সবার কথা বলে

জিআই স্বীকৃতিতে বিশ্ববাজারে আরও শক্ত অবস্থান গড়বে বাংলাদেশের পাট: কৃষি সচিব

0 5

জিআই স্বীকৃতিতে বিশ্ববাজারে আরও শক্ত অবস্থান গড়বে বাংলাদেশের পাট: কৃষি সচিব

ডেস্ক রিপোর্টঃ

‘ফরিদপুরের পাট’ ভৌগোলিক নির্দেশক (জিআই) পণ্য হিসেবে স্বীকৃতি পাওয়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশের পাটের পরিচিতি ও ব্র্যান্ডমূল্য আরও বাড়বে বলে মন্তব্য করেছেন কৃষি মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. রফিকুল ই মোহামেদ।

বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা (বাসস)-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, বিশ্বজুড়ে পরিবেশবান্ধব ও প্রাকৃতিক তন্তুর চাহিদা বাড়ছে। এমন প্রেক্ষাপটে জিআই স্বীকৃতি বাংলাদেশের পাটের স্বকীয়তা তুলে ধরবে এবং বিশ্ববাজারে প্রতিযোগিতামূলক অবস্থান আরও শক্তিশালী করবে।

তিনি বলেন, পাট দেশের ইতিহাস, ঐতিহ্য ও অর্থনীতির গুরুত্বপূর্ণ অংশ। একসময় ‘সোনালি আঁশ’ দেশের বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের প্রধান উৎস ছিল। কৃত্রিম তন্তুর প্রসারে পাটের চাহিদা কমে গেলেও বর্তমানে জলবায়ু পরিবর্তন, প্লাস্টিক দূষণ এবং পরিবেশবান্ধব পণ্যের প্রতি আগ্রহ বৃদ্ধির কারণে আবারও পাটের সম্ভাবনা উজ্জ্বল হয়ে উঠেছে।

কৃষি সচিব জানান, বর্তমানে বাংলাদেশ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ২৮২ ধরনের পণ্য রপ্তানি করছে। এর মধ্যে পাট ও পাটজাত পণ্য এখনও রপ্তানি আয়ের অন্যতম প্রধান খাত। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে এ খাত থেকে ৮২০ দশমিক ১৬ মিলিয়ন মার্কিন ডলার আয় হয়েছে।

তিনি বলেন, পরিবেশবান্ধব ও বায়োডিগ্রেডেবল তন্তু হিসেবে পাটের বৈশ্বিক চাহিদা দ্রুত বাড়ছে। এই সুযোগ কাজে লাগাতে সরকার পাটকে কৃষিপণ্য হিসেবে ঘোষণা করেছে এবং উৎপাদন, গবেষণা, প্রক্রিয়াজাতকরণ ও বহুমুখী ব্যবহার বাড়াতে নানা উদ্যোগ নিয়েছে। পাশাপাশি ১৭টি পণ্যের মোড়কে বাধ্যতামূলকভাবে পাটজাত মোড়ক ব্যবহারের আইন কার্যকর রয়েছে এবং চাষিদের জন্য প্রণোদনা ও ভর্তুকি দেওয়া হচ্ছে।

ড. রফিকুল ই মোহামেদ জানান, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে প্রায় ৬ লাখ ৯২ হাজার হেক্টর জমিতে পাটের চাষ হয়েছে। এতে উৎপাদিত হয়েছে প্রায় ১৪ লাখ ২৭ হাজার মেট্রিক টন কাঁচাপাট। উন্নতমানের এই পাটকে সঠিকভাবে আন্তর্জাতিক বাজারে ব্র্যান্ডিং করা গেলে দেশের রপ্তানি আয় আরও বাড়বে।

তিনি বলেন, বাংলাদেশ পাট গবেষণা ইনস্টিটিউটের (বিজেআরআই) উদ্যোগে ‘ফরিদপুরের পাট’-এর জিআই স্বীকৃতি অর্জন একটি গুরুত্বপূর্ণ সাফল্য। এর ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশের পাটের স্বাতন্ত্র্য প্রতিষ্ঠিত হবে এবং নকল বা ভেজাল পণ্যের বিরুদ্ধে আইনি সুরক্ষাও জোরদার হবে।

কৃষি সচিবের ভাষ্য, জিআই স্বীকৃতি শুধু একটি সনদ নয়; এটি একটি অর্থনৈতিক পরিচয়। এর মাধ্যমে নির্দিষ্ট অঞ্চলের পণ্যের গুণগত মান ও ঐতিহ্য আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি পায়, যা কৃষকের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করার পাশাপাশি উদ্যোক্তাদের নতুন বাজারে প্রবেশের সুযোগ সৃষ্টি করে।

তিনি আরও বলেন, সরকার পাটখাতের উন্নয়নে বহুমুখী কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে। পাটজাত পণ্যের ব্যবহার বাড়াতে সরকারি প্রতিষ্ঠানে জুটন কাপড় এবং শিক্ষার্থীদের জন্য পাটের সুতা দিয়ে তৈরি স্কুলব্যাগ ব্যবহারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এছাড়া গবেষণা, উদ্ভাবন ও শিল্পায়নের মাধ্যমে পাটের বহুমুখী ব্যবহার সম্প্রসারণেও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

ড. রফিকুল ই মোহামেদ বলেন, সবুজ অর্থনীতি গঠনে পাট গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। তাই কৃষি গবেষণা, আধুনিক প্রযুক্তি, জলবায়ু সহনশীল জাত উদ্ভাবন এবং কৃষিপণ্যের রপ্তানি বাড়াতে সরকার সমন্বিতভাবে কাজ করছে।

সূএঃ বাসস

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রচার করা হবে না.