সবার কথা বলে

ইন্টারনেট বন্ধে ১০০ দিন, বিপর্যস্ত পাকিস্তান-শাসিত কাশ্মীর

0 5

ইন্টারনেট বন্ধে ১০০ দিন, বিপর্যস্ত পাকিস্তান-শাসিত কাশ্মীর

ডেস্ক রিপোর্টঃ

নির্বাচনী সংস্কারের দাবিতে বিক্ষোভের পর পাকিস্তান-শাসিত কাশ্মীরে দীর্ঘদিন ধরে ইন্টারনেট সেবা সীমিত রয়েছে। গত ৫ জুন থেকে অঞ্চলটির মোবাইল ডাটা ও ব্রডব্যান্ড সেবা প্রায় বন্ধ। এরই মধ্যে এই ইন্টারনেট ব্ল্যাকআউট ১০০ দিন পার করেছে।

কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইন্টারনেট সংকটের কারণে স্বাভাবিক জীবনযাত্রা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। অনলাইন ব্যাংকিংয়ের বিভিন্ন ওয়েবসাইট ও অ্যাপে প্রবেশ করতে না পারায় সমস্যায় পড়ছেন সাধারণ মানুষ। একই সঙ্গে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে ব্যবসা-বাণিজ্যও।

ইন্টারনেট সংযোগ না থাকায় শিক্ষার্থীদের শিক্ষা কার্যক্রমও ব্যাহত হয়েছে। এমনকি পরিস্থিতির কারণে কর্তৃপক্ষকে ভর্তি পরীক্ষার সময়সূচিও পিছিয়ে দিতে হয়েছে।

স্বাধীন ইন্টারনেট পর্যবেক্ষণ সংস্থা নেটব্লকস নিয়মিত বিষয়টি পর্যবেক্ষণ করছে। তাদের তথ্য অনুযায়ী, ৫ জুন থেকেই অঞ্চলটিতে আংশিক ইন্টারনেট ব্ল্যাকআউট চলছে।

যেভাবে উত্তেজনার শুরু

২৭ জুলাই নির্ধারিত স্থানীয় নির্বাচনকে ঘিরেই মূলত পরিস্থিতির অবনতি শুরু হয়। এর আগে ৫ জুন তৃণমূলভিত্তিক সংগঠন ‘জম্মু কাশ্মীর জয়েন্ট আওয়ামি অ্যাকশন কমিটি’ বা জেকেজেএসিকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করে কর্তৃপক্ষ।

সংগঠনটি পাকিস্তান-শাসিত কাশ্মীরের আইনসভায় ভারত-শাসিত কাশ্মীরের শরণার্থীদের জন্য সংরক্ষিত ১২টি আসন বাতিলের দাবি জানিয়ে আসছিল। নিষেধাজ্ঞার পরপরই ইন্টারনেট সেবা বন্ধ করে দেওয়া হয় এবং বিক্ষোভ নিয়ন্ত্রণে কঠোর পদক্ষেপ নেয় কর্তৃপক্ষ।

পরবর্তীতে ২৭ জুলাই বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে পরিস্থিতি ভয়াবহ সংঘর্ষে রূপ নেয়। স্থানীয় বাসিন্দা ও বিভিন্ন স্থানীয় হিসাব অনুযায়ী, ওই সংঘর্ষে নিহতের সংখ্যা ৫০ ছাড়িয়েছে। নিহতদের মধ্যে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সাত সদস্যও রয়েছেন। তবে হতাহতের এই সংখ্যা স্বাধীন কোনো সূত্রে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

নির্বাচন ও রাজনৈতিক পরিস্থিতি

বিক্ষোভের পর পাকিস্তান-শাসিত কাশ্মীরে তিন ধাপে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। সর্বশেষ ধাপের ভোটগ্রহণ হয় গত ১০ আগস্ট। এর পর নতুন সরকার গঠিত হলেও ইন্টারনেট সেবা পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়নি।

নিরাপত্তাজনিত ঝুঁকির কারণে বিক্ষোভপ্রবণ কয়েকটি এলাকায় ভোটগ্রহণ করা সম্ভব হয়নি। তবে স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চলটির অন্যান্য এলাকার নির্বাচনী ফলাফলের ভিত্তিতেই বর্তমানে সরকার গঠন করা হয়েছে।

কাশ্মীর দীর্ঘদিন ধরে ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে বিরোধপূর্ণ একটি অঞ্চল। দুই দেশই পুরো কাশ্মীরের ওপর নিজেদের দাবি করে। পাকিস্তান-শাসিত কাশ্মীর আধা-স্বায়ত্তশাসিত ব্যবস্থায় পরিচালিত হয়। অঞ্চলটির নিজস্ব প্রধানমন্ত্রী ও ৪৫ সদস্যের আইনসভা রয়েছে। এর মধ্যে ১২টি আসন ভারত-শাসিত কাশ্মীর থেকে পাকিস্তানের অন্যান্য অঞ্চলে বসবাসকারী শরণার্থীদের জন্য সংরক্ষিত।

সূত্রঃ যুগান্তর

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রচার করা হবে না.