

সূত্রঃ যুগান্তর

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রচার করা হবে না.