ইরান ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্রের দ্বিমুখী অবস্থান, জ্বালানি সরবরাহের প্রস্তাবের পাশাপাশি হামলার প্রস্তুতি

ইরান ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্রের দ্বিমুখী অবস্থান, জ্বালানি সরবরাহের প্রস্তাবের পাশাপাশি হামলার প্রস্তুতি
ডেস্ক রিপোর্টঃ
ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থানে একদিকে কূটনৈতিক প্রস্তাব, অন্যদিকে সামরিক প্রস্তুতির চিত্র দেখা যাচ্ছে। পারমাণবিক ইস্যুর স্থায়ী সমাধান হলে ইরানের বেসামরিক খাতে ব্যবহারের জন্য পারমাণবিক জ্বালানি সরবরাহে প্রস্তুত থাকার কথা জানিয়েছেন মার্কিন জ্বালানি মন্ত্রী ক্রিস রাইট।
সম্প্রতি ব্লুমবার্গকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এ প্রস্তাব দেন। লন্ডনভিত্তিক মধ্যপ্রাচ্যবিষয়ক সংবাদমাধ্যম মিডল ইস্ট মনিটরও বিষয়টি জানিয়েছে।
ক্রিস রাইটের ভাষ্য, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির প্রকৃত উদ্দেশ্য গোপনে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করা। তবে তেহরান শুরু থেকেই এ অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে আসছে। ইরানের দাবি, পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির কোনো পরিকল্পনা বা প্রচেষ্টা তাদের নেই।
মার্কিন জ্বালানি মন্ত্রী মনে করেন, বিরোধের স্থায়ী সমাধান হলে ইরান আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সঙ্গে আবারও স্বাভাবিকভাবে যুক্ত হতে পারবে। এতে দেশটির জনগণের জন্য শান্তি ও অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির সুযোগ তৈরি হবে বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি।
তবে কূটনৈতিক উদ্যোগের পাশাপাশি ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপের বিষয়টিও জোরালোভাবে সামনে এসেছে। সিএনএনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরানের ভূগর্ভস্থ পারমাণবিক স্থাপনাগুলোতে ‘নির্ণায়ক হামলা’ চালানোর পরিকল্পনা যুক্তরাষ্ট্র গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করছে।
বিশেষ করে নাতাঞ্জ পারমাণবিক কমপ্লেক্সের আশপাশে চলতি বছর নতুন নির্মাণকাজ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যাওয়ার তথ্য শনাক্ত হওয়ার পর এ পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়। তেহরান থেকে প্রায় ১৪০ মাইল দক্ষিণে অবস্থিত এই নাতাঞ্জ কমপ্লেক্স ইরানের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পারমাণবিক স্থাপনাগুলোর একটি।
এর মধ্যেই ইরানের বিরুদ্ধে আরও কঠোর সামরিক পদক্ষেপের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। গত সপ্তাহে তিনি বলেন, ইরানকে ফের সামরিক অভিযানের মুখে পড়তে হলে আগের তুলনায় অনেক বেশি বোমা হামলা চালানো হবে। এমন হামলার পর দেশটির পক্ষে ঘুরে দাঁড়ানো কঠিন হবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
ট্রাম্পের বক্তব্যে পিকঅ্যাক্স মাউন্টেন এলাকাটিও বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে। নাতাঞ্জের কাছাকাছি এই এলাকায় নতুন করে সন্দেহজনক তৎপরতা ও মানুষের চলাচল শনাক্ত হওয়ার পর হামলার সম্ভাবনার কথা জানান তিনি। সাংবাদিকদের ট্রাম্প বলেন, খুব শিগগিরই পিকঅ্যাক্সে হামলা চালানো হতে পারে।
সব মিলিয়ে ইরানকে বেসামরিক পারমাণবিক ব্যবহারের জন্য জ্বালানি দেওয়ার প্রস্তাবের পাশাপাশি দেশটির পারমাণবিক স্থাপনায় সামরিক হামলার প্রস্তুতিও নিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। ফলে তেহরান-ওয়াশিংটন সম্পর্কের উত্তেজনা আরও জটিল হয়ে উঠেছে।
সূত্রঃ যুগান্তর