
বেদে নারীদের স্বাস্থ্যঝুঁকি কমাতে
বাড়াতে হবে সচেতনতা
ডেস্ক রিপোর্টঃ
দেশের প্রান্তিক জনগোষ্ঠীগুলোর মধ্যে বেদে সমাজ অন্যতম। নিজস্ব সংস্কৃতি ও জীবনযাপন থাকলেও এই জনগোষ্ঠীর নারীরা স্বাস্থ্যসেবার ক্ষেত্রে নানা সীমাবদ্ধতার মুখোমুখি। বিশেষ করে মাতৃত্বকালীন সেবা, নিরাপদ প্রসব, মাসিক স্বাস্থ্যবিধি ও পরিচ্ছন্নতা বিষয়ে তাদের মধ্যে সচেতনতার ঘাটতি রয়েছে।
বেদে সমাজে অনেক মেয়ের বিয়ে অল্প বয়সেই হয়ে যায়। অল্প বয়সে সন্তান ধারণের কারণে অনেক নারী অপুষ্টি ও নানা শারীরিক জটিলতার ঝুঁকিতে পড়েন। সন্তান প্রসবের ক্ষেত্রেও তারা অনেক সময় সরকারি হাসপাতালের পরিবর্তে নিজেদের সম্প্রদায়ের ধাত্রীদের ওপর নির্ভর করেন।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বেদে নারীদের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় নিয়মিত সচেতনতামূলক কার্যক্রমের পাশাপাশি প্রয়োজন চিকিৎসা ও প্রশিক্ষণের সুযোগ তৈরি করা। বিশেষ করে কিশোরীদের মাসিককালীন পরিচ্ছন্নতা, গর্ভকালীন যত্ন, নিরাপদ প্রসব এবং নবজাতকের পরিচর্যা বিষয়ে তাদের প্রশিক্ষিত করা জরুরি।
বেদে পল্লিগুলোতে নিয়মিত মেডিকেল ক্যাম্প আয়োজনের মাধ্যমে প্রাথমিক চিকিৎসা, মাতৃস্বাস্থ্য পরীক্ষা ও প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেওয়া যেতে পারে। একই সঙ্গে সরকারি হাসপাতালগুলোতে তাদের জন্য সহজ ও বৈষম্যহীন চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
বেদে জনগোষ্ঠীর নারীরা পরিবারের পাশাপাশি জীবিকা নির্বাহেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। তাই তাদের সুস্থতা নিশ্চিত করা শুধু একটি জনগোষ্ঠীর স্বাস্থ্য সুরক্ষার বিষয় নয়; বরং দেশের সামগ্রিক জনস্বাস্থ্য ব্যবস্থার অংশ।
প্রান্তিক এই জনগোষ্ঠীর স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি সামাজিক সচেতনতা বাড়ানোও জরুরি। নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা, চিকিৎসা ক্যাম্প এবং নারীদের স্বাস্থ্যবিষয়ক প্রশিক্ষণ চালু করা গেলে বেদে নারীদের স্বাস্থ্যঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো সম্ভব।
সূত্রঃ বাসস