
অশ্রুসিক্ত বিদায়ে অবসরে প্রধান শিক্ষক, ঘোড়ার গাড়িতে ব্যতিক্রমী বিদায়
মিনহাজুর রহমান সানমুন
নড়িয়া, শরীয়তপুর:
দীর্ঘ শিক্ষকতা জীবনের অধ্যায়ের সমাপ্তি টেনে অবসরে গেলেন শরীয়তপুরের নড়িয়া উপজেলার ৭৪ নং কলারগাঁও সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জাহানারা বেগম। তাঁর বিদায় উপলক্ষে রোববার (১৪ জুন) বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে আয়োজন করা হয় এক হৃদয়স্পর্শী সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের।
অনুষ্ঠানে বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, অভিভাবক, সাবেক শিক্ষার্থীসহ এলাকার বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন। প্রিয় শিক্ষকের বিদায় উপলক্ষে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে সৃষ্টি হয় আবেগঘন পরিবেশ।
পবিত্র কোরআন তেলাওয়াতের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সূচনা হয়। পরে অতিথিরা বক্তব্যে জাহানারা বেগমের দীর্ঘ কর্মজীবনের নানা স্মৃতি তুলে ধরেন এবং শিক্ষা ক্ষেত্রে তাঁর অবদানের কথা শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন।
বক্তারা বলেন, একজন আদর্শ শিক্ষকের যে গুণাবলি থাকা প্রয়োজন, তার অনেকগুলোই জাহানারা বেগমের মধ্যে বিদ্যমান ছিল। তিনি নিষ্ঠা ও দায়িত্ববোধের সঙ্গে শিক্ষার্থীদের পাঠদানের পাশাপাশি নৈতিক মূল্যবোধ গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন। বিদ্যালয়ের সার্বিক উন্নয়নেও তাঁর অবদান ছিল উল্লেখযোগ্য।
একজন অভিভাবক তাঁর বক্তব্যে বলেন, “শুধু পাঠদান নয়, শিক্ষার্থীদের সুশিক্ষিত ও মানবিক মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে তিনি নিরলস কাজ করেছেন। তাঁর অবসর বিদ্যালয় পরিবারের জন্য বড় ধরনের শূন্যতা তৈরি করবে।”
বিদায়ী বক্তব্যে জাহানারা বেগম আবেগাপ্লুত কণ্ঠে বলেন, “শিক্ষকতা আমার কাছে পেশার চেয়ে অনেক বেশি কিছু। এই বিদ্যালয়, সহকর্মী ও শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কাটানো সময় আমার জীবনের সবচেয়ে মূল্যবান স্মৃতি হয়ে থাকবে। আপনাদের ভালোবাসা ও সহযোগিতা আমি কখনো ভুলব না।”
তিনি সকলের কাছে দোয়া কামনা করে বলেন, কর্মজীবনে কোনো অনিচ্ছাকৃত ভুল হয়ে থাকলে তা ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতে দেখার জন্য।
অনুষ্ঠানের শেষপর্বে তাঁকে ফুল, সম্মাননা স্মারক, ক্রেস্ট ও বিভিন্ন উপহার তুলে দেওয়া হয়। পরে বিদ্যালয়ের উদ্যোগে সুসজ্জিত ঘোড়ার গাড়িতে করে তাঁকে বিদায় জানানো হয়। এ সময় উপস্থিত অনেক শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবক আবেগ ধরে রাখতে পারেননি।
বিদ্যালয় থেকে তাঁর আনুষ্ঠানিক বিদায় হলেও শিক্ষার্থীদের স্মৃতিতে তিনি একজন স্নেহময় শিক্ষক ও আদর্শ অভিভাবক হিসেবেই বেঁচে থাকবেন বলে অনুষ্ঠানে উপস্থিত বক্তারা মত প্রকাশ করেন।