
চট্টগ্রামের বন্যাদুর্গত পাঁচ জেলায় কৃষকদের জন্য বীজ, পশুর টিকা ও গোখাদ্য সহায়তা দেবে সরকার
ডেস্ক রিপোর্টঃ
মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ এবং কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশীদ জানিয়েছেন, চট্টগ্রামের বন্যাকবলিত পাঁচ জেলার ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের পুনর্বাসনে সরকার ৩২৭ মেট্রিক টন ধানবীজ, ১ লাখ ৫১ হাজার ৫৯৯টি গবাদিপশুর টিকাদান এবং ৩৫ লাখ টাকার গোখাদ্য বিতরণের উদ্যোগ নিয়েছে।
বৃহস্পতিবার রাতে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে সাম্প্রতিক বন্যায় কৃষি, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাতের ক্ষয়ক্ষতি এবং পরবর্তী করণীয় বিষয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব তথ্য জানান।
মন্ত্রী বলেন, প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী বন্যায় মৎস্য খাতে ২০০ কোটির বেশি এবং প্রাণিসম্পদ খাতে প্রায় ৭৭ কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে। ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণাঙ্গ চিত্র জানতে মাঠপর্যায়ে তথ্য সংগ্রহ অব্যাহত রয়েছে।
তিনি জানান, বন্যায় বিপুল পরিমাণ বীজতলা নষ্ট হওয়ায় ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের জন্য পর্যাপ্ত ধানবীজ সংরক্ষণ করা হয়েছে। যেসব জমি ইতোমধ্যে চাষের উপযোগী হয়েছে, সেখানে দ্রুত বীজ সরবরাহ করা হবে। আর যেসব জমি এখনও প্রস্তুত নয়, সেসব কৃষকের জন্য সরকারি খালি জমিতে জরুরি ভিত্তিতে বীজতলা তৈরি করা হচ্ছে। আগামী ১৫ দিনের মধ্যে সেখান থেকে ধানের চারা বিতরণ করা হবে।
গবাদিপশুকে রোগবালাই থেকে সুরক্ষিত রাখতে শুক্রবার থেকেই টিকাদান কার্যক্রম শুরু হবে বলে জানান মন্ত্রী। আগামী ১৫ দিনের মধ্যে নির্ধারিত ১ লাখ ৫১ হাজার ৫৯৯টি পশুকে টিকার আওতায় আনার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
এ ছাড়া বন্যায় নষ্ট হওয়া পশুখাদ্যের ঘাটতি মোকাবিলায় ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় প্রাথমিকভাবে ৩৫ লাখ টাকার গোখাদ্য বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। ক্ষতির মাত্রা বিবেচনায় অগ্রাধিকার ভিত্তিতে এসব সহায়তা বিতরণ করা হবে এবং প্রয়োজন হলে আরও বরাদ্দ দেওয়া হবে।
মন্ত্রী আরও বলেন, ইউনিয়নভিত্তিক ক্ষয়ক্ষতির তথ্যের ভিত্তিতে সহায়তা কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে, যাতে কোনো ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক, মৎস্যচাষি বা খামারি সরকারি সহযোগিতা থেকে বাদ না পড়েন।
সূএঃ বাসস