সবার কথা বলে

আজ ‘জুলাই গণ-অভ্যুত্থান’ দিবস, দেশজুড়ে নানা আয়োজন

0 2

আজ ‘জুলাই গণ-অভ্যুত্থান’ দিবস, দেশজুড়ে নানা আয়োজন

ডেস্ক রিপোর্টঃ

আজ ৫ আগস্ট, ‘জুলাই গণ-অভ্যুত্থান’ দিবস। জুলাই বিপ্লবীদের কাছে দিনটি পরিচিত ‘৩৬ জুলাই’ নামে। দুই বছর আগে এদিন ছাত্র-জনতার আন্দোলনের মধ্য দিয়ে দীর্ঘ দেড় দশকের স্বৈরশাসনের অবসান ঘটে। সেই আন্দোলনে প্রাণ হারানো শহীদদের আত্মত্যাগ ও গণঅভ্যুত্থানের স্মৃতি আজ নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে স্মরণ করছে দেশ।

দিবসটি উপলক্ষে আজ সরকারি ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। পাশাপাশি দেশজুড়ে পুষ্পস্তবক অর্পণ, শহীদ পরিবারের সদস্যদের সংবর্ধনা, আলোচনা সভা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান এবং বিভিন্ন স্মরণমূলক কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সকালে জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘরের উদ্বোধন করবেন। আগামীকাল বৃহস্পতিবার থেকে সাধারণ মানুষের জন্য জাদুঘরটি উন্মুক্ত করে দেওয়া হবে।

জুলাইয়ের আন্দোলনকে বিভিন্ন মহল ভিন্ন ভিন্ন নামে উল্লেখ করে। কেউ একে ‘জুলাই গণ-অভ্যুত্থান’, কেউ ‘বর্ষা বিপ্লব’ আবার কেউ ‘দুনিয়া কাঁপানো জুলাই বিপ্লব’ হিসেবে বর্ণনা করেন। বিশিষ্টজনদের মতে, মুক্তিযুদ্ধের পর বাংলাদেশে এত ব্যাপক জনসম্পৃক্ততা ও বড় রাজনৈতিক পরিবর্তন খুব কমই দেখা গেছে। বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের অংশগ্রহণ এবং বহু মানুষের আত্মত্যাগের মধ্য দিয়ে আন্দোলনটি দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হয়ে উঠেছে।

দিবসটি উপলক্ষে পৃথক বাণী দিয়েছেন ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীরবিক্রম ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি শহীদ ও আহতদের আত্মত্যাগের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে বৈষম্যহীন, মানবিক, গণতান্ত্রিক ও জবাবদিহিমূলক বাংলাদেশ গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের চেতনায় সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে ন্যায়ভিত্তিক ও সমৃদ্ধ দেশ নির্মাণে কাজ করতে হবে।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তাঁর বাণীতে বলেন, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের গণঅভ্যুত্থান ছিল দীর্ঘদিনের ফ্যাসিবাদী শাসনের অবসান এবং জনগণের গণতান্ত্রিক অধিকার পুনঃপ্রতিষ্ঠার ঐতিহাসিক ঘটনা। তিনি এই অর্জনের কৃতিত্ব ছাত্র-জনতাকে দিয়ে বলেন, বিপুল আত্মত্যাগের মধ্য দিয়ে গড়ে ওঠা জাতীয় ঐক্য রক্ষা করা জরুরি। দেশে যেন ভবিষ্যতে স্বৈরাচার, ফ্যাসিবাদ, চরমপন্থা কিংবা উগ্রবাদের পুনরুত্থান না ঘটে, সে বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান তিনি।

মুক্তিযুদ্ধ থেকে শুরু করে দেশের বিভিন্ন আন্দোলন-সংগ্রামে আত্মত্যাগকারীদের শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, শহীদ পরিবারগুলোর প্রতি দেশের দায় রয়েছে। তাঁদের স্বপ্ন ও প্রত্যাশা বাস্তবায়নের মাধ্যমে সেই দায় পালনের আহ্বান জানান তিনি।

এদিকে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে স্বজন হারানো বহু পরিবার এখনও শোক ও বেদনা বহন করছে। শহীদদের আত্মত্যাগের বিনিময়ে যে বৈষম্যহীন ও সুন্দর বাংলাদেশের প্রত্যাশা তৈরি হয়েছিল, তা কতটা বাস্তবায়িত হয়েছে—দিবসটি ঘিরে সেই প্রশ্নও সামনে এসেছে।

জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমান জুলাই যোদ্ধাদের ওপর হামলার ঘটনার সমালোচনা করে আন্দোলনের চেতনা বাস্তবায়নে সবাইকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে ভূমিকা রাখার আহ্বান জানিয়েছেন। অন্যদিকে বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির সভাপতি কাজী সাজ্জাদ জহির চন্দন বলেছেন, শহীদদের আত্মত্যাগকে অর্থবহ করতে দেশকে সাম্প্রদায়িকতা, শোষণ ও বৈষম্যমুক্ত করতে হবে। গণতান্ত্রিক সমাজ ও রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা না হওয়া পর্যন্ত জুলাইয়ের আন্দোলনের লক্ষ্য পূর্ণ হবে না বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

দিবসের কর্মসূচির অংশ হিসেবে দেশের ৬৪ জেলায় জুলাই শহীদ স্মৃতিস্তম্ভে শ্রদ্ধা নিবেদন করা হবে। বেলা ১১টায় বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে শহীদ পরিবার ও জুলাই যোদ্ধাদের সংবর্ধনা এবং আলোচনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। দেশের বিভিন্ন জেলাতেও অনুরূপ কর্মসূচি পালিত হবে।

ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন সিটি করপোরেশনের গুরুত্বপূর্ণ স্থানে জুলাই আন্দোলনের আলোকচিত্র ও প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন করা হবে। বাংলাদেশ টেলিভিশন, বেতার ও বিভিন্ন বেসরকারি সম্প্রচারমাধ্যমে প্রচার করা হবে বিশেষ অনুষ্ঠান। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে আলোচনা সভার পাশাপাশি রচনা, আবৃত্তি ও চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতার আয়োজন থাকবে। বিদেশে বাংলাদেশ দূতাবাসগুলোতেও দিবসটি উপলক্ষে বিভিন্ন কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে।

এ ছাড়া দেশের বিভিন্ন ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে বিশেষ দোয়া ও প্রার্থনার আয়োজন করা হবে। গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও সড়কদ্বীপ জাতীয় পতাকা, ব্যানার ও ফেস্টুন দিয়ে সাজানো হবে। দিবসটি উপলক্ষে স্মারক ডাকটিকিট প্রকাশেরও উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

সরকারি ও বেসরকারি বিভিন্ন জাদুঘর আজ সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত বিনা মূল্যে জনসাধারণের জন্য খোলা থাকবে। শিশুদের জন্য সরকারি-বেসরকারি বিনোদনকেন্দ্রগুলোও বিনা টিকিটে ব্যবহারের সুযোগ রাখা হয়েছে। সরকারি হাসপাতাল, কারাগার, শিশু পরিবার, পুনর্বাসন কেন্দ্র, প্রতিবন্ধী কল্যাণ কেন্দ্রসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে বিশেষ খাবারের আয়োজন করা হবে।

এদিকে রাজধানীর মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ে বিকাল সাড়ে ৩টা থেকে ‘বর্ষা বিপ্লবের গান’ শিরোনামে কনসার্ট অনুষ্ঠিত হবে। মুনসুন কালচারাল অ্যালায়েন্সের আয়োজনে এতে বিভিন্ন ব্যান্ড ও একক শিল্পীরা সংগীত পরিবেশন করবেন।

জুলাই গণঅভ্যুত্থান উপলক্ষে রাজধানীর পল্টনে সমাবেশ করবে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। কেন্দ্রীয় কর্মসূচির সঙ্গে মিল রেখে দেশের বিভিন্ন স্থানেও দলটির সমাবেশ ও মিছিল অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। অন্যদিকে গণতান্ত্রিক যুক্তফ্রন্ট এবং বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির উদ্যোগে পৃথক আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়েছে।

সূত্রঃ যুগান্তর

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রচার করা হবে না.