
উপজেলা নির্বাচনে পোস্টার-মিছিল নিষিদ্ধ, এআই অপপ্রচারেও কঠোর বিধিনিষেধ
ডেস্ক রিপোর্টঃ
আসন্ন উপজেলা পরিষদ নির্বাচন সামনে রেখে নতুন নির্বাচনী আচরণবিধি জারি করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। নতুন বিধিমালায় পোস্টার ব্যবহার, প্রকাশ্য মিছিল-শোডাউন ও নির্বাচনী প্রচারে হেলিকপ্টার ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে সরকারি সুযোগ-সুবিধা ব্যবহার এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই দিয়ে বিভ্রান্তিকর ও বিদ্বেষপূর্ণ কনটেন্ট প্রচারের ওপরও কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে।
৩ সেপ্টেম্বর ইসির সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদের স্বাক্ষরের পর বিধিমালাটি গেজেট আকারে প্রকাশ করা হয়।
নতুন নিয়ম অনুযায়ী, তফসিল ঘোষণার পর থেকে নির্বাচনের ফলাফল গেজেট আকারে প্রকাশ না হওয়া পর্যন্ত কোনো প্রার্থী প্রকাশ্য মিছিল বা শোডাউন করতে পারবেন না। ট্রাক, বাস, মোটরসাইকেল, নৌযান কিংবা ট্রেন ব্যবহার করেও প্রচারণামূলক মিছিল করা যাবে না।
নির্বাচনী প্রচারে পোস্টার ব্যবহারের ওপরও সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে। ভবন, দেয়াল, গাছ, বেড়া, বিদ্যুতের খুঁটি, সরকারি স্থাপনা, সেতু ও কালভার্টসহ বিভিন্ন স্থানে প্রচারসামগ্রী ব্যবহারের ক্ষেত্রেও বিধিনিষেধ থাকবে।
তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে প্রচারণার সুযোগ রাখা হয়েছে। এ ধরনের প্রচারণা শুরুর আগে কোন কোন মাধ্যম ব্যবহার করা হবে, সে বিষয়ে রিটার্নিং কর্মকর্তাকে জানাতে হবে। ডিজিটাল প্রচারণায় ব্যয় হওয়া অর্থও নির্বাচনী ব্যয়ের হিসাবের অন্তর্ভুক্ত হবে।
এআই ব্যবহার করে মিথ্যা, বিভ্রান্তিকর, বিদ্বেষপূর্ণ বা ব্যক্তিগত আক্রমণমূলক বক্তব্য কিংবা এমন কোনো কনটেন্ট প্রচার করা যাবে না, যা নির্বাচনী পরিবেশকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে।
ভোটারদের প্রভাবিত করতে অর্থ, খাবার, পানীয় বা উপহার দেওয়াও নিষিদ্ধ করা হয়েছে। ধর্মীয় উপাসনালয়, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও সরকারি অফিসে নির্বাচনী প্রচারণা চালানো যাবে না। ধর্মের অপব্যবহার, পেশিশক্তির ব্যবহার এবং প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর বিরুদ্ধে কুৎসা বা চরিত্রহননমূলক প্রচারণাও নিষিদ্ধ থাকবে।
সরকারি যানবাহন, প্রচারযন্ত্র কিংবা অন্য কোনো সরকারি সম্পদ ব্যবহার করে নির্বাচনী প্রচারণা চালানো যাবে না। সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী ও গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের প্রচারণায় অংশ নেওয়ার ক্ষেত্রেও বিধিনিষেধ থাকবে।
আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ প্রমাণিত হলে প্রার্থিতা বাতিলের সুযোগ রাখা হয়েছে। এছাড়া বিধিমালা ভঙ্গের জন্য সর্বোচ্চ ছয় মাসের কারাদণ্ড, ৫০ হাজার টাকা জরিমানা অথবা উভয় দণ্ডের বিধান রয়েছে।
নতুন বিধিমালার মাধ্যমে নির্বাচনী ব্যয়সীমা লঙ্ঘন, অর্থ বা পেশিশক্তি দিয়ে ভোটারদের প্রভাবিত করা এবং সরকারি সুবিধা ব্যবহারের মতো বিষয়গুলোকে শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে বিবেচনা করা হবে।
ইসির দাবি, উপজেলা পরিষদ নির্বাচনকে অবাধ, সুষ্ঠু ও প্রতিযোগিতামূলক করার পাশাপাশি প্রার্থীদের জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করাই নতুন আচরণবিধির মূল উদ্দেশ্য।
সূত্রঃ বাসস