সবার কথা বলে

জামায়াতের জুলাই অভ্যুত্থান অনুষ্ঠানে বিএনপির হা’মলা, ভিডিও ধারণ করার সাংবাদিককে মা রধর

0 4

জামায়াতের জুলাই অভ্যুত্থান অনুষ্ঠানে বিএনপির হামলা, ভিডিও ধারণ করার সাংবাদিককে মারধর।

জাজিরা শরীয়তপুর প্রতিনিধি – সংবাদের পাতা:

শরীয়তপুরের জাজিরায় জুলাই অভ্যুত্থান উপলক্ষে আয়োজিত জামায়াতের কর্মসূচিতে বিএনপির নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে হামলার অভিযোগ উঠেছে। এসময় সেই হামলার ভিডিও ধারণ করলে স্থানীয় এক সাংবাদিককে মারধর করে বিএনপি ও তার সহযোগী অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা। মারধরের ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে জেলার সাংবাদিকদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।

বুধবার (৫ আগস্ট) বিকালে উপজেলা মডেল মসজিদ প্রাঙ্গণে এ ঘটনা ঘটে।

প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বুধবার বিকালে জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষে উপজেলা মডেল মসজিদে গণমিছিল ও আলোচনা কর্মসূচির আয়োজন করে জাজিরা উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর নেতাকর্মীরা। একই সময়ে কাছাকাছি স্থান টিএন্ডটি মোড় এলাকায় পাল্টা কর্মসূচি পালন করে বিএনপি ও তার সহযোগী অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা। জামায়াত তাদের গনমিছিলের শুরুতে নেতাকর্মীদের জন্য অপেক্ষাকালে বিএনপি ও তার সহযোগী অঙ্গসংগঠনের কিছু নেতাকর্মী হঠাৎ করেই মডেল মসজিদ এলাকায় প্রবেশ করে জামায়াতের নেতাকর্মীদের ওপর হামলা চালায় বলে অভিযোগ ওঠে। এ সময় ঘটনাস্থলে উপস্থিত থেকে সেই হামলার ভিডিও ধারণ করছিলেন বিজয় টিভির জাজিরা প্রতিনিধি জুয়েল মিয়া। একপর্যায়ে বিষয়টি দেখতে পেলে তার উপর চড়াও হয়ে হামলা চালায় হামলাকারীরা। পরে স্থানীয় লোকজন তাকে উদ্ধার করে জাজিরা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসার জন্য ভর্তি করেন।

এ ব্যাপারে শরীয়তপুরে জেলা জামায়াতে আমির মুহাঃ আব্দুর রব হাসেমী বলেন, আমরা প্রশাসনের অনুমতি নিয়েই মডেল মসজিদ এলাকায় জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষে আনুষ্ঠানের আয়োজন করি। বিএনপিও তাদের নির্ধারিত জায়গায় অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। আমরা যখন গণ মিছিলের জন্য মসজিদের সামনে আমাদের নেতা কর্মীদের জন্য অপেক্ষা করছিলাম। হঠাৎ করেই বিএনপির লোকজন এসে আমাদের নেতা কর্মীদের উপর লাঠিসোঁটা নিয়ে হামলা চালায়। হামলায় আমাদের বেশ কয়েকজন নেতাকর্মী আহত হয়েছে। বিএনপি যেটা করেছে সেটা অন্যায়, এটা আওয়ামী ফ্যাসিবাদের পুনরুত্থান। আজকের হামলার নেপথ্যে ছিলো পৌরসভা বিএনপি সাধারণ সম্পাদক কামরুজ্জামান মিলন। আমরা এই ঘটনায় মামলা করার প্রস্তুতি নিচ্ছি।

ভুক্তভোগী বিজয় টিভির সাংবাদিক জুয়েল মিয়া বলেন, আমি পেশাগত দায়িত্ব পালন করছিলাম। হঠাৎ করে কিছু লোকজন মডেল মসজিদ এলাকায় এসে ঝামেলা তৈরি করে ও হামলা চালায়। আমি সেই হামলার ভিডিও ধারণ করার সময় কয়েকজন হামলাকারী আমাকে লক্ষ্য করে হামলা চালায় এবং মারধর করে। আমি এই ঘটনার বিচার দাবি করছি।

এদিকে হামলার অভিযোগ অস্বীকার করে পৌরসভা বিএনপি সাধারণ সম্পাদক কামরুজ্জামান মিলন বলেন, আমি মিছিলের সামনের সারিতে ছিলাম। আমি জামায়াতে অনুষ্ঠানে হামলা চালাইনি, চাইলে আপনার সেখানে থাকা সিসিটিভি ফুটেজ দেখতে পারেন। কে বা কারা এ হামলা চালিয়েছে আমি সঠিক বলতে পারি না।

এ বিষয়ে জাজিরা উপজেলা বিএনপির সভাপতি বজলুর রশিদ শিকদার বলেন, “আজ উপজেলা চত্বরে গিয়েছিলাম। সেখানে জামায়াতের সঙ্গে কথাকাটাকাটির জেরে সামান্য ঝামেলা হয়েছে। ওই সময় হয়তো সাংবাদিক জুয়েল কিছু ছবি বা ভিডিও ধারণ করেছেন। এদিকে সাংবাদিক জুয়েল অনেক প্রতিবেদন করেন। সেগুলো কারও পক্ষে, আবার কারও বিপক্ষে গেছে। হয়তো সে কারণেও কোনো ঘটনা ঘটতে পারে। তবে হামলার ঘটনায় আমাদের দলের কেউ জড়িত থাকলে, দলীয়ভাবে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেব।”

এ ব্যাপারে জেলা প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক ও চ্যানেল টুয়েন্টি ফোর টেলিভিশনের স্টাফ রিপোর্টার নুরুল আমীন রবিন বলেন, জাজিরা উপজেলায় পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে বিজয় টিভির জাজিরা প্রতিনিধি সাংবাদিক জুয়েল মিয়ার ওপর হামলা ও মারধরের অভিযোগ গভীর উদ্বেগের সঙ্গে জেনেছি। একজন সাংবাদিক যখন জনস্বার্থে তথ্য সংগ্রহ ও ভিডিও ধারণের দায়িত্ব পালন করেন, তখন তার ওপর হামলা শুধু একজন ব্যক্তির ওপর আক্রমণ নয় এটি সংবাদপত্রের স্বাধীনতা, গণমাধ্যমের স্বাধীনতা এবং জনগণের তথ্য জানার সাংবিধানিক অধিকারের ওপর আঘাত। শরীয়তপুর প্রেসক্লাব এ ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছে। কোনো রাজনৈতিক পরিচয় বা মতাদর্শের আড়ালে সাংবাদিকদের ওপর হামলা, ভয়ভীতি প্রদর্শন কিংবা সংবাদ সংগ্রহে বাধা দেওয়ার অপচেষ্টা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। আমরা সংশ্লিষ্ট আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রতি অবিলম্বে ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত, হামলার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা এবং সাংবাদিকদের নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করার জোর দাবি জানাচ্ছি।

এ ব্যাপারে জাজিরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সালেহ আহম্মেদ বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে দুপক্ষের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটেছে। পাশাপাশি একজন গণমাধ্যম কর্মীকে মারধর করেছে বলে জানতে পেরেছি। আমি হাসপাতালে পুলিশ পাঠিয়েছি। এ ঘটনায় কার কাছে থেকে কোন লিখিত অভিযোগ এখন পর্যন্ত পাইনি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রচার করা হবে না.